
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন সংক্রান্ত কঠোর নীতি ও ধরপাকড় অভিযানের কারণে আগামী ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার প্রায় ৪৭৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৭ লাখ কোটি টাকা) বিশাল অঙ্কের রাজস্ব হারাতে পারে। কর বিশেষজ্ঞদের মতে, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কঠোর অভিযানের ভয়ে দেশটিতে বসবাসরত লাখ লাখ নথিপত্রহীন (অবৈধ) অভিবাসী এবার আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া থেকে বিরত থাকছেন, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মার্কিন অর্থনীতিতে।
ট্যাক্স উপদেষ্টারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত পরিবর্তন—বিশেষত করদাতাদের গোপন তথ্য ইমিগ্রেশন বিভাগের সঙ্গে শেয়ার করার প্রস্তাবের কারণে নথিপত্রহীন অভিবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এর ওপর নথিপত্রহীন বাবা-মায়ের জন্য চালু থাকা চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট (শিশু কর ছাড়) সুবিধা বাতিল করায় অভিবাসীদের কর ফাইল করার আগ্রহটাই হারিয়ে গেছে।
ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ডের কর সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর চিত্র এখন বেশ ভয়াবহ। স্প্রিংফিল্ডের ক্রেস ল্যাটিনো নামক ট্যাক্স কনসালটেন্সি ফার্মের মালিক ডেইজি শ্মিট জানান, ইমিগ্রেশন বা আইসিইর ভয়ে তাঁর প্রায় ৭৫ শতাংশ নিয়মিত ক্লায়েন্ট এবার ট্যাক্স ফাইল করেননি।
ডেইজি শ্মিট বলেন, আমাদের মূল ক্লায়েন্ট হলো ল্যাটিনো কমিউনিটি। আইসিইর ভয়ে এবার সিংহভাগ মানুষ ট্যাক্স ফাইল করেননি। তাদের কথা খুব স্পষ্ট—‘সরকার যদি আমাকে যেকোনো সময় দেশ থেকেই তাড়িয়ে দেয়, তবে আমি কেন কর দিতে যাব?’
একই অভিজ্ঞতা ম্যারিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ার ল্যাটিন ট্যাক্সের মালিক এডগার ভিলাকোর্তারও। তিনি জানান, তাঁর প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ক্লায়েন্ট এবার কর দেননি। ভিলাকোর্তার অন্য অনেক সহকর্মীও জানিয়েছেন, তাদের অর্ধেক ক্লায়েন্টই এবার আর কর রিটার্ন দাখিল আসেননি।
যুক্তরাষ্ট্রে আইনি কাজের অনুমতি না থাকলেও নথিপত্রহীন অভিবাসীদের কর দেওয়া বাধ্যতামূলক। মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের (আইআরএস) দীর্ঘদিনের নীতি ছিল, করদাতাদের ব্যক্তিগত তথ্য সম্পূর্ণ গোপন ও সুরক্ষিত থাকবে। কিন্তু গত বছর আইআরএস একটি বিতর্কিত চুক্তি সই করে, যার অধীনে নথিপত্রহীন অভিবাসীদের নাম ও ঠিকানা ইমিগ্রেশন বিভাগের মূল সংস্থা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কাছে হস্তান্তর করার কথা বলা হয়।
যদিও গত বছরের নভেম্বরে একটি ফেডারেল আদালত এই চুক্তিটিকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে এর ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে। তবুও অভিবাসীদের মন থেকে সেই ভয় দূর হয়নি।
আমেরিকায় সাধারণত প্রায় ৫০ শতাংশ নথিপত্রহীন অভিবাসী পরিবার নিয়মিত কর রিটার্ন দাখিল করে থাকে। ইনস্টিটিউট অন ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ইকোনমিক পলিসির তথ্য অনুযায়ী, কেবল ২০২২ সালেই এই নথিপত্রহীন অভিবাসীরা মার্কিন সরকারকে ৯৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার কর দিয়েছিলেন। মার্কিন নাগরিকদের মতো তাঁরা অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন রিফান্ড বা কর ছাড়ের সুবিধা পান না বলে অনেক সময় মার্কিন নাগরিকদের চেয়েও তাঁদের আয়ের বেশি শতাংশ কর হিসেবে দিতে হয়।
ইয়েল ইউনিভার্সিটির বাজেট ল্যাবের হিসাব অনুযায়ী, নথিপত্রহীন অভিবাসীদের কর ফাইল করার হার কমে যাওয়ার কারণে আগামী ১০ বছরে মার্কিন সরকারের ১৪৭ বিলিয়ন থেকে ৪৭৯ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে। আইআরএসের হিসাব মতে, দেশে স্বেচ্ছায় কর দেওয়ার হার যদি মাত্র ১ শতাংশও কমে যায়, তবে বছরে ৪৬ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়।
অভিবাসন আইনের এই কড়াকড়ির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে শিশুদের ওপর। ২০২৫ সাল থেকে ট্রাম্প প্রশাসন নিয়ম করেছে, বাবা-মা নথিপত্রহীন হলে তাদের সন্তানেরা আমেরিকার নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও কোনো চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট (শিশু কর ছাড়) পাবে না।
এর ফলে প্রায় ২৭ লাখ শিশু (যারা মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা) এই কর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছে। চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট মূলত যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্য বিমোচনের একটি বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করত। এটি বন্ধ হওয়ায় দেশটিতে শিশু দারিদ্র্যের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ১৩ শতাংশ থেকে ১৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সংখ্যার হিসাবে প্রায় ১ কোটি থেকে ১ কোটি ১৪ লাখ শিশু।
আরবান ইনস্টিটিউটের এক জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকায় প্রতি চারজন অভিবাসী পরিবারের একজন সদস্য বর্তমানে দেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ল সেন্টারের বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্প প্রশাসনকে অবিলম্বে আদালতের নির্দেশ মেনে করদাতাদের তথ্য সুরক্ষার গ্যারান্টি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে অভিবাসীরা নিরাপদে কর ব্যবস্থার আওতায় ফিরে আসতে পারেন।

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, কিউবার বিরুদ্ধে কোনো সামরিক হামলা হলে তা ‘অকল্পনীয় পরিণতির রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি’ সৃষ্টি করবে। সোমবার (১৮ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায়
২৬ মিনিট আগে
যুক্তরাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘ম্যারিড অ্যাট ফার্স্ট সাইট ইউকে’ ঘিরে তৈরি হয়েছে এক ভয়াবহ ও নজিরবিহীন বিতর্ক। ‘চ্যানেল ফোর’-এর এই জনপ্রিয় শো-তে অংশ নেওয়া দুই কনে অভিযোগ করেছেন, অন-স্ক্রিন স্বামীদের দ্বারা তাঁরা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
২ ঘণ্টা আগে
গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে একটি জরুরি পাবলিক নোটিশ জারি করা হয়। ১৯৫০ সালের ‘বেঙ্গল অ্যানিমেল স্লটার কন্ট্রোল অ্যাক্ট’ এবং ২০১৮ সালের কলকাতা হাইকোর্টের একটি রায়কে হাতিয়ার করে এই নতুন নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে...
৫ ঘণ্টা আগে
গত বছর পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে এই কৌশলগত দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্তাবলি গোপন রাখা হলেও উভয় দেশই স্বীকার করেছে, যেকোনো এক পক্ষ আক্রান্ত হলে অপর পক্ষ তার প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসতে বাধ্য থাকবে।
৬ ঘণ্টা আগে