
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপির আদর্শিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে সফরের আয়োজন করেছে। উদ্দেশ্য, ভারতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলায় জড়িত আধা সামরিক সংগঠন হিসেবে আরএসএসের সম্পর্কে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার আরএসএস এই ঘোষণা দিয়েছে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএসের এই উদ্যোগ এমন একসময় এল, যখন গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ‘আরএসএস দশকের পর দশক ধরে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর সদস্যদের বিরুদ্ধে চরম সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।’ এই কমিশন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি দ্বিদলীয় সংস্থা। তারা বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মার্কিন কংগ্রেসকে নীতিগত সুপারিশ দেয়।
নরেন্দ্র মোদি তরুণ বয়সেই আরএসএসে যোগ দেন। তাঁর দল ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির প্রায় সারা ভারতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পেছনে আরএসএসের বিশাল স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ককে বড় কারণ হিসেবে দেখা হয়। এই উত্থান ঘটেছে এমন একসময়ে, যখন আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ ভারত ক্রমশ কঠোর হিন্দু-মুসলিম রাজনৈতিক বিভাজনের দিকে এগিয়েছে। ভারতে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী হিন্দু।
আরএসএস নিজেদের ‘হিন্দুকেন্দ্রিক সভ্যতাগত ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন’ হিসেবে তুলে ধরে। সংগঠনটির দাবি, তাদের লক্ষ্য হলো ‘জাতিকে গৌরবের শিখরে পৌঁছে দেওয়া’। এর মধ্যে হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং ধর্ম রক্ষা করাও রয়েছে। ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কয়েকবার নিষিদ্ধ হয়েছে আরএসএস। এর মধ্যে ১৯৪৮ সালে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের পরও সংগঠনটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। হত্যাকারী ছিলেন আরএসএসের সাবেক এক সদস্য।
ভারতের বিরোধী নেতারা, বিশেষ করে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী বহুবার অভিযোগ করেছেন, আরএসএস বিভাজনমূলক সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী আদর্শ প্রচার করে। তাঁর মতে, এই আদর্শ ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর জন্য হুমকি এবং এটি সংখ্যালঘুদের প্রতি অসহিষ্ণুতা উসকে দেয়।
আরএসএসের সাধারণ সম্পাদক দত্তত্রেয়া হোসাবলে বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও ব্রিটেনে বিভিন্ন সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন। আরও সফরের পরিকল্পনাও রয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘এর উদ্দেশ্য হলো আরএসএস সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা ও বিভ্রান্তি দূর করা।’ তিনি বলেন, আরএসএসের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—সংগঠনটি ‘সমাজকে পিছিয়ে নিচ্ছে’, এটি একটি ‘আধা সামরিক সংগঠন’, এটি ‘হিন্দু শ্রেষ্ঠত্ববাদ’ প্রচার করে এবং ‘অন্যরা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত হয়েছে’। দিল্লিতে আরএসএসের সদ্য নির্মিত ১২তলা ভবনে বিদেশি গণমাধ্যমের জন্য আয়োজিত এক বিরল ব্রিফিংয়ে হোসাবলে বলেন, ‘বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।’
নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক
হোসাবলে জানান, তাঁর বিদেশ সফরগুলোতে তিনি শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি আরও বলেন, আরএসএস নেতারা ইউরোপ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের আরও বিভিন্ন দেশে সফর করবেন, যাতে সংগঠনটি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো যায়।
মোদি ইতিমধ্যেই আরএসএসের দুটি প্রধান অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছেন। একটি হলো ১৯৯২ সালে ভেঙে ফেলা বাবরি মসজিদের স্থানে হিন্দু দেবতা রামের মন্দির নির্মাণ। অন্যটি হলো জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা। একসময় এটিই ছিল ভারতের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য। হোসাবলে বলেন, আরএসএসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো হিন্দু জাতপাতভিত্তিক বৈষম্যের অবসান ঘটানো।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভারতের বিরোধী দলগুলো সুবিধাবঞ্চিত জাতিগোষ্ঠীর উদ্বেগকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়। এর ফলে মোদির দল বিরল এক ধাক্কা খায়। বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় এবং সরকার গঠনের জন্য মিত্রদের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়।

তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় তাঁর ঘনিষ্ঠ জ্যোতিষী রাধান পণ্ডিতকে বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তবে আজ বুধবার সমালোচনার মুখে তাঁর নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
২৭ মিনিট আগে
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা জোটগুলোর সমীকরণ বদলে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ইঙ্গিত দিয়েছে, সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিতে তুরস্ক ও কাতারও যুক্ত হতে পারে। আজ বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্য
৩৯ মিনিট আগে
থালাপতি বিজয় আপাতত নিরাপদ। তামিলনাড়ু বিধানসভায় আস্থা ভোটে উতরে গেছে তাঁর মুখ্যমন্ত্রিত্ব এবং সরকার। আজ বুধবার বিজয়ের পক্ষে ভোট দেন ১৪৪ আইনপ্রণেতা। যদিও তাঁর দলের বিধায়কের সংখ্যা মাত্র ১০৭ জন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
১ ঘণ্টা আগে
ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির আদর্শিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসের সাধারণ সম্পাদক প্রতিবেশী পাকিস্তানকে ‘পিনপ্রিক’ বা ‘সূচের খোঁচার’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। অর্থাৎ, পাকিস্তান ভারতকে খোঁচাচ্ছে বলে বুঝিয়েছেন তিনি। আরএসএস–এর এই নেতা বলেছেন, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে বিশ্বাস করা যায় না।
২ ঘণ্টা আগে