Ajker Patrika

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে দুই ব্যাংকে আমানতকারীদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
আপডেট : ০৩ মে ২০২৬, ১৮: ৩৯
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে দুই ব্যাংকে আমানতকারীদের বিক্ষোভ
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে ব্যাংকের সামনে গ্রাহকদের বিক্ষোভ। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে দুই ব্যাংকের শাখায় আমানত ফেরত ও হেয়ারকাট (আমানতকারীদের মুনাফা বা মূলধনের একটি অংশ কেটে রাখা) প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ক্ষুব্ধ আমানতকারীরা।

আজ রোববার (৩ মে) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে অংশ নেন শতাধিক গ্রাহক। একপর্যায়ে তাঁরা ব্যাংকের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন।

সকালে ব্যাংক খোলার সময় বিক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসির স্থানীয় শাখায় প্রবেশ করে জমানো অর্থ ফেরতের দাবিতে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁরা কর্মকর্তাদের কক্ষ থেকে বের করে দেন এবং ব্যাংকের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁরা ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসির শাখার সামনে গিয়ে একই দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। বেলা ১টা পর্যন্ত চলা এ কর্মসূচিতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন বলেন, ব্যাংকে বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ গ্রাহকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

খাতুনগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।  ছবি: আজকের পত্রিকা
খাতুনগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ছবি: আজকের পত্রিকা

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আমানতকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ‘হেয়ারকাট’ প্রস্তাব বাতিল, স্বাভাবিক লেনদেন চালু ও জমানো অর্থ ফেরতের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন; কিন্তু এখনো কোনো কার্যকর সমাধান পাননি। তাঁদের দাবি, প্রায় দুই বছর ধরে বিভিন্ন শাখায় ঘুরেও তাঁরা নিজেদের জমানো অর্থ উত্তোলন করতে পারছেন না; বরং নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

একজন গ্রাহক জানান, তাঁর হিসাবে কোটি টাকার বেশি জমা থাকলেও প্রয়োজনের সময় সামান্য অর্থও তুলতে পারছেন না। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। আরেক আমানতকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নিরাপত্তার আশায় ব্যাংকে টাকা রেখেছিলাম, এখন সেই টাকা তুলতেই পারছি না। ব্যাংকে টাকা রাখা যেন অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

বিক্ষোভকারীরা আরও বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো আস্থা ও বিশ্বাস। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে সেই আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, আমানতের বিপরীতে প্রতিশ্রুত পূর্ণ লভ্যাংশও দেওয়া হচ্ছে না। দাবি পূরণ না হলে চট্টগ্রামে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সব শাখা বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।

ইউনিয়ন ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক কে এম আবু সায়েদ জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা ছাড়া বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রাহকদের সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে পাঁচটি ইসলামি ব্যাংকের সমন্বয়ে পরিচালিত কাঠামোর অধীনে রয়েছে বলে জানা গেছে।

ব্যাংকিং কার্যক্রমে চলমান এই অচলাবস্থায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ জরুরি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আইন অনুযায়ী নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভর্সিটিতে যুক্ত করা হবে

মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল অস্ত্র বিক্রির তোড়জোড় ট্রাম্পের, অন্যদিকে অবরোধ ভেঙে ইরান-ইরাক-সিরিয়া অক্ষের উত্থান

বুড়ো বয়সে আমাকে দেখার আশায় সন্তানকে বড় করিনি: অঞ্জন দত্ত

ইরান যুদ্ধে কারা হারল, জিত কাদের

কুমিল্লায় বিএনপি নেতাকে আটক করায় থানা ঘেরাও, সড়ক অবরোধ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত