
দেশের অনেক জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে আবার চলছে লোডশেডিং। এতে দুর্ভোগে পড়েছে চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা। কোনো কোনো এলাকায় দিনে ১০-১২ বার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। লোডশেডিংয়ের কারণে প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত হচ্ছে পরীক্ষার্থীদের। আর তাই পরীক্ষার সময় লোডশেডিং কম দেওয়ার দাবি জানিয়েছে পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা।
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ভরসা এখন মোমবাতি ও চার্জার লাইট। কাউকে কাউকে মোবাইল ফোনের আলোতেও পড়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের রাথুরা গ্রামে গত শুক্রবার রাত সোয়া ১০টায় বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন মোমবাতি নিয়ে পড়ায় মন দেওয়ার চেষ্টা করে এসএসসি পরীক্ষার্থী রাবেয়া বশরী। কিন্তু শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছিল। জানতে চাইলে রাবেয়া বলে, ‘বিদ্যুৎ না থাকলে মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে পড়ি। কখনো কখনো মোবাইলের চার্জও শেষ হয়ে যায়।’
বিদ্যুতের গ্রাহকেরা জানান, মানিকগঞ্জ জেলার অনেক এলাকায় দিনে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। দিনে ১০-১২ বার বিদ্যুৎ আসা যাওয়া করে।
দৌলতপুর উপজেলার কাকনা গ্রামের পরীক্ষার্থী সজীব মিয়া বলে, পড়াশোনায় মন বসানো এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাসায় একটা পুরোনো আইপিএস আছে, কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের ভার সইতে পারে না। এক ঘণ্টা চলেই বন্ধ হয়ে যায়। এখন পড়ার সময়ের চেয়ে বিদ্যুৎ কখন আসবে আর কখন যাবে—সেই হিসাব করতেই বেশি সময় কেটে যায়।
লোডশেডিং থেকে বাঁচতে এলাকায় আইপিএস ও সৌর প্যানেলের ব্যবহার বেড়েছে। কিন্তু ভালোমতো চার্জ না হওয়ায় অনেকের আইপিএসও কাজ করছে না। ফলে মোমবাতি, মোবাইলের আলো এবং হারিকেনের ওপর ভরসা করছেন অনেকে।
মানিকগঞ্জ সদরের বারাহিরচর এলাকার অভিভাবক আফসার উদ্দিন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে পড়াশোনা লাটে ওঠে।
বানিয়াজুরী এলাকার এক শিক্ষার্থীর মা রুনা লায়লা বলেন, ‘রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে বাচ্চা পড়তে চায় না। আমরা চাই অন্তত পরীক্ষার এই কটা দিন যেন বিদ্যুৎ স্বাভাবিক থাকে।’
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম মুহাম্মদ মজিবুর রহমান জানান, মানিকগঞ্জ, ধামরাই ও সাভার জোনে ১৮৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও ১১৯ মেগাওয়াট পাওয়া যাচ্ছে।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জেও লোডশেডিংয়ের কারণে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে প্রভাব পড়ছে। এসএসসি পরীক্ষার্থী এইচ এম মাহিন ফয়সাল মুসা বলে, জন্মের পর থেকে বিদ্যুতের আলোতে পড়ে অভ্যস্ত। বিদ্যুৎ ছাড়া পড়তে সমস্যা হয়।
আরেক পরীক্ষার্থী তমালিকা রানী বলে, বারবার বিদ্যুৎ চলে যায় বলে বাবা নতুন চার্জার লাইট এনে দিয়েছেন। চার্জারের আলোতে পড়তে পারলেও গরমের কারণে পড়ার টেবিলে বসে থাকতে কষ্ট হয়।
সুন্দরগঞ্জে দিনে ৫-৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে জানিয়ে একজন পরীক্ষার্থীর মা মোছা. মাহফুজা আক্তার বলেন, ‘বাড়িতে বিদ্যুতের বিকল্প কিছু না থাকায় বিদ্যুৎ গেলেই বাচ্চা আর পড়ার টেবিলে থাকে না। পরীক্ষায় খারাপ করে কি না, তা নিয়ে চিন্তায় আছি।’
চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থাকায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ সুন্দরগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান।
লোডশেডিংয়ের কারণে ঠাকুরগাঁওয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে। কেউ মোবাইলের আলো, কেউ চার্জার লাইটের আলোয় পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তীব্র গরম তাদের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিয়েছে। সদরের জগন্নাথপুর এলাকার পরীক্ষার্থী ইভা মনি বলে, ‘বিদ্যুৎ চলে গেলে চার্জার লাইটই ভরসা। কিন্তু সেই আলোয় দুই-তিন ঘণ্টা পড়ার পর গরমে ঘেমে একাকার হয়ে যাই, মাথা ধরে যায়।’
আরেক পরীক্ষার্থী আহনাফ হোসেন বলে, মোবাইলের আলোতে পড়া একধরনের সংগ্রাম। এক হাতে মোবাইল, অন্য হাতে বই ধরে ঠিকমতো মনোযোগ দেওয়া যায় না।
লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাদের অভিভাবকেরাও। সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর এলাকার মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমার ছেলে ঠিকমতো পড়তে পারছে না। পরীক্ষার সময় এভাবে লোডশেডিং চলতে থাকলে ওদের ফলাফলে প্রভাব পড়বে।’
ঠাকুরগাঁও পৌরসভার নর্দান ইলেকট্রিসিটির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, পৌর এলাকায় ২১-২২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে ১০-১৫ মেগাওয়াট।
প্রচণ্ড গরম আর টানা লোডশেডিংয়ে কুমিল্লায়ও এসএসসি পরীক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। কুমিল্লা নগরীর সংরাইশ এলাকার বাসিন্দা লুৎফুন্নাহার বলেন, দিনে-রাতে মিলিয়ে ৮-১০ ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ থাকে না। চার্জার আছে, কিন্তু দুই ঘণ্টা পরই শেষ হয়ে যায়। এরপর বাচ্চা কীভাবে পড়বে? গরমে ওর মাথা ধরছে, ঘুমাতে পারছে না, শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে। রেইসকোর্স এলাকার রাশিদা জাহান লিপি বলেন, ‘এভাবে পড়াশোনা সম্ভব না। গরমে বাচ্চারা হাঁপিয়ে যাচ্ছে। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারে না, আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’
নোয়াখালীতে এসএসসি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা বলেছেন, লোডশেডিং চলতে থাকলে পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব পড়বে। সদর উপজেলার নেওয়াজপুরের পরীক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস বলে, দিনে প্রতি এক ঘণ্টা পর লোডশেডিং হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং হয় সন্ধ্যার পর থেকে। নোয়াখালী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রীতিলতা বলে, ঘন ঘন লোডশেডিং হওয়ায় প্রস্তুতি ঠিকমতো শেষ করা যাচ্ছে না।
কুষ্টিয়ায় গ্রামাঞ্চলে দৈনিক ১৫ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে লোডশেডিং হচ্ছে। সাঁওতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারজানা বলে, রাতে পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চার্জার ফ্যানও অকেজো হয়ে পড়ে।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ধরণীবাড়ি ইউনিয়নের দাখিল পরীক্ষার্থী রিফাত হাসান রনি বলে, দিনের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। সন্ধ্যায় পড়াশোনার মূল সময়টাতেই বিদ্যুৎ থাকে না। রৌমারী উপজেলার এসএসসি পরীক্ষার্থীর অভিভাবক শওকত আলী জানান, সারা দিনে ৪-৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের সদর উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের সুহিলা গ্রামের একটি ঘরে গিয়ে দেখা যায়, মোবাইলের আলোতে পড়াশোনা করছে দাখিল পরীক্ষার্থী সিয়াম আহমেদ। পাশে বসে মা বেতের তৈরি পাখা দিয়ে ছেলেকে বাতাস করছেন। তবুও শরীর থেকে ঘাম ঝরছে। সিয়াম জানায়, ‘দিনে রাতে মিলে ৪-৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। আমাদের আইপিএস বা অন্য কোনো ডিভাইস কেনার সামর্থ্য নেই।’
সিয়ামের মা শিল্পী আক্তার বলেন, ‘আমরা দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। আমাদের টাকা-পয়সা নাই, আমার দুই ছেলে দুই মেয়ে নিয়ে ৬ জনের সংসার। অনেক কষ্ট করে আমার বাবারে লেখাপড়া করাচ্ছি, এখন সিয়াম ঠিকমতো লেখাপড়া করতে পারছে না।’

সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সিলেটে হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১০ শিশু মারা গেল। আজ রোববার সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (পিআইসিইউ) জগন্নাথপুর থেকে আসা দেড় বছর বয়সী শিশু ওয়াজিহার মৃত্যু হয়।
৯ মিনিট আগে
বকেয়া পাওনা পরিশোধ, লে-অফ ঘোষণা বাতিল এবং বন্ধ সরকারি জুট মিল পুনরায় চালুর দাবিতে খুলনায় অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিকেরা। আজ রোববার দুপুরে নগরীর খালিশপুর এলাকায় দৌলতপুর জুট মিলের প্রধান ফটকের সামনে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করেন।
১১ মিনিট আগে
পুলিশ জানায়, সোহেল তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে টঙ্গীর বনমালা এলাকায় নিজ বাসায় বাস করছিলেন। রোববার সকালে সোহেলের মরদেহ রেললাইনে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ সাকিবের রক্তাক্ত মরদেহ বাসার মেঝে থেকে ও তার বাবা সোহেলের মরদেহ পার্শ্ববর্তী একটি রেললাইন থেকে উদ্ধার করে।
১৪ মিনিট আগে
নওগাঁর বদলগাছীতে শ্মশানঘাট থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের শ্মশানঘাটে স্থানীয় লোকজন গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই যুবককে দেখতে পান। পরে তাঁরা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে বদলগাছী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
১৭ মিনিট আগে