Ajker Patrika

৭ দিনের রোডম্যাপ প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, ফের আলোচনার পথে হাঁটতে চায় ইরান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ২৭
৭ দিনের রোডম্যাপ প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, ফের আলোচনার পথে হাঁটতে চায় ইরান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি । ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিপরীতে ইরানের প্রস্তাবিত ৭ দিনের রোডম্যাপ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যানের পর নতুন পথে এগুতে চাচ্ছে ইরান। দেশটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সমাধান কেবল কূটনীতির মাধ্যমেই সম্ভব।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘আমাদের শর্তগুলো পরিষ্কার। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার যে কোনো পদক্ষেপ এই শর্তগুলো পূরণের ওপর নির্ভর করছে। কেবল আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই তাদের এই অচলাবস্থা থেকে বের করে আনতে পারে।’

গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান একটি শান্তি প্রস্তাব দেয়। দেশটি জানিয়েছিল, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে শনিবার ট্রাম্প বলেন, তিনি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ খুলে দেওয়ার বিষয়ে দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ইরান মরিয়া হয়ে উঠেছে।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘তারা হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেওয়ার জন্য একটি চুক্তি করতে চায়, কারণ তারা খুব খারাপ অবস্থায় আছে।’

তবে ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্যের পরও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি মধ্যস্থতাকারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানকে জানায়নি বলে জানিয়েছেন আরাঘচি। তিনি বলেন, ‘মধ্যস্থতাকারীরা আমাদের কাছে চূড়ান্ত মতামত জানানো পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করছি। এরপর সেটির ভিত্তিতে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানি হামলা বন্ধ করতে তেহরানের ওপর চাপ তৈরিই এর উদ্দেশ্য। এসব হামলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। যদিও ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে।

ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের খবরটি প্রথম প্রকাশ করে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। নাম প্রকাশ না করা কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পত্রিকাটি এ খবর দেয়।প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ইরান ট্রাম্পের দাবিগুলো মেনে চলবে কি না, সে বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে সংশয় রয়েছে ট্রাম্পের। তিনি তাঁর কর্মকর্তাদের বলেছেন, নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও বোমা হামলা চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

এর আগে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছিলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে চলা আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান তার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে। সাত মাস ধরে চলা এই সংঘাতের গুরুত্ব এতে আরও স্পষ্ট হয়েছে। এই যুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ দিয়ে তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটিয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়েছে।

শুক্রবার জাতিসংঘে সাংবাদিকদের আরাঘচি বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তি হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য সাত দিনের সময় গণনা শুরু হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংঘাতেও সাময়িক বিরতি আসবে।

তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চুক্তিতে পৌঁছানো এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে যদি সত্যিই আন্তরিকতা থাকে, তাহলে এখন সব প্রস্তুত আছে।’

যুক্তরাষ্ট্র রাজি হলে সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলো পারস্পরিকভাবে সম্মত বিষয়গুলো নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা শুরু করতে পারবে বলেও জানান তিনি।

এর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হতে পারে। ট্রাম্প বলে আসছেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে দেওয়া যাবে না। তবে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শান্তি প্রস্তাব মেনে নিলেও পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে তেহরান কোনো ছাড় দেবে না।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কিংবা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর অধিকারসহ নিজেদের অধিকার নিয়ে ইরান কোনো ছাড় দেবে না।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সিবিএসের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসতে তেহরান প্রস্তুত। তবে ‘হুমকি বা জবরদস্তি’ মেনে নেবে না ইরান।

পেজেশকিয়ান বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ চায় না। তবে চাপ, হুমকি ও হামলার বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করবে।’ তিনি আরও বলেন, ইরান ইতিমধ্যে মেনে নিয়েছে যে তাদের ‘পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার কথা নয়’।

তবে আগেও কয়েকবার কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেসবও যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেনি। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে কখনো সাময়িক বিরতি এসেছে, আবার নতুন করে হামলা শুরু হয়েছে। এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজারো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে এবং আগে থেকেই সংকটে থাকা দেশটির অর্থনীতিও আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর জবাবে ইরান ও তার মিত্ররা সংঘাতকে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে দিয়েছে। ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইয়েমেনে ইরানের মিত্র হুতিরাও সৌদি আরবের বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন জোট শনিবার ভোরে জানিয়েছে, হুতিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও দুটি ড্রোন তারা প্রতিহত করেছে। এসব অস্ত্র সৌদি আরবের দিকে ছোড়া হয়েছিল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত