আটলান্টিক মহাসাগরে চলাচলরত নেদারল্যান্ডসভিত্তিক একটি প্রমোদতরিতে রহস্যজনক অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘হান্টাভাইরাস’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, জাহাজটিতে অন্তত একটি হান্টাভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে এবং আরও কয়েকটি সন্দেহভাজন ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে।
সোমবার (৪ মে) এক প্রতিবেদনে সিএনএন জানিয়েছে—হান্টাভাইরাস আসলে এক ধরনের ভাইরাস-সমষ্টি, যা মূলত সংক্রমিত ইঁদুর বা অন্যান্য রডেন্ট প্রাণীর শরীর থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। তাদের প্রস্রাব, মল বা লালার মাধ্যমে এই ভাইরাস পরিবাহিত হয়। সাধারণত শুকনো মল বা বর্জ্য পরিষ্কার করার সময় সেখান থেকে উড়ন্ত ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এ ছাড়া দূষিত বস্তু স্পর্শ করে মুখ বা নাকে হাত দিলে সংক্রমণ ঘটতে পারে। খুব বিরল ক্ষেত্রে ইঁদুরের কামড় বা আঁচড় থেকেও এটি ছড়াতে পারে।
এই ভাইরাসের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—এটি সাধারণত মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। তবে দক্ষিণ আমেরিকায় পাওয়া ‘আন্দেজ স্ট্রেইন’ নামে একটি ধরন সীমিত আকারে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ ঘটাতে পারে, যদিও সেটিও অত্যন্ত বিরল।
হান্টাভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ শুরুতে অনেকটা ফ্লুর মতো। আক্রান্ত ব্যক্তি জ্বর, শরীর ব্যথা, ক্লান্তি, কাঁপুনি ইত্যাদি অনুভব করেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। ভাইরাসটি শরীরের ফুসফুস, কিডনি বা হৃৎপিণ্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ, অঙ্গ বিকল হওয়া এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে হান্টাভাইরাসের প্রভাব ভিন্ন। ইউরোপ ও এশিয়ায় এটি রেনাল সিনড্রোম সহ রক্তক্ষরণজনিত জ্বর সৃষ্টি করে, যা কিডনির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে আমেরিকা মহাদেশে এটি ‘হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম’ তৈরি করে, যা ফুসফুসকে আক্রান্ত করে এবং প্রায় ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হতে পারে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, এই রোগের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ বা প্রতিষেধক এখনো নেই। এর চিকিৎসা মূলত উপসর্গভিত্তিক—বিশ্রাম, তরল গ্রহণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা সহায়তা। তাই এর প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়ি বা আশপাশে ইঁদুর প্রবেশ বন্ধ করা, খাবার ভালোভাবে সংরক্ষণ করা এবং বর্জ্য পরিষ্কার রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। ইঁদুরের মল পরিষ্কার করার সময় অবশ্যই গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে এবং জীবাণুনাশক (যেমন ব্লিচ দ্রবণ) ব্যবহার করে সতর্কভাবে পরিষ্কার করতে হবে।
বর্তমান ক্রুজ জাহাজের ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইঁদুর জাহাজে উঠে পড়তে পারে অথবা যাত্রীরা আগেই সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন।
এই ঘটনার উৎস ও বিস্তার বোঝার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতিমধ্যে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে, যার মধ্যে ভাইরাসের জিনগত বিশ্লেষণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বাংলাদেশে প্রতিবছর আনুমানিক ১ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে এবং প্রতিবছর এই মরণব্যাধিতে মারা যাচ্ছে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি মানুষ। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
২ ঘণ্টা আগে
জামালপুর–৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এমআরআই, সিটি স্ক্যান, ডায়ালাইসিস ও আইসিইউয়ের ভারী যন্ত্রপাতি ক্রয় প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। বর্তমান সরকার এই ভারী যন্ত্রপাতি ক্রয় প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করেছে এবং ৪টি এমআরআই মেশিন ক্রয় কার্যক্রম চলমান।
৩ ঘণ্টা আগে
এক দশক পর দেশে আবার শনাক্ত হয়েছে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু ভাইরাসের এইচ৫এন১ ধরনের মানব সংক্রমণ। চলতি বছরে এই ভাইরাসে আক্রান্ত এক শিশুর মৃত্যুও হয়েছে। পাখিসহ কয়েকটি প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে সক্ষম এই উচ্চঝুঁকির ভাইরাসটি। এর মৃত্যুহারও উদ্বেগজনক।
১৫ ঘণ্টা আগে
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে শিশুমৃত্যুর এই ঘটনা ঘটে।
১৮ ঘণ্টা আগে