Ajker Patrika

ইরানে ভূপাতিতের আগে এক রহস্যময় দৃশ্য দেখেন মার্কিন পাইলট

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ১২: ০৬
ইরানে ভূপাতিতের আগে এক রহস্যময় দৃশ্য দেখেন মার্কিন পাইলট
ছবি: আইআরজিসি

গত এপ্রিলে ইরানের আকাশে গুলি করে ভূপাতিত করা একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলট ইজেক্ট (বিমান থেকে জরুরি বহির্গমন) করার ঠিক আগমুহূর্তে আকাশে এক চাঞ্চল্যকর দৃশ্য দেখার দাবি করেছেন। চারজন সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিধ্বস্ত ওই এফ-১৫ ফাইটার জেটের পাইলট আকাশে একাধিক ইরানি ড্রোন একত্রে মিলে একটি নির্দিষ্ট গঠনে অবস্থান করছিল, যা দেখতে অবিকল একটি জেলিফিশের মতো লাগছিল।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সিএনএন জানিয়েছে, চাঞ্চল্যকর এই তথ্য আগে কখনো প্রকাশ্যে আসেনি। উদ্ধার হওয়ার পর মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে পাইলট এই অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন। এই দাবি প্রকাশ হওয়ার পরপরই মার্কিন গোয়েন্দা মহলে তীব্র বিতর্ক ও বিশ্লেষণের ঝড় উঠেছে, যা এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

পাইলটের বিবরণ অনুযায়ী, ড্রোনগুলো একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে একটি একক সত্তার মতো নড়াচড়া করছিল। একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, বড় ড্রোনগুলোর নিচে ছোট ছোট ড্রোন ঝুলে ছিল, যা দেখতে জেলিফিশের পায়ের মতো লাগছিল। দেখে মনে হচ্ছিল, এটি কোনো এলিয়েন বা ভিনগ্রহের কাণ্ডকীর্তি।

অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, পাইলট আকাশজুড়ে ড্রোনের এক বিশাল ‘মাইনফিল্ড’ বা মাইন বিস্ফোরক ক্ষেত্রের মুখোমুখি হয়েছিলেন। এফ-১৫ বিমানটি ঠিক কী কারণে ভূপাতিত হয়েছে তা এখনো তদন্তাধীন থাকলেও প্রাথমিক কিছু রিপোর্টে ধারণা করা হচ্ছে, এই ড্রোনের ঝাঁকটি কোনোভাবে বিমানটি ধ্বংসের পেছনে ভূমিকা রেখেছিল।

সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের আকাশসীমায় কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার এটাই ছিল প্রথম ঘটনা। তবে বিমানে থাকা পাইলট ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা উভয়ে ইজেক্ট করতে বা বিমানের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন। পাইলটকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিশেষ বাহিনী উদ্ধার করলেও অন্য কর্মকর্তা প্রায় এক দিন পাহাড়ি অঞ্চলে ইরানি বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে লুকিয়ে থাকার পর উদ্ধার হন। তবে তিনি এই ড্রোনের ঝাঁক দেখেছিলেন কি না তা স্পষ্ট নয়। এমনকি উদ্ধার অভিযানের সময় একটি এ-১০ বিমানও ভূপাতিত হয়। তবে এটির পাইলটও নিরাপদ দূরত্বের বাইরে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন।

এদিকে পাইলটের ‘জেলিফিশ’ দাবি নিয়ে গোয়েন্দাদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। কারণ, বিমান বিধ্বস্তের ফলে পাইলট মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন। তা ছাড়া চলমান ইরান যুদ্ধে এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয়বার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা। এর আগে কুয়েতের বাহিনীর ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’-এ তিনি একবার আক্রান্ত হয়েছিলেন। ফলে গোয়েন্দারা প্রশ্ন তুলছেন এটি মার্কিনদের অজ্ঞাত কোনো উন্নত ইরানি প্রযুক্তি, নাকি মরুভূমির কোনো মরীচিকা।

প্রযুক্তিগত ভাষায় একে ‘ওয়ান-টু-মেনি মেশড নেটওয়ার্কিং’ বলা হয়, যার মাধ্যমে একজন চালক একসঙ্গে অনেকগুলো ড্রোন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। ধারণা করা হয়, এই প্রযুক্তি রাশিয়া ও চীনের রয়েছে। তবে গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ইরান চীন ও রাশিয়ার সহায়তায় এই ড্রোন প্রযুক্তি উন্নত করছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও ৬০ দিনের শান্তি আলোচনা চলছে। এই আলোচনার মূল ফোকাস ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি হলেও নতুন ড্রোন বিতর্ক পরিস্থিতি জটিল করতে পারে। ড্রোন যুদ্ধ বিশেষজ্ঞ এমা বেটস সতর্ক করে বলেছেন, ‘এই ধরনের সমন্বিত ড্রোন নেটওয়ার্ক অত্যন্ত বিপজ্জনক। যদি বিস্ফোরকবাহী ড্রোনগুলো এভাবে দলবদ্ধ হয়ে আক্রমণ করতে পারে, তবে তা প্রতিহত করতে বিশাল অর্থ ও প্রাণের ক্ষতি হতে পারে।’

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ও ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টরের কার্যালয় অবশ্য এই বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও তার মিত্রদের সামরিক প্রতিরক্ষাকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত