
২৪-এর জুলাই আন্দোলনে ‘পাকিস্তানপন্থী মৌলবাদীরা’ ছাদ থেকে সাধারণ মানুষকে ৭.৬২ রাইফেল দিয়ে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের ওপর দায় চাপিয়েছে—এমন একটি চাঞ্চল্যকর দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে (১, ২,৩,)পড়েছে।
আলোচিত দাবিতে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোর ক্যাপশনে দাবি করা হয়, ‘সেই দিন ছিলো ০৫ আগস্ট ২০২৪, কোটা নামে স্বাধীনতা বিরোধী পাকিস্তান পন্থী মৌলবাদীরা জঙ্গী হামলা করে রাস্তায় সাধারণ মানুষ কে ছাদের উপর থেকে ৭.৬২ রাইফেল দিয়ে গুলি করে মানুষ হত্যা করে। দোষ দিয়ে দেয়, আওয়ামীলীগ ও পুলিশের উপর। দেখুন রাস্তার পাশে ছাদের উপর থেকে কারা গুলি করছে!’
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর কমেন্ট ও রিয়েকশন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ নেটিজেনই দৃশ্যটিকে বাংলাদেশ ও জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনা মনে করে কমেন্ট করেছেন।
আলোচিত দাবির সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওর কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়। তবে ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের সময় বাংলাদেশে এমন কোনো ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পরে আরও অনুসন্ধানে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘KTLA 5’-এ গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ‘At least 11 killed in Hanukkah shooting at Australia’s Bondi Beach’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই সংবাদ প্রতিবেদনের ১ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট ৪২ সেকেন্ডের দৃশ্যের সঙ্গে আলোচিত দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটির প্রথম ৫ সেকেন্ডের হুবহু মিল পাওয়া যায়।

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সিডনির বন্ডাই বিচে হানুক্কাহ (ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব) উদ্যাপনকে লক্ষ্য করে হামলায় ১৫ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ১০ বছর বয়সী একটি শিশুও ছিল। ঘটনায় আরও ৪২ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, বাবা ও ছেলে মিলে এই হামলা চালায়। ৫০ বছর বয়সী বাবা সাজিদ আকরাম ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং তাঁর ২৪ বছর বয়সী ছেলে নাভিদ আকরাম হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজি দেশজুড়ে অস্ত্র আইন আরও কঠোর করার ঘোষণা দেন। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে একজন ব্যক্তির কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা সীমিত করা এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের জন্য অস্ত্রের লাইসেন্স সীমিত করার বিষয়ও রয়েছে। হামলার পর সিডনি ও মেলবোর্নে নিহতদের স্মরণে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।
একই তথ্য পাওয়া যায় ব্রিটিশ সম্প্রচার মাধ্যম স্কাই নিউজ ও দেশীয় গণমাধ্যমের সংবাদ প্রতিবেদনেও।
অর্থাৎ, অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ঘটে যাওয়া একটি বন্দুক হামলার ভিডিওকে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাদের ওপর থেকে গুলির দৃশ্য দাবি করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মৌলবাদীরা ছাদ থেকে গুলি করে আন্দোলনকারীদের হত্যা করে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের ওপর দায় চাপিয়েছে— এমন দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি বাংলাদেশেই নয়। মূলত অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই বিচে ঘটে যাওয়া বন্দুক হামলার দৃশ্য এটি।

৭ আগস্ট ‘Sajeeb Wazed Joy’ নামের ফেসবুক গ্রুপে একটি ফটোকার্ড শেয়ার করা হয়, যা আলোচিত দাবিতে সম্ভাব্য সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। শেয়ার করা ফটোকার্ডটিতে আজ সকাল ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০ রিয়েকশন, ১৩৩ কমেন্ট ও ৯১ শেয়ার রয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এটিই দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে সবচেয়ে বড় মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা।
১ দিন আগে
‘দেশ রক্ষায় আওয়ামী লীগের মশাল মিছিল’ দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ‘Bangladesh awami League’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে আলোচিত দাবিতে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। আজ ৭ আগস্ট দিবাগত রাত ১টার দিকে শেয়ার করা ওই ভিডিওতে ১ হাজার ১০০ রিয়েকশন, ১৮২ কমেন্ট ও ৩০৫ শেয়ার রয়েছে।
১ দিন আগে
আলোচিত দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর কমেন্ট পর্যালোচনা করে নেটিজেনদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ অভিযুক্ত ব্যক্তির শাস্তি দাবি করেছেন, আবার অনেকেই কমেন্ট করেছেন যে, এটি ভারতের দিল্লির আন্দোলনের সময়ের ভিডিও। অপর একজন বলেন, ‘দেশে আইনের শাসন না থাকলে যা হয়।’
২ দিন আগে