Ajker Patrika

রুশ নৌ কর্মকর্তাকে হত্যার অভিযোগে ‘এসকর্ট’ নারী গ্রেপ্তার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
রুশ নৌ কর্মকর্তাকে হত্যার অভিযোগে ‘এসকর্ট’ নারী গ্রেপ্তার
মার্গারিটা রেউত। ছবি: দ্য টেলিগ্রাফ

ইউক্রেন থেকে রাশিয়ায় যোগ দেওয়া সাবেক এক ইউক্রেনীয় সাবমেরিন কমান্ডারকে বোমা হামলায় হত্যার অভিযোগে ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ। রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থাসংশ্লিষ্ট টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোর দাবি, ইউক্রেনীয় বিশেষ বাহিনীর হয়ে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন মার্গারিটা রেউত নামের ওই নারী।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, হামলার শিকার কর্মকর্তা রবার্ট মানসুরোভিচ শাগেইভ ইউক্রেনের সাবমেরিন ‘জাপোরিঝঝিয়া’-এর কমান্ডার ছিলেন। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার সময় তিনি রাশিয়ার পক্ষে চলে যান। পরে তিনি রুশ ব্ল্যাক সি ফ্লিটের সাবমেরিন ‘ভেলিকি নভগোরোদ’-এর কমান্ডার এবং রাশিয়ার চতুর্থ স্বতন্ত্র সাবমেরিন ব্রিগেডের ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনে।

রুশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপলে স্টোলেতোভস্কি অ্যাভিনিউ এলাকায় এক বন্ধুর সঙ্গে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় শাগেইভকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। অভিযোগ ওঠে, মার্গারিটা পাশের একটি বেঞ্চের কাছে থাকা ময়লার পাত্রে বিস্ফোরক রেখে দিয়েছিলেন। বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই শাগেইভের মৃত্যু হয়। বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে এটিকে আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলা বলে মনে করেছিলেন।

ক্রিমিয়ার গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ বলেন, তদন্তে ওই নারী ইউক্রেনীয় বিশেষ বাহিনীর নির্দেশে কাজ করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

রুশ গণমাধ্যমের দাবি, মার্গারিটা রাশিয়ার ইয়ারোস্লাভলে জন্মগ্রহণ করেন এবং সোচিতে বসবাস করতেন। তিনি নিয়মিত ক্রিমিয়ায় যাতায়াত করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি আগে ‘এসকর্ট’ ওয়েবসাইটে কাজ করতেন এবং একটি পরীক্ষাগারে জীববিজ্ঞানী হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে রাশিয়ার সমালোচনা করে মন্তব্য করায় মার্গারিটা পুলিশের নজরে আসেন। পরে রুশ সামরিক বাহিনীকে ‘অসম্মান’ করার অভিযোগে তাঁকে ৩০ হাজার রুবল জরিমানা করা হয়। তদন্তকারীদের কাছে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি শাগেইভকে হত্যার জন্য অনুতপ্ত নন বলে জানিয়েছেন। হামলার বিনিময়ে তাঁকে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অর্থ দেওয়া হয়েছিল এবং পরে সোচি থেকে বিমানে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে রুশ গণমাধ্যমগুলোতে।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে রুশ সামরিক ও প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। ৫ আগস্ট ইয়েকাতেরিনবুর্গের কাছে গাড়িবোমা হামলায় ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান উরালড্রোনজাভোদ-এর প্রতিষ্ঠাতা ভ্লাদিমির তকাচুক গুরুতর আহত হন এবং তাঁর দেহরক্ষী নিহত হন। ১ আগস্ট মস্কোর একটি রেস্তোরাঁয় বিস্ফোরণে পাঁচজন নিহত হন।

২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখলের পর থেকে অঞ্চলটি মস্কোর সামরিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর সেভাস্তোপলসহ ক্রিমিয়ার বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ইউক্রেন নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত