Ajker Patrika

রাড্ডা ভাঙচুর-লুট: নেতা-কর্মীসহ ৪০ জনের তালিকা পুলিশের হাতে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
রাড্ডা ভাঙচুর-লুট: নেতা-কর্মীসহ ৪০ জনের তালিকা
পুলিশের হাতে
রাতের আঁধারে ভেঙে ফেলা হয় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের কার্যালয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় যাঁরা লোকজন ও ভারী যন্ত্রপাতি ভাড়া করতে অর্থায়ন করেছেন এবং ভাঙার নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন সংস্থা তদন্ত করে ঘটনায় জড়িত প্রায় ৪০ জনের একটি তালিকা করেছে। তালিকায় রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সমিতির সদস্যরাও রয়েছেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সেন্টারটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার শাহআলী থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়। ঘটনার পর থেকে মামলাটির তদন্ত করে শাহআলী থানার পুলিশ। গত শনিবার পর্যন্ত মামলায় মোট ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে থানার পুলিশ ও ডিবি পুলিশ। গতকাল রোববার মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ মিরপুর বিভাগকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত এ মামলায় আর কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় যাঁরা ভাড়া করা লোকজন হিসেবে কাজ করেছেন এবং যাঁদের কাছে লুট হওয়া মালামাল পাওয়া যাচ্ছে, শুধু তাঁদের গ্রেপ্তার না করে যাঁরা লুটপাট ও ভাঙচুরের আয়োজন, অর্থায়ন ও নির্দেশনা দিয়েছেন, তাঁদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের অনেকেই এখন পলাতক। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাই তদন্তে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের গ্রেপ্তার করা হবে। রাজনৈতিক দলের যে পর্যায়ের নেতা-কর্মীই হোক, তা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ২০ জনের মধ্যে অন্তত ৭ জন স্থানীয় বিএনপি, শ্রমিক দল, যুবদল, ছাত্রদলের নেতা-কর্মী। এ ছাড়া ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেডের সহসভাপতি, সম্পাদকসহ অন্তত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ডিবির মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খাঁন বলেন, মামলাটির তদন্ত ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে লুটপাট ও ভাঙচুরের এক দিন পর থেকেই সেন্টারের সামনে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। গতকালও সীমিত পরিসরে সেন্টারটিতে শিশু ও মায়েদের স্বাস্থ্যসেবার কাজ চলমান ছিল। সেন্টারটির কর্মকর্তারা জানান, গতকাল রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ১৩১ জনকে টিকাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে। সেন্টারের সংস্কারকাজ চলছে। পুরোদমে সেবা শুরু করতে আরও অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত