Ajker Patrika

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক: আধা কিমিতে পুরো দুর্ভোগ

  • হাইওয়ে পুলিশ বলছে, সওজকে বলেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না
  • আধা কিলোমিটার অংশের পিচ-পাথর উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে
  • তিন মাস ধরে চলছে সংস্কার, তবু হচ্ছে না উন্নতি
  • টানা বৃষ্টিতে বিকল্প লেনের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত
দেলোয়ার হোসাইন আকাইদ, কুমিল্লা 
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক: আধা কিমিতে পুরো দুর্ভোগ
খানাখন্দের কারণে ইট বিছিয়ে সংস্কার করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। গতকাল কুমিল্লা সদরের আমতলী অংশে। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে খানাখন্দ আধা কিলোমিটার। তবে এই খানাখন্দই ভোগাচ্ছে। তিন মাস ধরে চলা অস্থায়ী সংস্কারের কারণে ওই অংশে যানজট লেগেই থাকছে। গতকাল শুক্রবার সকালে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে শত শত যানবাহন ও হাজারো যাত্রী। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে দুর্ভোগে পড়তে হয় যাত্রী ও যানবাহনকে।

এই মহাসড়কের কুমিল্লার আমতলী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোথাও কোথাও পিচ-পাথর উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কারকাজের কারণে এক পাশ বন্ধ রেখে অন্য পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে বিকল্প লেনের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। কোথাও জমেছে পানি, কোথাও কাদাপানি ছড়িয়ে পড়েছে মূল সড়কের ভালো অংশেও। ফলে ভারী যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে। আর তাতেই দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি।

গতকাল সকালে সদরের আলেখারচর এলাকা থেকে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার এলাকায় ঢাকামুখী লেনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ধীরগতিতে চলছিল যানবাহন। পরে বিকেলের দিকে তা স্বাভাবিক হতে থাকে। আমতলী এলাকার এই সংকট যেন এখন নিত্যদিনের চিত্র।

হাইওয়ে পুলিশ বলছে, আমতলীর প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কে কংক্রিটের ঢালাইসহ সংস্কারকাজ চলমান থাকায় এক পাশ বন্ধ রেখে অন্য পাশ দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে বিকল্প অংশটিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যানবাহনের গতি কমে গেছে; বিশেষ করে পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও ব্যক্তিগত গাড়িগুলো গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে গতি আরও কমে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে পুরো মহাসড়কে।

ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার ওসির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বলেন, তিন মাস ধরে আমতলী এলাকায় সংস্কার চলছে। এরই মধ্যে সংস্কার করা অংশের আশপাশও ভেঙে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর সংস্কার শুরু হয়নি।

সড়কের পরিস্থিতি তুলে ধরে হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কীর্তিমান চাকমা বলেন, তিন থেকে চার সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কের এই অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত দুই দিনে শুধু আমতলী এলাকায় অন্তত চারটি মালবাহী ট্রাক গর্তে আটকে যায়। পরে রেকার দিয়ে সেগুলো সরিয়ে নিতে হয়েছে। একটি ভারী যানবাহন আটকে গেলে পেছনে মুহূর্তেই দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি একাধিকবার সওজ বিভাগকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এই রুটে চলাচলকারী রয়েল কোচের বাসচালক মো. হাসান বলেন, ‘বাস গর্ত পার হতে পারলেও ভারী ট্রাক কিংবা প্রাইভেট কারগুলো গর্তে নামতে চায় না। তাদের ধীরগতির কারণে পুরো সড়কে জট লেগে যায়।’

এ বিষয়ে সওজ বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার আমতলী অংশে অস্থায়ীভাবে সংস্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ভারী বৃষ্টির কারণে সংস্কারে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। রোদ উঠলেই পুনরায় কাজ শুরু করা হবে।’

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান টিটু আজকের পত্রিকাকে বলেন, সড়কের খানাখন্দে দায়সারা নিম্নমানের ইট ও বালু দিয়ে মেরামতের চেষ্টা করা হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব উপকরণ ধুয়ে-মুছে যাচ্ছে। এতে একদিকে জনগণের দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হচ্ছে। জনস্বার্থ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে টেকসই সংস্কার প্রয়োজন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত