Ajker Patrika

হুতিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কেড়ে নেওয়ার দাবি ইয়েমেনি বাহিনীর

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২২: ০৬
হুতিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কেড়ে নেওয়ার দাবি ইয়েমেনি বাহিনীর
সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অবস্থান এবং ধুবাব জেলা হুতিদের কাছ থেকে পুনর্দখলের দাবি করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী। একই সঙ্গে রাজধানী সানাকে লক্ষ্য করে ‘কৌশলগত অভিযান’ শুরু করার কথাও জানিয়েছে তারা।

আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) ইয়েমেনের সরকারি বার্তা সংস্থা সাবা নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সৌদি-সমর্থিত সামরিক বাহিনী জানায়, ‘হোমল্যান্ড শিল্ড ফোর্সেস’ ও ‘জায়ান্টস ব্রিগেড’ বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে ধুবাব জেলার বিভিন্ন এলাকায় হুতিদের অবস্থান ও গতিবিধিতে হামলা চালিয়েছে। অভিযানে বিমান সহায়তাও দেওয়া হয়।

ইয়েমেনি সামরিক বাহিনীর এক সূত্রের বরাতে আল-জাজিরা জানায়, অভিযানের সময় সরকারি বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অবস্থান দখলে নেয়। এতে হুতিদের সরবরাহ লাইন এবং বাব আল-মান্দেবের দিকে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সংঘর্ষে হুতিদের বেশ কয়েকজন যোদ্ধা নিহত ও অনেকে আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের সামরিক সরঞ্জামও।

সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, পুনর্দখল করা এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার এবং হুতিদের সরবরাহপথ বিচ্ছিন্ন করার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

এর কিছুক্ষণ পর সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি বলেন, ইয়েমেনি বাহিনীকে সহায়তা দিতে প্রায় ১০০টি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। বাব আল-মান্দেব প্রণালির আকাশপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং হুতিদের শত শত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

পরে ইয়েমেনি সরকার সানার দিকে ‘কৌশলগত অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দেয়। রাজধানীটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এসব যুদ্ধক্ষেত্রের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি আল-জাজিরা।

২০১৪ সালে হুতিরা সানা দখল করার পর ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরু হয়। ২০২২ সালে সরকার ও হুতিদের মধ্যে ঘোষিত সাময়িক যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর সংঘাত আবারও তীব্র হয়ে ওঠে। গত সেপ্টেম্বর হুতিরা পশ্চিম ইয়েমেনের কয়েকটি এলাকা, মোখা বন্দর এবং বাব আল-মান্দেবের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দ্বীপ দখল করে নেয়।

এদিকে রিয়াদে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে বৈঠকের জন্য পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। বৈঠকে ইয়েমেন সংকট গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের উদ্যোগে হুতিদের সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনাও বৈঠকে আলোচিত হতে পারে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, নতুন সামরিক অভিযান ইয়েমেনের বেসামরিক জনগণের দুর্ভোগ, বাস্তুচ্যুতি ও খাদ্যসংকট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত