Ajker Patrika

ইরানে মার্কিন হামলার পর আরও ৩ শতাংশ বাড়ল তেলের দাম

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৬, ১০: ৩৫
ইরানে মার্কিন হামলার পর আরও ৩ শতাংশ বাড়ল তেলের দাম
ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড ওয়েল বা অপরিশোধিত তেলের দাম আজ বুধবার প্রায় ৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা এবং ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞার সাময়িক ছাড় (ওয়েভার) প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাজারে নতুন করে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গ্রিনিচ মান সময় আজ বুধবার ভোর ৪টা পর্যন্ত সেপ্টেম্বর ডেলিভারির (অর্থাৎ, যেসব তেলের জন্য এখই চুক্তি হবে কিন্তু সরবরাহ করা হবে সেপ্টেম্বরে) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭৬ দশমিক শূন্য ৭ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়, যা ২৩ জুনের পর সর্বোচ্চ। এর আগে যুদ্ধসংক্রান্ত উত্তেজনা কিছুটা কমে আসায় তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ে নেমে এসেছিল।

তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও সৌদি আরব ইরানকে দায়ী করেছে। এর পরপরই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক নাবিকদের পরিচালিত বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে তারা ইরানের বিরুদ্ধে ‘এক ধারাবাহিক শক্তিশালী হামলা’ শুরু করেছে, যাতে তেহরানকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে বাধ্য করা যায়।

যদিও তেহরান সরাসরি হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে ইরান এর আগে সতর্ক করেছিল যে তাদের অনুমোদন ছাড়া নির্ধারিত রুট ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এদিকে, মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট মঙ্গলবার গভীর রাতে ইরানি তেলের ওপর দেওয়া ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ছাড় প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানি তেল বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে পূর্বাঞ্চলীয় মান সময় রাত ১২টা ১ মিনিটের পর এসব লেনদেন আর বৈধ থাকবে না। একই সঙ্গে মঙ্গলবারের পর নতুন কোনো তেল ক্রয়, বিক্রয় বা জাহাজে তেল বোঝাইয়ের অনুমোদনও বাতিল করা হয়েছে।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি এই সিদ্ধান্তকে ১৭ জুন স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, তেহরান জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় ‘দৃঢ় পদক্ষেপ’ নেবে।

বাজার বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান আইজি অস্ট্রেলিয়ার জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নৌযান চলাচল ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে অস্পষ্ট ভাষা রাখা হয়েছিল। তাঁর মতে, প্রণালিটি আন্তর্জাতিক জলপথ নাকি আংশিকভাবে ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার অন্তর্ভুক্ত, সে বিষয়ে দুই দেশের মতপার্থক্য কখনোই পুরোপুরি দূর হয়নি।

গ্রাহকদের উদ্দেশে দেওয়া এক নোটে সাইকামোর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলা উত্তেজনার দ্রুত অবসান ঘটাবে, নাকি ইরান বৃহত্তর যুদ্ধ এড়িয়ে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে আরও পদক্ষেপ নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বাজারকে অস্থির রাখবে এবং আপাতত তেলের দামের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে।

এমএসটি মারকুইয়ের জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সল কাভোনিক বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি অব্যাহত থাকা এবং জরুরি তেল মজুত ছাড়ের কার্যক্রম কমে আসায় তেলের দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকতে পারে। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ইরান আগামী কয়েক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো করতে চাইছে, যা যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ক্রেতাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, এর ফলে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় ৫০ শতাংশেরও নিচে নেমে যেতে পারে এবং দীর্ঘ সময় ধরে মাঝেমধ্যে নতুন করে সংঘাত দেখা দিতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত