Ajker Patrika

ফটিকছড়িতে বন্যায় ৩ নদীর ২৩ স্থানে ভাঙন, ঝুঁকিতে হাজারো বসতবাড়ি

 ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
ফটিকছড়িতে বন্যায় ৩ নদীর ২৩ স্থানে ভাঙন, ঝুঁকিতে হাজারো বসতবাড়ি
হালদা নদীর সুন্দরপুর এলাকায় ভাঙন। ছবি: আজকের পত্রিকা

সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হালদা, ধুরুং ও সর্তা নদীর ২৩টি স্থানে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদীতীর ভেঙে গেছে। এতে কৃষিজমি, গ্রামীণ সড়ক ও বেড়িবাঁধের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নদীভাঙনের মুখে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে এলাকার কয়েক হাজার বসতবাড়ি।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, হালদা নদীর হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের পাঠিয়ালছড়ি, নাজিরহাট পৌরসভার ফরহাদাবাদের চাঁদগাজী তালুকদার বাড়ি এবং নারায়ণহাট ইউনিয়নের উত্তর সুন্দরপুর এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, ধুরুং নদীর পাইন্দং ইউনিয়নের বেড়াজালির খয়রাতিপাড়া, ফটিকছড়ি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড এবং কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকায় নদীতীর ধসে পড়েছে। এ ছাড়া সর্তা নদীর খিরাম ইউনিয়নের হচ্চারঘাটের পূর্ব পাশ, মধ্যম খিরাম নুরনগরপাড়া, গোয়াজ মোহাম্মদ বাড়ির পূর্ব পাশ এবং প্রাচীন সমাধিখোলা এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভাঙনের কবলে পড়ে ইতিমধ্যে এসব এলাকার প্রায় ১০ একর কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীভাঙনের কারণে কৃষিজমি, বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও গ্রামীণ সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের বন্যায় ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকায় মোট ২ হাজার ৪২০ মিটার নদীতীর ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে হালদা নদীতে ১ হাজার ৯৫ মিটার, ধুরুং নদীতে ১ হাজার ২০৫ মিটার এবং সর্তা নদীতে ১২০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব অংশ সংস্কারে প্রায় ৯৮৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

সর্তা নদীর খিরাম ইউনিয়নের হচ্চারঘাটের পূর্ব পাশে ভাঙন দেখতে ছুটে আসে স্থানীয়রা। ছবি: আজকের পত্রিকা
সর্তা নদীর খিরাম ইউনিয়নের হচ্চারঘাটের পূর্ব পাশে ভাঙন দেখতে ছুটে আসে স্থানীয়রা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফরহাদাবাদ এলাকার ৮০ বছর বয়সী প্রবীণ বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, হালদা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড অস্থায়ীভাবে মেরামত করলেও প্রতিবছরই একই অবস্থার সৃষ্টি হয়। বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই আতঙ্কে থাকতে হয়, কখন বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়।

খিরাম এলাকার বাসিন্দা মন্টু নাথ বলেন, সর্তা নদীর ভাঙনের স্থায়ী সমাধান হলে এলাকার মানুষ অনেকটা নিরাপদে থাকতে পারত। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

হালদা নদীর অব্যাহত ভাঙনে নাজিরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ফরহাদাবাদের চাঁদগাজী তালুকদার বাড়ি ঝুঁকিতে। স্থানীয় বাসিন্দা কোরবানি আলী দুশ্চিন্তায়। ছবি: আজকের পত্রিকা
হালদা নদীর অব্যাহত ভাঙনে নাজিরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ফরহাদাবাদের চাঁদগাজী তালুকদার বাড়ি ঝুঁকিতে। স্থানীয় বাসিন্দা কোরবানি আলী দুশ্চিন্তায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

পাইন্দং ইউনিয়নের বাসিন্দা দৌলত মিয়া বলেন, ‘পাহাড়ি ঢলে ধুরুং নদীতে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এসে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিমাপ করেছে, এখন আমরা স্থায়ী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছি।’

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সোহাগ তালুকদার বলেন, ‘২০২৬ সালের বন্যায় ফটিকছড়ির হালদা নদী এবং ধুরুং ও সর্তা উপনদীর ২৩টি স্থানে প্রায় ২ হাজার ৪২০ মিটার বাঁধ ও নদীতীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২৫০ মিটার এলাকায় জরুরি সংস্কারকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট অংশ চলতি অর্থবছরের উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।’

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান, নদীভাঙনের বিষয়টি প্রশাসনের নিবিড় নজরদারিতে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর তথ্য সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। মানুষের জানমাল রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত