
মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ছিলেন খ্যাপাটে ধরনের মানুষ। তাঁর সহকর্মীরা একসময় বলা শুরু করেন, নিক্সনের মতো উন্মাদের হাতে পারমাণবিক বোমার নিয়ন্ত্রণ থাকা নিরাপদ নয়। কেননা তিনি কখন কী করে বসেন, বলা যায় না। নিক্সনের ভক্ত এবং বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মানসিক স্থিতিশীলতা নিয়েও প্রায় একই সন্দেহ পোষণ করেন অনেক সমালোচক। বিশেষত, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের অসংলগ্ন বক্তব্যকে ঘিরে এই সন্দেহ আরও দানা বাঁধে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন মিত্রদের বিরুদ্ধে পালটা হামলা চালায় ইরান। কিছুদিনের মধ্যেই বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তারা। এতে বিশ্বজুড়ে দেখা দেয় ব্যাপক জ্বালানি সংকট।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন ট্রাম্প। কখনো বলছেন, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। আবার কখনো হরমুজ খুলতে চান মিত্রদের সহায়তায়। একপর্যায়ে ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন। আবার কয়েক দিনের মধ্যে একতরফা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন। বর্তমানে চলছে সমঝোতা চুক্তি নিয়ে তোড়জোড়। তার এসব কর্মকাণ্ড দেখে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ছিল কৌশলগত একটি ভুল। কিন্তু ভুল না হয়ে যদি এটি হয় চূড়ান্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি পাশার দান; যেখানে বৈশ্বিক অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা মতবাদ (ক্যাওস ডক্ট্রিন অর্থাৎ, বিশৃঙ্খলার মধ্যে ফায়দা হাসিল) কাজে লাগানোই ছিল মূল উদ্দেশ্য?
ইরানে হামলা শুরুর আগে থেকেই ট্রাম্প বলে আসছিলেন, তারা দেশটিতে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চান। হামলার শুরুতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করা হয়। ট্রাম্পের বিভিন্ন সময়ের বক্তব্যে মনে হয়েছে, তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে খামেনিকে হত্যার পর ইরানের সাধারণ মানুষ শাসনক্ষমতায় পরিবর্তন আনবে। অথচ বিবিসিকে একাধিক ইরানি বলেছেন, খামেনির পতন তারা চাইতেন, তবে মার্কিন হস্তক্ষেপ তারা মেনে নিতে পারছেন না। আবার, বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সংবাদে জানা যায়, গত ১৬ মার্চ ট্রাম্প দাবি করেন, উপসাগরীয় দেশগুলোয় ইরানের পাল্টা হামলা নিয়ে কেউ তাঁকে সাবধান করেনি। তবে একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্সের খবরে দাবি করা হয়, হামলা শুরুর আগে পেশ করা গোয়েন্দা মূল্যায়নে ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। এসব বিবেচনা করে অনেকে বলছেন, পুরো যুদ্ধটাই ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনার ফল।
বিশ্বের যে কোন দেশে, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে, একক ব্যক্তির ইচ্ছায় যুদ্ধে জড়িয়ে যাওয়া খুব একটা বাস্তবসম্মত নয়। বলা হয়ে থাকে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট যেই হোন না কেন, পররাষ্ট্রনীতির উদ্দেশ্য অপরিবর্তিত থাকে। সেটাই যদি হয়, তাহলে ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের একক ইচ্ছার ফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। সে ক্ষেত্রে সামগ্রিক সিদ্ধান্তেই যদি এ যুদ্ধ শুরু হয়, তবে এখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ঠিক কোন স্বার্থটা সিদ্ধি হয়?
কিছু সময়ের জন্য ট্রাম্পের ‘গুরু’ নিক্সনের দিকে ফেরা যাক। তাঁর আমলে ভিয়েতনাম যুদ্ধ হয়েছে। এই যুদ্ধে বিপরীত দিকে ছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীন। সবাইকে বাগে রাখতে অভাবনীয় চাল চালেন নিক্সন। সহকর্মীদের আদেশ দেন, তাঁকে যেন উন্মাদ হিসেবে প্রচার করা হয়। তাঁর এই কৌশলের একটা গালভরা নাম দিয়েছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা- ‘ম্যাড ম্যান থিওরি’ বা ‘পাগল তত্ত্ব’। এর মূলকথা হচ্ছে, প্রতিপক্ষকে নিজের মানসিক স্থিতি নিয়ে সন্দেহে রাখা। এতে পালটা কোনো ব্যবস্থা নেওয়া এবং হুমকিকে ফাঁপা বুলি মনে করে উড়িয়ে দেওয়ার আগে তারা দুবার ভাববে। ট্রাম্পের অসংলগ্ন কর্মকাণ্ডকে এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে সামগ্রিক বিষয়ের ভিন্ন অর্থ দাঁড়াতে পারে।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক উদ্ভট কাণ্ড ঘটিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প; ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়া, কানাডা-গ্রিনল্যান্ড-মেক্সিকো দখলে নেওয়ার হুমকি, দেদারসে শত্রু-মিত্র সবার ওপর গণহারে শুল্ক আরোপ। এসবের মধ্যেই চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্পের নির্দেশে সস্ত্রীক অপহরণ করা হয় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে। একটি দেশের প্রেসিডেন্টকে তাঁর দেশ থেকে তুলে আনার ঘটনা প্রায় অভাবনীয়। বৈশ্বিক বিহ্বল অবস্থার রেশ কাটতে না কাটতেই হামলা করা হয় ইরানে। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতা যাচাই করলে কিছু বার্তা দৃশ্যমান হয়। যেমন- (১) ধীরে ধীরে মার্কিন দাপটের মাত্রা বাড়িয়ে সবার প্রতিক্রিয়া যাচাই করা এবং (২) সবাইকে বার্তা দেওয়া যে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে আঘাত হানলে কেউই নিরাপদ নয়।
ইরানের বিষয়ে সাবেক মার্কিন কূটনীতিবিদ ব্রেট এইচ ম্যাকগার্ক সিএনএনের এক নিবন্ধে লিখেছেন, ‘ইরানের শাসকেরা বহু বছর ধরে বিশ্বাস করে এসেছেন যে, হরমুজের কারণে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হামলা চালাবে না। তবে ট্রাম্প সে ধারণা ভেঙে দিয়েছেন।‘ অর্থাৎ, ট্রাম্প প্রমাণ করছেন, স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘রেড লাইন’ বলে কিছু নেই।
প্রায় পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে মার্কিন হস্তক্ষেপের ঘটনা যাচাই করলে দেখা যায়, যারা পেট্রোডলার, অর্থাৎ মার্কিন ডলারে তেল কেনাবেচার বিকল্প পথে হাঁটার চেষ্টা করেছে, তারাই মার্কিন রোষের শিকার হয়েছে। তেল বাণিজ্যে ডলারের বিকল্প খুঁজতে গিয়েই ইরাকের সাদ্দাম হোসেন ও লিবিয়ার মুয়াম্মর গাদ্দাফির পতন হয়। ২০১৭ সালে ভেনেজুয়েলা ঘোষণা দেয়, ডলারের পাশাপাশি চীনা ইউয়ান ও রুশ রুবলেও তেল বাণিজ্য হবে। ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক চীন মূল্য পরিশোধ করত ইউয়ানে।
তবে ডলারের বিকল্প মুদ্রার ব্যবহার খুব বেশি নয়। বিশ্বজুড়ে ৫৪ থেকে ৮০ শতাংশ বাণিজ্য এখনো ডলারে সম্পন্ন হয়। তবে এসব ছোট ছোট বিরোধিতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেতের মতো। তাদের বৈশ্বিক আধিপত্যের অন্যতম ভিত্তি হচ্ছে ডলার। ইরান বা ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলো একাই এই ভিত্তি গুঁড়িয়ে দিতে না পারলেও তারা হয়তো অন্যদের এই পথে হাঁটতে আগ্রহী করে তুলতে পারে। তাই বিকল্প পন্থা গ্রহণের চেষ্টা করলেই তাকে শায়েস্তা করা মার্কিন কৌশলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আবার, গত এক বছরের ঘটনাপ্রবাহ যাচাই করলে দেখা যায়, ইরান যুদ্ধে জড়ানোর আগে ধাপে ধাপে নিজেদের পেশিশক্তির প্রদর্শনী বৃদ্ধি করে যুক্তরাষ্ট্র। শুল্ক থেকে শুরু করে ইরানের যুদ্ধ- প্রতিটি ঘটনায় প্রতিপক্ষ ও মিত্রদের অবস্থান যাচাইয়ের সুযোগ পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যেমন ইরান যুদ্ধে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেনি। অথচ মার্কিন হামলার কারণেই তারা ইরানের হামলার শিকার হয়েছে। আবার ইউরোপ ও এশিয়ার মার্কিন মিত্ররা ট্রাম্পের দাবি মেনে সামরিক সহায়তা পাঠায়নি। চীন ও রাশিয়া সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। জানুয়ারিতে মাদুরোর অপহরণেও তেমন কোনো কড়া প্রতিক্রিয়া পায়নি যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিতে এক জোট হয়ে বিরোধিতা করেছে ইউরোপ। কানাডা দখলের হুমকিতে তারা সামরিক বাজেট বৃদ্ধি করেছে। অর্থাৎ, গত এক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র যেন ধাপে ধাপে ক্ষমতা প্রদর্শন করে দেখে আসছে, কতটুকু চাপে কোন পক্ষ কী পরিমাণ প্রতিক্রিয়া জানায় এবং শত্রু মিত্র কে কোন অবস্থানে থাকে। কৌশলগতভাবে চিন্তা করলে, এই পর্যালোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর ইরান যুদ্ধ এই পর্যালোচনায় খুবই ফলপ্রসূ হওয়ার কথা।
আলোচনার শেষ ধাপে এসে আরেকবার নিক্সনের শরণাপন্ন হওয়া যাক। চীন ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ। একসময় সমাজতন্ত্রের ভিত্তিতে সখ্য গড়ে ওঠা দেশ দুটোর মধ্যে এই সমাজতন্ত্রেরই ভিন্ন মতবাদ নিয়ে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে। এই দূরত্বের ফায়দা নেওয়ার জন্য ভিন্ন ধারার কূটনৈতিক কৌশল ব্যবহার শুরু করেন তৎকালীন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও পরবর্তীতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রাজনীতিবিদ হেনরি কিসিঞ্জার। তাঁর সে কূটনৈতিক কৌশল পরে ‘ট্রায়াঙ্গুলার ডিপ্লোমেসি’ হিসেবে পরিচিতি পায়।
ট্রায়াঙ্গুলার ডিপ্লোমেসির প্রধান কৌশল হচ্ছে, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে কৌশলগত বা অর্থনৈতিক চুক্তি করে তার আধিপত্য কিছুটা হ্রাস করা এবং নিজের অবস্থান শক্তিশালী করা। কিসিঞ্জারের ভাষ্য অনুযায়ী, চীন ও সোভিয়েত একে অপরের সঙ্গে সুসম্পর্কে আবদ্ধ হওয়ার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের আলাদাভাবে গড়ে ওঠা মিত্রতার সম্পর্ক কৌশলগত দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো। অর্থাৎ, সবার সঙ্গে দ্বন্দ্ব ও মিত্রতার একটা ভারসাম্য বজায় রাখা।
ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডকে ঘিরে চীন ও রাশিয়ার অবস্থানও কী যুক্তরাষ্ট্রই নির্ধারণ করছে না? ইরান যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার তেল বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসনের জন্য বহুদিন ধরেই মার্কিন ও ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত রাশিয়া। এখন ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইউক্রেন যুদ্ধে অর্থায়নের যে সুযোগ এল, যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা করে তা নষ্ট করতে চাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা কি রাশিয়ার আছে? ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কড়া কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আবার ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পর্ক বিচ্ছেদের হুমকিতেও কিন্তু পরোক্ষভাবে লাভবান রাশিয়া। কারণ, এতে ইউরোপে তার বিরোধিতা করার কেউ থাকবে না। স্পষ্টতই রাশিয়া যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধিতা চায় না, তার প্রমাণ পাওয়া গেছে ইরান যুদ্ধে তাদের অবস্থান থেকেই। গোয়েন্দা তথ্য আর কিছু লজিস্টিকস সহায়তা দেওয়া ছাড়া ইরান যুদ্ধে সরাসরি জড়ায়নি রাশিয়া। অর্থাৎ, সিরিয়ায় যেমন রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের ছায়া যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, সেটা এবার হয়নি।
অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে চুপচাপ কাজ করে যাচ্ছে চীন। দেশটি ইরানের তেলের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। আবার সামনের মাসে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা। দুদেশের জন্যই এই বৈঠক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ বন্ধে চীনের যে আগ্রহের আভাস বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাতে পাওয়া যাচ্ছে, তাতে ধারণা করা যায়, তারাও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা চাচ্ছে। এর নেপথ্যে কি রয়েছে আসন্ন বৈঠকে কোনো বড় সুবিধা পাওয়ার আশা? যেটাই হোক, এটুকু নিশ্চিত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আপাতত বিবাদ চায় না চীন।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট আইজেনহাওয়ার বলেছিলেন, কোনো সংকট সামাল দিতে না পারলে, ব্যাপ্তি বড় করে দিন। আইজেনহাওয়ার যে উদ্দেশ্যেই কথাটি বলে থাকুন না কেন, ট্রাম্প আমলের যুক্তরাষ্ট্র সেটা আক্ষরিক অর্থেই নিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় বিশ্বব্যাপী হাঙ্গামা সৃষ্টি করছে। দিন শেষে এতে মার্কিন আধিপত্যের আয়ু আরেকটু বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেই আপাত প্রতীয়মান হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতার আগ্রহ দেখে অনেকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সূর্যাস্ত দেখে ফেলছেন। হতে পারে, ইরানের পাল্টা হামলার মাত্রা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্র আশা করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র যে কেবল এক ট্রাম্পের খামখেয়ালিতে এত বড় ‘ভুল’ করবে সেটা মনে হচ্ছে না। অবশ্য যদি শিগগিরই ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা সংকট, বাণিজ্য যুদ্ধ- এসব ইস্যুতে এমন সমাধান আসে, যা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে যায়- তবে কি যুক্তরাষ্ট্রের এহেন কর্মকাণ্ডকে কেবল খামখেয়ালি বলে উপসংহার টানা যাবে? নাকি বেশ যুক্তিসংগতভাবেই বলা যাবে যে যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট বুঝেশুনেই বেশ ঝুঁকিপূর্ণ একটা বাজি ধরেছিল? এই বাজি সফল হবে কিনা, সেটা নিশ্চিতভাবে বলার সময় এখনো আসেনি।
গত বছরের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার ছয় মাস পর ব্যাপক আন্দোলন হয়। এবারের যুদ্ধের পর ইরানের সরকার অনেকটাই দুর্বল তা তো নিশ্চিত। আবার, আগে থেকেই ভঙ্গুর অর্থনীতিও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবারও যদি কয়েক মাসের মধ্যে সরকারবিরোধী আন্দোলন হয় এবং দুর্বল হয়ে যাওয়া সরকার যদি সেটা সামাল দিতে না পারে? সে ক্ষেত্রে কি এবারের যুদ্ধ পুরোপুরি ব্যর্থ, নাকি মঞ্চ তৈরির আয়োজন?
তবে এটুকু নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, ট্রাম্পের চীন সফরের আগেই যদি শান্তি চুক্তি হয়ে যায় আর ইরান যদি হরমুজ থেকে শুরু করে পারমাণবিক ইস্যুতে নিজেদের পুরোনো জেদ থেকে সরে আসে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো এই বাজিতে জিতেই যাবে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স আগামীকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অবতরণ করবেন। হোয়াইট হাউসের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
৪ ঘণ্টা আগে
ইরান কি শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদের শান্তি বৈঠকে যোগ দেবে? তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের একটি সংক্ষিপ্ত শব্দবন্ধ—‘এখন পর্যন্ত’—পুরো বিষয়টিকে এক গভীর রহস্য ও নাটকীয়তার আবহে নিয়ে গেছে। মুখপাত্রের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এখন পর্যন্ত...দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য আমাদের কোনো পরিকল্পনা নেই।’
৫ ঘণ্টা আগে
ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের বিরোধিতার মুখে কট্টর ইসলামবিদ্বেষী মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার ভ্যালেন্টিনা গোমেজকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। আজ সোমবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
৫ ঘণ্টা আগে
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আপত্তিকর সংবাদ প্রকাশের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী দি আটলান্টিকের বিরুদ্ধে ২৫ কোটি মার্কিন ডলারের (প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা) মানহানি মামলা করেছেন এফবিআই পরিচালক ক্যাশ প্যাটেল। আজ সোমবার ওয়াশিংটনের একটি ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তিনি এই মামলা করেন।
৬ ঘণ্টা আগে