Ajker Patrika

২০ রুপি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ৩০ বছরের আইনি লড়াই, নির্দোষ প্রমাণের পরদিনই মৃত্যু

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
২০ রুপি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ৩০ বছরের আইনি লড়াই, নির্দোষ প্রমাণের পরদিনই মৃত্যু
বাবুভাই প্রজাপতি। ছবি: সংগৃহীত

হলিউডের সিনেমা ‘দ্য শশাঙ্ক রিডেম্পশন’-এর নায়ক দীর্ঘকাল পর মুক্তি পেয়ে জীবন উপভোগের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু বাবুভাইয়ের ভাগ্যে তা জোটেনি। দীর্ঘ ৩০ বছর যে অপবাদ নিয়ে তিনি বেঁচে ছিলেন, তা থেকে মুক্তি পাওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর চলে গেছেন পরপারে।

তিন দশকের এই আইনি লড়াইয়ে বাবুভাইয়ের একমাত্র লক্ষ্য ছিল ২০ রুপি ঘুষ নেওয়ার ‘মিথ্যা’ কলঙ্ক থেকে মুক্তি পাওয়া। গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) গুজরাট হাইকোর্ট যখন তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করলেন, তখন খুশিতে আত্মহারা হয়ে বাবুভাই প্রজাপতি বলেছিলেন, ‘আমার জীবন থেকে কলঙ্ক মুছে গেছে। এখন ঈশ্বর আমায় নিয়ে নিলেও কোনো দুঃখ নেই।’

তাঁর সেই কথা যেন ভবিষ্যদ্বাণী হয়েই ফলে যায়; আদালতের রায়ের ঠিক পরদিনই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।

ঘটনার শুরু ১৯৯৬ সালে। আহমেদাবাদে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল বাবুভাই প্রজাপতির বিরুদ্ধে সে সময় ২০ রুপি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। দুর্নীতি দমন আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। ১৯৯৭ সালে চার্জশিট দাখিল হয় এবং ২০০২ সালে শুরু হয় বিচারপ্রক্রিয়া। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০০৪ সালে নিম্ন আদালত তাঁকে চার বছরের কারাদণ্ড ও ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরই গুজরাট হাইকোর্টে আপিল করেন বাবুভাই। এরপর দীর্ঘ ২২ বছর মামলাটি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন ছিল। এই দীর্ঘ সময়ে সামাজিক গঞ্জনা আর আইনি লড়াইয়ে পিষ্ট হতে হয়েছে তাঁকে। অবশেষে গত মঙ্গলবার হাইকোর্ট তাঁর রায় ঘোষণা করেন। আদালত জানান, সাক্ষীদের বয়ানে মারাত্মক অসংগতি রয়েছে এবং প্রসিকিউশন অভিযোগ প্রমাণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

বাবুভাইয়ের আইনজীবী নিতিন গান্ধী জানান, রায়ের দিন বাবুভাই অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি তাঁকে বলেছিলাম, আপনি এখন সরকারের কাছ থেকে বকেয়া সব সুযোগ-সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন। পরদিন তাঁকে ফোন করলে জানতে পারি, তিনি মারা গেছেন।’ চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বার্ধক্যজনিত কারণে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত