Ajker Patrika

গবেষণায় মদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাতিলের সুপারিশ ভারতীয় রাজ্যে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯: ২৫
গবেষণায় মদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাতিলের সুপারিশ ভারতীয় রাজ্যে
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের অন্যতম দরিদ্র রাজ্য বিহারে মদের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সুপারিশ করেছে দেশটির স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল কাউন্সিল অব অ্যাপ্লায়েড ইকোনমিক রিসার্চ (এনসিএইআর)। এক দশক ধরে কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকলেও এর প্রত্যাশিত সামাজিক পরিবর্তন আসেনি এবং রাজ্যের অর্থনীতিতে এর চাপ বেড়েছে বলে গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘ম্যাক্রো পারস্পেকটিভ অব বিহারস ডেভেলপমেন্ট: অ্যাচিভমেন্ট, আনফিনিশড এজেন্ডা অ্যান্ড দ্য ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক প্রতিবেদনে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার এবং নিষেধাজ্ঞার আগে যে পর্যায়ে ছিল, সেই পর্যায়ে মদ থেকে আবগারি শুল্ক পুনর্বহালের সুপারিশ করা হয়েছে। গবেষকদের হিসাবে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে রাজ্যের রাজস্ব ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয়ও কমবে।

নারীদের ব্যাপক আন্দোলনের পর ২০১৬ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমার বিহারে মদ উৎপাদন, বিক্রি ও পান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছিলেন। নারী ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন, পারিবারিক সঞ্চয় বৃদ্ধি এবং গার্হস্থ্য সহিংসতা কমানোর লক্ষ্য ছিল এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য।

তবে গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পর নারীর বিরুদ্ধে অপরাধ কমেনি। ২০১২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরোর (এনসিআরবি) তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, বিহারে নারীর বিরুদ্ধে নথিভুক্ত অপরাধ বরং বেড়েছে। বেশি অভিযোগ নথিভুক্ত হওয়ার কারণেও এই বৃদ্ধি হতে পারে—এ কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপরাধ কমার ব্যাপক কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার ফলে অবৈধ মদের ব্যবসা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর সঙ্গে অপরাধ, দুর্নীতি এবং বিকল্প মাদক ব্যবহারের প্রবণতাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০১৬ সাল থেকে বিহারে নিষেধাজ্ঞা আইনে ১১ লাখের বেশি মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৭ লাখেরও বেশি মানুষ।

তবে ২০২৩ সালে চানক্য ন্যাশনাল ল’ ইউনিভার্সিটির এক জরিপে নিষেধাজ্ঞার প্রতি নারীদের ব্যাপক সমর্থনের চিত্র উঠে আসে। প্রায় ৫ লাখ ৪৭ হাজার নারী এতে অংশ নেন। তাঁদের ৯৯ শতাংশ নিষেধাজ্ঞার পক্ষে মত দেন। প্রায় ৪০ শতাংশ জানান, এতে বাইরে যাওয়া ও কাজের স্বাধীনতা বেড়েছে। ৮৭ শতাংশ বলেন, পারিবারিক আয় বেড়েছে। ৭২ শতাংশ জানান, মদের পেছনে ব্যয় হওয়া অর্থ এখন সন্তানের শিক্ষায় এবং ৫৪ শতাংশ পুষ্টিকর খাবারে ব্যয় হচ্ছে।

বিহার সরকার ও ক্ষমতাসীন জোট এখনো নিষেধাজ্ঞার পক্ষে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও জোটের শরিক চিরাগ পাসোয়ানও রাজস্ব বাড়ানোর প্রয়োজন থাকলেও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সরকারের ব্যর্থতার কারণে একটি বিশাল কালোবাজারি মদের অর্থনীতি তৈরি হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত