Ajker Patrika

সৌদি আরবে যুদ্ধবিমানসহ ৮ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে পাকিস্তান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৮ মে ২০২৬, ১৯: ১৫
সৌদি আরবে যুদ্ধবিমানসহ ৮ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে পাকিস্তান
পাকিস্তানের জেএফ-১৭ থান্ডার ফাইটার জেট। ছবি: পিএসি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবের সুরক্ষায় সেখানে এক স্কোয়াড্রন যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং ৮ হাজারেরও বেশি সেনা পাঠিয়েছে পাকিস্তান। দুই দেশের মধ্যকার একটি গোপন যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে এই বিশাল সামরিক বহর মোতায়েন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একদিকে পাকিস্তান যখন মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার মূল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে, ঠিক তখনই সৌদিতে তাদের এই বিপুল সমরাস্ত্র ও সৈন্য মোতায়েনের তথ্যটি সামনে এল।

তিনজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং দুজন সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স আজ সোমবার এই বিশেষ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব যদি নতুন করে কোনো আক্রমণের শিকার হয়, তবে দেশটির সামরিক বাহিনীকে যুদ্ধক্ষেত্রে সহায়তা করার মতো যুদ্ধক্ষম একটি বাহিনী পাঠিয়েছে ইসলামাবাদ।

উল্লেখ্য, গত বছর পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে এই কৌশলগত দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্তাবলি গোপন রাখা হলেও উভয় দেশই স্বীকার করেছে, যেকোনো এক পক্ষ আক্রান্ত হলে অপর পক্ষ তার প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসতে বাধ্য থাকবে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এর আগে বলেছিলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে কার্যত সৌদি আরবকে পাকিস্তানের পারমাণবিক সুরক্ষাকবচ বা নিউক্লিয়ার আমব্রেলার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

সরকারি একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই গোপন চুক্তিতে প্রয়োজন সাপেক্ষে সৌদি আরবের সীমান্ত সুরক্ষায় সৌদি বাহিনীর পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৮০ হাজার পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন করার বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত এপ্রিলের শুরুতে পাকিস্তান তাদের এক স্কোয়াড্রন (প্রায় ১৬টি) যুদ্ধবিমান সৌদি আরবে পাঠায়। এর মধ্যে বেশির ভাগই চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার ফাইটার জেট। এ ছাড়া পাকিস্তান বিমানবাহিনীর দুটি ড্রোন স্কোয়াড্রনও সেখানে পাঠানো হয়েছে।

একই সঙ্গে আকাশসীমার সুরক্ষায় শক্তিশালী চীনা প্রযুক্তির ‘এইচকিউ-৯’ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বা বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাও সৌদিতে মোতায়েন করা হয়েছে। এই পুরো সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধবিমানগুলো পরিচালনা করছেন পাকিস্তানি সামরিক বিশেষজ্ঞরা, তবে এর সম্পূর্ণ অর্থায়ন করছে সৌদি আরব। এই সামরিক বহরের পাশাপাশি পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের বিষয়েও চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে, তবে সেগুলো এখনো সৌদিতে পৌঁছেছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে এই ৮ হাজার নতুন সৈন্যকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শমূলক ভূমিকার কথা বলা হলেও, তাদের রণপ্রস্তুতি ও ভারী সমরাস্ত্রের উপস্থিতি প্রমাণ করে এটি কেবল কোনো প্রতীকী মিশন নয়। এর আগে বিভিন্ন চুক্তির অধীনে আরও হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনা অলরেডি সৌদিতে কমব্যাট বা যুদ্ধকালীন দায়িত্বে মোতায়েন রয়েছে। নতুন এই ৮ হাজার সৈন্য তাদের সঙ্গে যুক্ত হলো।

সম্প্রতি সৌদি আরবের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এক সৌদি নাগরিক নিহত হন। এরপরই রয়টার্স প্রথম খবর প্রকাশ করেছিল, পাকিস্তান সৌদিতে যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে। রয়টার্স তাদের আরেকটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সৌদি আরবও তাদের দেশে হওয়া হামলার জবাবে ইরানের অভ্যন্তরে বেশ কিছু গোপন ও অঘোষিত বিমান হামলা চালিয়েছিল।

এদিকে এই উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার যুদ্ধের প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পাকিস্তান। গত ৮ এপ্রিল যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তা মূলত ইসলামাবাদের কূটনীতিরই ফসল ছিল। এমনকি পাকিস্তান নিজেদের মাটিতে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে নিয়ে একমাত্র শান্তি বৈঠকেরও আয়োজন করেছিল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত