Ajker Patrika

১৯৭৩ সালের পর প্রথম: ইরান যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পকে নির্দেশ দিয়ে সিনেটে বিল পাস

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
১৯৭৩ সালের পর প্রথম: ইরান যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পকে নির্দেশ দিয়ে সিনেটে বিল পাস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: বিবিসি

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে অথবা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নির্দেশ দিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার উচ্চকক্ষ সিনেট। রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই ভোটাভুটিতে প্রস্তাবের পক্ষে ৫০টি এবং বিপক্ষে ৪৮টি ভোট পড়ে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদেও (হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ) একই ধরনের একটি প্রস্তাব পাস হয়েছিল। তবে দুই কক্ষেই পাস হওয়া সত্ত্বেও এই যৌথ প্রস্তাবটি (কনকারেন্ট রেজোলিউশন) অনুমোদনের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে পাঠানো হবে না এবং এর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে রাজনৈতিকভাবে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হলেও মূলত একটি ‘প্রতীকী’ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক শান্তি চুক্তি নিয়ে কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যদের একাংশের মধ্যে চলমান সংশয় এবং যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় পাঁচ মাস পর এই ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হলো।

অর্ধশতকের ইতিহাসে প্রথম ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

১৯৭৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন’ বা যুদ্ধ ক্ষমতা আইন পাস হওয়ার পর এই প্রথম কোনো সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করতে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষ একই ধরনের প্রস্তাব পাস করল।

সাধারণ বিলের মতো এই যৌথ প্রস্তাবটি স্বাক্ষরের জন্য প্রেসিডেন্টের টেবিলে যায় না। এর আগে ২০১৯ সালে ইয়েমেন যুদ্ধে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সংক্রান্ত কংগ্রেসের একটি যৌথ প্রস্তাবে ভেটো (বাতিল করার ক্ষমতা) দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু এবার সেই সুযোগও থাকছে না।

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক রাজনৈতিক বিশ্লেষক লরা ব্লুমেনফেল্ড বিবিসিকে বলেন, ‘যেহেতু এই প্রস্তাবের কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই, তাই এটিকে কোনো হাতকড়া নয়, বরং হাতের ওপর একটি মৃদু চাপড় বা সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা যেতে পারে।’

তবে তিনি যোগ করেন, ‘আইনি কার্যকারিতা না থাকলেও এটি স্পষ্ট করে দেয় যে আমেরিকার জনগণ এই মুহূর্তে কী ভাবছে।’

বিশেষ করে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মার্কিন জনগণের মধ্যে এই যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউসের ওপর যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য চাপ আরও বাড়াবে এই প্রস্তাব।

রিপাবলিকান শিবিরে ফাটল ও ভোটের হিসাব

চলতি মাসের শুরুতে প্রতিনিধি পরিষদে ২১৫-২০৮ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়েছিল, যেখানে চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সুর মিলিয়েছিলেন।

মঙ্গলবারের সিনেট ভোটেও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দেন চারজন রিপাবলিকান সিনেটর—র‍্যান্ড পল, লিসা মুরকোভস্কি, সুসান কলিন্স এবং বিল ক্যাসিডি। অন্যদিকে, ডেমোক্রেটিক পার্টির একমাত্র সিনেটর হিসেবে এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন জন ফেটারম্যান।

তবে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বিবিসির কাছে দাবি করেছেন, দলের দুই প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর মিচ ম্যাককনেল এবং ডেভ ম্যাককরমিক অনুপস্থিত থাকার কারণেই কেবল এই প্রস্তাবটি পাস হতে পেরেছে।

তিনি আরও যুক্তি দেন, গত ৭ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর সেখানে বর্তমানে মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহারের মতো কোনো যুদ্ধ পরিস্থিতি বজায় নেই।

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানদের মধ্যে এই বিভাজন দলের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই নির্বাচনই নির্ধারণ করবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানরা তাদের সামান্য ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে কি না।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়া এবং ট্রাম্পের পরিকল্পিত ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন’ তহবিল নাকচ করাসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন নিজ দলের সিনেটররা।

যুদ্ধ আইন ও ৬০ দিনের আইনি সময়সীমা

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে ১০ বার যুদ্ধ ক্ষমতা আইনের আওতায় ভোটাভুটির চেষ্টা চালিয়েছে। কাকতালীয়ভাবে, এই ভোটাভুটির দিনই মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ৮০ বিলিয়ন ডলারের বাজেট দাবি করেছে, যার সিংহভাগই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের খরচ মেটাতে ব্যয় হবে।

মার্কিন ফেডারেল আইন অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ৬০ দিনের বেশি কোনো দেশে সামরিক অভিযান চালানো যায় না। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এপ্রিল মাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এই সময়সীমার নিয়মকে আবার প্রথম থেকে শুরু (রিসেট) করেছে। এ ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে হোয়াইট হাউস এই সময়সীমা আরও ৩০ দিন বৃদ্ধি করতে পারে।

বর্তমানে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে এবং গত সপ্তাহে দুই দেশের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) অধীনে শত্রুতা স্থায়ীভাবে অবসানের লক্ষ্যে কাজ করছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধের বিষয়ে একটি বিস্তৃত দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরান ৬০ দিন সময় পাবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত