নতুন ঋণ কর্মসূচির আকার ও আর্থিক খাত সংস্কারের শর্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আলোচনায় বসছে বাংলাদেশ সরকার। ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক বৈঠকের ফাঁকে সাইডলাইনে এই আলোচনা হবে। নতুন কর্মসূচিতে ৪৫০ কোটি থেকে ৫০০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার বিষয়ে নেগোসিয়েশন হবে। সরকার আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে কর্মসূচিটি চূড়ান্ত করতে চায়।
তবে নতুন ঋণের আলোচনা এগোলেও আগের কর্মসূচির অসমাপ্ত সংস্কারগুলো আবারও সামনে আসছে। ব্যাংক খাত পুনর্গঠন, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা চাইতে পারে আইএমএফ।
এবারের নেগোসিয়েশনে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক নীতির কয়েকটি বিষয়েও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক। উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেও গত ৩০ জুন ঘোষিত মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার ১০ শতাংশ থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমানো হয়। অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে তা ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অথচ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখার ওপর আইএমএফ আগে থেকে জোর দিয়ে আসছে।
এ ছাড়া ঋণ পুনঃ তফসিল ও খেলাপিদের বিশেষ ছাড়, আমানত ও ঋণের সুদহারের ব্যবধানে ৪ শতাংশের সীমা আরোপ, বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক না হওয়া এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর সংস্কার নিয়েও মতপার্থক্যের ঝুঁকি রয়েছে। এসব পদক্ষেপের যৌক্তিকতা ও সংস্কারের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনায় ব্যাখ্যা দিতে হতে পারে বাংলাদেশকে।
এর আগে নতুন কর্মসূচির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গত জুলাইয়ে বাংলাদেশ সফর করে আইএমএফের প্রতিনিধিদল। সফর শেষে সংস্থাটি জানায়, দেশের ব্যাংক খাতে চাপ, দুর্বল রাজস্ব আহরণ ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এসব মোকাবিলায় রাজস্ব বাড়ানো, ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ, কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখা, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে নমনীয়তা এবং ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনার ওপর জোর দেয় তারা।
ফলে নতুন কর্মসূচিতে ঋণের পরিমাণের পাশাপাশি সংস্কারের শর্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। শেষ পর্যন্ত কর্মসূচি চূড়ান্ত হওয়া নির্ভর করবে সংস্কার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি কতটা সুনির্দিষ্ট এবং তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা কতটা বিশ্বাসযোগ্য হবে, তার ওপর।
ব্যাংক খাতেই বড় চ্যালেঞ্জ: নতুন কর্মসূচিতে ব্যাংক খাতের সংস্কার অন্যতম কঠিন বিষয় হতে পারে। দুর্বল ব্যাংকগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থা প্রকাশ, মূলধন ঘাটতি নিরূপণ এবং পুনর্গঠনের বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা চায় আইএমএফ। শুধু তারল্য সহায়তা দিয়ে সংকট সামাল না দিয়ে কোন ব্যাংক কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে, তারও স্পষ্ট রূপরেখা চাইতে পারে আমএমএফ। এ ক্ষেত্রে সময়সীমাবদ্ধ পদক্ষেপ নতুন কর্মসূচির শর্তে জায়গা পেতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন এ বিষয়ে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো আইএমএফ ইতিবাচকভাবে না-ও দেখতে পারে। তাঁর মতে, ঋণ পুনঃ তফসিলের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ কমার বদলে কাগজে-কলমে প্রকৃত চিত্র আড়াল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। দুর্বল ব্যাংকগুলোকে জরুরি তারল্য সহায়তা দেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে অঘোষিত নির্দেশনা থাকলেও তা আইএমএফের সংস্কার পরিকল্পনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
পুনঃ তফসিল ও বিনিময় হার: চলতি বছর ঋণ পুনঃ তফসিল, পুনর্গঠন ও এককালীন নিষ্পত্তির সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জুলাইয়ে চালু হওয়া ‘এক্সিট পলিসি’র আওতায় নির্দিষ্ট শর্তে এককালীন অর্থ পরিশোধ করে সুদের অংশে ছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যুক্তি, এতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে। তবে আইএমএফের উদ্বেগ হলো, দীর্ঘ মেয়াদে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধের প্রমাণ ছাড়া ঋণকে ভালো হিসেবে দেখালে ব্যাংকের প্রকৃত সম্পদের মান আড়াল হতে পারে।
রাজস্ব ও ভর্তুকিতে কঠিন সিদ্ধান্ত: ব্যাংক খাতের বাইরে রাজস্ব সংস্কারও নতুন কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভ্যাটের একক হার ১৫ শতাংশ করা হবে কি না, কোন কোন খাতের কর অব্যাহতি বহাল থাকবে এবং রাজস্ব ব্যবস্থার অটোমেশন কবে শেষ হবে—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা চেয়েছে আইএমএফ। করের আওতা বাড়ানো ও রাজস্ব আদায়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
বিদ্যুৎ ও সারের ভর্তুকি কমিয়ে ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে আনার বিষয়েও আগের কর্মসূচির অসমাপ্ত কাজ রয়েছে। এসব সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের সামনে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে রাজস্ব না বাড়লে উন্নয়ন ব্যয় ও সামাজিক সুরক্ষার প্রয়োজন মেটানো কঠিন হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘নীতি সুদহার কমানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে আইএমএফ প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এই অবস্থান সংস্থাটির কাছে তুলে ধরা হবে।’
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, আইএমএফ যেসব সংস্কারের তাগাদা দিয়েছে, সেগুলো ব্যাংক খাতের প্রকৃত উন্নয়নের জন্যও প্রয়োজন। নতুন কর্মসূচিতে সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে ব্যাংক খাতের সংস্কার।

দুর্বল পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে ১৬ হাজারের মতো কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার পরও নতুন করে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র ও জুনিয়র অফিসার পদে অন্য ব্যাংক থেকে ১৮ জনকে নিয়োগের পাশাপাশি নিরাপত্তা বিভাগে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা তিন দিন দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তবে ১৭ অক্টোবর (শনিবার) ব্যাংকগুলো স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী খোলা থাকবে
১২ ঘণ্টা আগে
ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগামী তিন মাস ব্যাংকের সব কার্যালয়, এটিএম বুথ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক স্থাপনায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংসের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
১৩ ঘণ্টা আগে
সিটিজেনস ব্যাংক পিএলসি এর ‘ত্রৈমাসিক বার্ষিক ব্যবসায়িক সম্মেলন-২০২৬’ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব আলমগীর হোসেন সভার সভাপতিত্ব করেন।
১৬ ঘণ্টা আগে