
মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পক্ষ থেকে একের পর এক স্ববিরোধী ও নাটকীয় ঘোষণা এসেছে। কখনো হরমুজ উন্মুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, আবার পরক্ষণেই অবরোধ ও কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণের ঘোষণায় পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠেছে।
ঘটনার শুরু শুক্রবার। গ্রিনিস মান সময় বেলা ১টায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ঘোষণা দেন, লেবানন যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময় পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য ‘পুরোপুরি উন্মুক্ত’ থাকবে।
এই ঘোষণার কয়েক মিনিটের মাথায় ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ইরানকে ধন্যবাদ জানান। তবে তিনি একটি বড় শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত লেনদেন ১০০ শতাংশ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ৪০টি দেশের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ঘোষণা করেন, অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়া মাত্রই নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় তাঁরা একটি আন্তর্জাতিক মিশনের নেতৃত্ব দেবেন।
গতকাল শুক্রবার রাতে (গ্রিনিস মান সময় রাত ১০টা ১৪ মিনিট) ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পের দাবিকে ‘মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প এক ঘণ্টায় সাতটি দাবি করেছেন, যার সবই মিথ্যা। মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে এই হরমুজ উন্মুক্ত থাকবে না।
আজ শনিবার সকালে মেরিন ট্রাফিক ডেটায় দেখা যায়, কিছু জাহাজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত শুরু করেছে। কিন্তু সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নাটকীয়ভাবে ইরানি সামরিক বাহিনী পুনরায় প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করায় এখন থেকে এই পথে যাতায়াতে ‘ইরানের অনুমোদন’ বাধ্যতামূলক।
এই ঘোষণার পরপরই সমুদ্রপথে দেখা যায় জাহাজগুলোর দিকপরিবর্তনের দৃশ্য। ট্র্যাকিং ডেটায় দেখা গেছে, মাঝপথে থাকা অনেক জাহাজ ঘুরে আবার বন্দরে ফিরে যাচ্ছে। মূলত নিরাপত্তার অভাব এবং নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কায় এই স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালি ফের বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখার প্রতিক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইআরজিসির যৌথ সামরিক কমান্ডের দাবি, আমেরিকা অবরোধের দোহাই দিয়ে সমুদ্রপথে জলদস্যুতা ও মালপত্র চুরির মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরানি গণমাধ্যম আইআরআইবির বরাত দিয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে না দিচ্ছে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালিতে এই কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে।

হামলার শিকার জাহাজ দুটির নাম ‘জগ অর্ণব’ ও ‘সানমার হেরাল্ড’। দুটি জাহাজেই সরাসরি গুলি করা হয়েছে। নয়াদিল্লি জাহাজ দুটিতে আইআরজিসির গুলির বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
১০ মিনিট আগে
হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় অপরিশোধিত তেলবাহী একটি ভারতীয় জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার ভারত সরকারের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এই ঘটনার পরপরই ভারতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে নয়াদিল্লি।
১ ঘণ্টা আগে
ইরানের সেনা দিবস উপলক্ষে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির একটি নতুন লিখিত বার্তা প্রকাশিত হয়েছে। তবে এই বার্তায় চলমান পরিস্থিতির সবচেয়ে আলোচিত দুটি বিষয়—হরমুজ প্রণালি ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা সম্পর্কে কোনো উল্লেখ না থাকায় যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
আজ সকালে মেরিটাইম ট্র্যাকারগুলোতে দেখা যায়, আটটি তেলের ট্যাংকারের একটি বিশাল বহর হরমুজ অতিক্রম করছে। সাত সপ্তাহ আগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই ছিল বড় কোনো নৌযানের প্রথম প্রকাশ্য চলাচল। কিন্তু এই স্বস্তির রেশ বেশিক্ষণ টেকেনি।
৪ ঘণ্টা আগে