Ajker Patrika

যুক্তরাষ্ট্রে ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার কে এই হিশাম আবুঘারবিয়েহ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
যুক্তরাষ্ট্রে ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার কে এই হিশাম আবুঘারবিয়েহ
হিশাম আবুঘারবিয়েহ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মৃত্যু ও নাহিদা বৃষ্টির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে হিশাম সালেহ আবুঘারবিয়েহ। ২৬ বছর বয়সী এই মার্কিন নাগরিক লিমনের রুমমেট ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

হিশাম ২০২১ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ইউএসএফে ম্যানেজমেন্ট বিভাগে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা করেছেন। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের সময় তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিবন্ধিত কোনো শিক্ষার্থী ছিলেন না।

হিশামের অতীত রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তিনি এর আগেও বেশ কয়েকবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন। ২০২৩ সালে তাঁর বিরুদ্ধে দুবার পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ ওঠে। সে সময় তাঁর ভাই আদালতে হিশামের বিরুদ্ধে একটি স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেছিলেন। তাঁর ভাই জানিয়েছিলেন, হিশাম তাঁর মা এবং তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছেন। পরবর্তীতে আদালত হিশামকে ওই বাড়িতে প্রবেশে এবং ভাইয়ের ধারেকাছে ঘেঁষতে নিষেধ করে দেন।

সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর হাসিমের ভাই পুনরায় আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে দেন। ওই সময় হাশিমের ভাই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, সে ফিরে আসলে আবারও পরিবারে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

তবে আশ্চর্জজনক বিষয় হলো, হিশামকে গত শুক্রবার যে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটি তাঁর সেই পারিবারিক বাড়ি—যেখানে তাঁর প্রবেশে একসময় আদালতের নিষেধাজ্ঞা ছিল। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয় জানায়, ওই বাড়িতে পারিবারিক সহিংসতার খবর পেয়ে পুলিশ গেলে হিশাম নিজেকে ঘরের ভেতর অবরুদ্ধ করে রাখেন।

পরে সোয়াট টিম এবং মধ্যস্থতাকারীদের তলব করা হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বাড়ির সামনে একটি সাঁজোয়া যান মোতায়েনের পর হিশাম হাত তুলে আত্মসমর্পণ করেন।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন। তাঁর বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি (পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হত্যা ) হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে বলে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের (পুলিশ) কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, পুলিশ আবুঘারবিয়েহকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গতকাল শুক্রবার ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে।

যদিও এখন পর্যন্ত লিমনের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে খুনের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়নি, তবে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পরই লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস নিশ্চিত করেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন লিমন ও নাহিদা। লিমনের মরদেহ ট্যাম্পা বের হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে উদ্ধার করা হলেও নাহিদা বৃষ্টির এখনো কোনো হদিস মেলেনি। ফ্লোরিডা হাইওয়ে প্যাট্রোল এবং পিনেলাস কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়সহ একাধিক সংস্থা বর্তমানে নাহিদার খোঁজে সাগরে তল্লাশি চালাচ্ছে।

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত হৃদয়বিদারক’ বলে বর্ণনা করেছেন। লিমনের স্বপ্ন ছিল পিএইচডি শেষ করে দেশে ফিরে শিক্ষক হওয়া, কিন্তু এক চরম নৃশংসতার শিকার হয়ে তাঁর সেই স্বপ্নের অকাল মৃত্যু ঘটল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

৭ দিনের গণভোট প্রচারণার জন্য ১ কোটি টাকা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক: রিফাত রশিদ

দূরপাল্লার বাসযাত্রায় নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ, কোন রুটে কত বাড়ল

বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের জন্য মার্কিন অভিবাসী ভিসা স্থগিত

তেলপাম্পে মিছিল নিয়ে এসে ইউএনওর ওপর হামলা, অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা

জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলে কাজ করতে হবে: মির্জা ফখরুল

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত