Ajker Patrika

মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে হামলা ইরানের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে হামলা ইরানের
ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের হেডকোয়ার্টার। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন সামরিক হামলা চালানোর জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এই ঘটনায় গত মাসে হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি নতুন করে চাপে পড়েছে। এর আগে, হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে ইরানের তথাকথিত হামলার জবাবে দেশটিতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, আইআরজিসি আজ বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছ—বাহরাইনের বন্দর সালমান এলাকায় অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনা, মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ নেভাল ডিস্ট্রিক্ট এবং কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযানে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে।

বাহরাইন ও কুয়েতে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠেছিল। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তারা ‘শত্রু’র ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক ট্যাংকারে হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালিয়েছে এবং ইরানকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রির সুযোগ দেওয়া একটি সাধারণ লাইসেন্স বাতিল করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হামলায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের ৬০টিরও বেশি ছোট নৌযানসহ একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। সেন্টকমের ভাষ্য, নৌপরিবহনে হামলার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য ইরানকে বড় মূল্য দিতে বাধ্য করাই ছিল এই অভিযানের উদ্দেশ্য।

এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, ‘ইরানি বাহিনীর এই অযৌক্তিক আগ্রাসন যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট ও বিপজ্জনক লঙ্ঘন এবং এটি নৌ চলাচলের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করছে।’

ইরানের সশস্ত্রবাহিনীর কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর খাতামুল আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করে এর ‘হাড় হিম করা জবাব’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। তারা বলেছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হস্তক্ষেপ তেহরান মেনে নেবে না।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেন। তিনি সামরিক হামলার পাশাপাশি ইরানের ওপর পুনর্বহাল তেল নিষেধাজ্ঞা, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের "সমন্বয়মূলক ব্যবস্থা" লঙ্ঘন এবং লেবাননে ইসরায়েলের হামলার কথাও উল্লেখ করেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘বুলিং ও জোরপূর্বক আদায়ের যুগ শেষ। আমরা মাথা নত করব না।’

ইরানি গণমাধ্যম জানায়, দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ, কেশম দ্বীপ এবং দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক ও বন্দর আব্বাস এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রেস টিভির খবরে বলা হয়, খার্গ দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। যদিও সেন্টকম তাদের বিবৃতিতে খার্গ দ্বীপের উল্লেখ করেনি।

রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় কোনো বেসামরিক নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সিরিকে একটি বাণিজ্যিক জেটিতে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ছিটকে আসা ধাতব টুকরোয় কয়েকজন আহত হয়েছেন। সিরিক ও বন্দর আব্বাসের মাছ ধরার জেটিতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য ছিল ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়া। তবে গত সপ্তাহে কাতারে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। যুদ্ধবিরতির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ইরানের তেল বিক্রির সুযোগ করে দেওয়া সাধারণ লাইসেন্স প্রত্যাহার করে নেয়। জুনের ২২ তারিখে জারি করা ওই লাইসেন্সের আওতায় ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানি উৎসের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য বিক্রির অনুমতি ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট লেনদেন গুটিয়ে নিতে হবে।

এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে যুদ্ধ অবসানের কাঠামোগত সমঝোতা লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় তারা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।

আরও পড়ুন:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত