Ajker Patrika

ক্ষেপণাস্ত্রসহ মিগ–৩১ যুদ্ধবিমান চুরির চেষ্টা করেছিল ইউক্রেন–যুক্তরাজ্য, দাবি রাশিয়ার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২৫, ১৭: ২৬
ক্ষেপণাস্ত্রসহ মিগ–৩১ যুদ্ধবিমান চুরির চেষ্টা করেছিল ইউক্রেন–যুক্তরাজ্য, দাবি রাশিয়ার
কিনঝাল ক্ষেপণাস্ত্রসহ রাশিয়ার মিগ–৩১ যুদ্ধবিমান চুরি করতে চেয়েছিল যুক্তরাজ্য ও ইউক্রেন। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) জানিয়েছে, ইউক্রেন ও ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের এক পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে তারা। ওই পরিকল্পনায় রুশ এক পাইলটকে ৩০ লাখ ডলারের প্রলোভন দেখিয়ে কিনঝাল হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রযুক্ত মিগ-৩১ যুদ্ধবিমান চুরি করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো মঙ্গলবার এই তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। রুশ বার্তা সংস্থা রিয়া নাভোস্তি জানিয়েছে, এফএসবি বলেছে—চুরি করা ওই যুদ্ধবিমানটি রোমানিয়ার কনস্টান্টা শহরের একটি ন্যাটো ঘাঁটির দিকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। সেখানে যুদ্ধবিমানটিকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে গুলি করে নামিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল।

সোভিয়েত আমলের ডাকসাইটে গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবির উত্তরসূরি এফএসবি জানিয়েছে, ইউক্রেন ও ব্রিটেন ওই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে বড় ধরনের ‘উসকানিমূলক অভিযান’ চালানোর পরিকল্পনা করেছিল। ইউক্রেনীয় সামরিক গোয়েন্দারা রুশ পাইলটদের ৩০ লাখ ডলার ঘুষ দিয়ে বিমান চুরির চেষ্টা চালিয়েছিল বলেও সংস্থাটি দাবি করে।

রিয়া নাভোস্তির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এফএসবির গৃহীত পদক্ষেপে ইউক্রেন ও ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার বড় ধরনের উসকানিমূলক পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।’

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে কিছু বার্তা ও রেকর্ডিং দেখানো হয়। যেখানে দেখা যায় এক ব্যক্তি ইউক্রেন ও ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের হয়ে কাজ করছিল। সে একজন রুশ পাইলটকে ৩০ লাখ ডলার প্রস্তাব দেয় মিগ যুদ্ধবিমানটি ইউরোপে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। ওই পাইলটকে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। তবে রয়টার্স এই ঘটনার স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

রাশিয়ার কিনঝাল হলো আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। মস্কো দাবি করে এটি হাইপারসনিক অস্ত্র, যার গতি অত্যন্ত বেশি এবং এটি এমনভাবে উড়ে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে শনাক্ত বা আটকানো কঠিন।

রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ব্রিটেনকে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখে আসছে। মস্কোর অভিযোগ, ইউক্রেন যুদ্ধকে উসকে দিতে ব্রিটেন ভূমিকা রাখছে এবং ব্রিটিশ গোয়েন্দারা ইউক্রেনকে রাশিয়ার ভেতরে নানা অভিযান চালাতে সহায়তা করছে। অন্যদিকে, ব্রিটেন রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণকে সাম্রাজ্যবাদী ভূমি দখলের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখে। লন্ডনের দাবি, রুশ গোয়েন্দারা ইচ্ছে করে ব্রিটেন ও ইউরোপজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, যাতে গণতন্ত্র দুর্বল হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত