Ajker Patrika

আগামী জুনের মধ্যেই কি শেষ হচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আগামী জুনের মধ্যেই কি শেষ হচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধ
রুশ বিমান হামলা এড়াতে কিয়েভের বাসিন্দারা মেট্রো স্টেশনগুলিতে আশ্রয় নিয়েছেন। ছবি: এএফপি

দীর্ঘ চার বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে এবার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন জুনের মধ্যে এই সংঘাতের একটি সমাধান চায়। এ লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামিতে দুই দেশের প্রতিনিধিদলকে সরাসরি বৈঠকে বসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

আবুধাবিতে দুই দিনব্যাপী ফলপ্রসূ আলোচনা শেষে জেলেনস্কি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো প্রস্তাব দিয়েছে যে ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদল যেন সেখানে (মিয়ামিতে) মিলিত হয়। আমরা আমাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছি।’

তবে ক্রেমলিন বা হোয়াইট হাউস থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য আসেনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই এই যুদ্ধ বন্ধে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তিনি এখনো সফল হতে পারেননি।

জেলেনস্কি আরও জানান, জুনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার এই তাগিদ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই এ যুদ্ধ বন্ধ করে ট্রাম্প প্রশাসন একটি কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করতে চায়।

তবে শান্তি আলোচনার আবহ তৈরি হলেও যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তাপ কমেনি। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তীব্র শীতের মধ্যেই ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। ফলে দেশজুড়ে আবারও ব্যাপক বিদ্যুৎবিভ্রাট দেখা দিয়েছে।

ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী ডেনিস শ্মিহাল টেলিগ্রামে লিখেছেন, ‘রাশিয়ান অপরাধীরা ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় আরেকটি বড় হামলা চালিয়েছে। এবার বিদ্যুৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণকারী সাবস্টেশন, প্রধান ট্রান্সমিশন লাইন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।’

ইউক্রেনের রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ইউক্রেনেরর্গো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলার ফলে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিবেশী পোল্যান্ডের কাছে জরুরি বিদ্যুৎ সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী ডেনিস শ্মিহাল।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, শুক্রবার রাতের হামলায় রাশিয়া ৪০০টির বেশি ড্রোন ও ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অধিকাংশ প্রতিহত করলেও সবগুলো ঠেকানো সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল বিদ্যুৎ গ্রিড, উৎপাদন কেন্দ্র ও বিতরণ সাবস্টেশন। কমপক্ষে চারটি অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

এই হামলার জবাবে ইউক্রেনও রাশিয়ায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, পশ্চিম রাশিয়ার ত্ভের অঞ্চলে একটি কারখানায় হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্রের জ্বালানি উপাদান তৈরি হয়। দক্ষিণে সারাতভ অঞ্চলের একটি তেলের ডিপোতেও হামলার দাবি করেছে ইউক্রেন।

তবে রাশিয়া এসব হামলার বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত