Ajker Patrika

মধ্যপ্রাচ্যের কোনো বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলতে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
মধ্যপ্রাচ্যের কোনো বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলতে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের
ইরানের মাহান এয়ারের একটি উড়োজাহাজ। ছবি: সংগৃহীত

ইরানি কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দেশটির বিমান পরিবহন শিল্পকে অচল করে দেওয়ার মার্কিন প্রচেষ্টায় যেসব আঞ্চলিক বিমানবন্দর সহযোগিতা করবে, তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সময়ে ইরানগামী ও ইরান থেকে পরিচালিত ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা বাড়ছে।

লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম আল আরব আল–জাদিদ বা নিউ আরবের খবরে বলা হয়েছে, ইরানি এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে লেনদেন অব্যাহত রাখলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ট্রাম্প প্রশাসন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার হুমকি দেওয়ার পর, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে একাধিক দেশ ইরানি এয়ারলাইন পরিচালিত ফ্লাইট স্থগিত করেছে।

এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘এই অঞ্চলের ফ্লাইট হয় সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, নয়তো কারও জন্যই থাকবে না।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘ইরানকে যদি আকাশপথে চলাচল এবং বিমানবন্দর সেবা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে এই অঞ্চলের কোনো দেশই সেই সুযোগ পাবে না।’

দেশটির জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজাইও গত বুধবার একই ধরনের হুমকি দেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি আমেরিকার পাশে দাঁড়ান, তাহলে আমরা শুধু বসে বসে দেখব না...আপনাদের (মধ্যপ্রাচ্যের) বিমানবন্দরগুলোতে কোনো ফ্লাইট চলতে দেওয়া হবে না।’

ইরানের অর্থনীতি ধ্বংস করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র চলতি মাসের শুরুতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইরান এয়ার এবং দেশটির বৃহত্তম এয়ারলাইন মাহানসহ ২৭টি ইরানি বিমান সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গত সপ্তাহে বলেন, ২৩ সেপ্টেম্বরের পরও যারা ইরানি এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে, তাদের ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। এর মধ্যে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও টিকিট বিক্রির মতো সেবা প্রদানকারী যেকোনো কোম্পানি এবং বিমানবন্দর পরিচালনাকারীরাও অন্তর্ভুক্ত।

এই ঘোষণার পর তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, আজারবাইজান ও জর্জিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইরানি এয়ারলাইন পরিচালিত ফ্লাইট স্থগিত করেছে। ইরানি ভ্রমণকারীদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য দেশ ইরাক আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানি এয়ারলাইন নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেয়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি কর্মকর্তারা এবং দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, পুরো ইরাকজুড়েই ইরান পরিচালিত রুটগুলো স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাহান ভারত ও মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ফ্লাইটও আর তালিকাভুক্ত করছিল না। তবে এই দুই দেশের কোনোটিই আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্লাইট স্থগিত করার ঘোষণা দেয়নি। অল্পসংখ্যক কয়েকটি দেশ এখনো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেনি, যার মধ্যে রয়েছে চীন। বেইজিং এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে এবং এগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ বলে অভিহিত করেছে।

মাহান এখনো রাশিয়া, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ফ্লাইটের তালিকা চালু রেখেছে। সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার আগেই ইরানি যাত্রীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যাপকভাবে সীমিত ছিল। তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট চলাচল কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং অনেক বড় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন ইরানে তাদের রুট স্থগিত করেছিল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত