Ajker Patrika

পেঁয়াজের কেজি ১৫ রুপি, দাম বেঁধে দিল ভারত সরকার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
পেঁয়াজের কেজি ১৫ রুপি, দাম বেঁধে দিল ভারত সরকার
ছবি: সংগৃহীত

ভারতে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে কৃষকদের চলমান তীব্র আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ১৫ রুপি নির্ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস।

তবে এই মূল্য নির্ধারণের পরও অসন্তোষ কমেনি। বিরোধীরা এই সিদ্ধান্তকে অপর্যাপ্ত আখ্যা দিয়েছে, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবিস বিরোধীদের এই আন্দোলনকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘ছবি তোলার মওকা’ বলে অভিহিত করেছেন।

একই সঙ্গে, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জের ধরে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে তেল মজুত করার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুম্বাইয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস দাবি করেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন মহাযুতি সরকার কৃষকদের প্রতি অত্যন্ত সহনশীল।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৩ দশমিক ৫ রুপি বাড়িয়ে ১৫ রুপি নির্ধারণ করেছে। এই সমস্যার একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছি।’

বিরোধী শিবিরের আন্দোলনের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু মানুষ কেবল রাজনীতি করছে এবং ফটো সেশনের সুযোগ খুঁজছে। তাদের নিজেদের আমলে পেঁয়াজের দাম কেমন ছিল তা কারও অজানা নয়। এটি শতভাগ রাজনৈতিক আন্দোলন। পেঁয়াজ কাটার পরও যাদের চোখ দিয়ে পানি পড়ে না, তারা এখন কৃষকদের জন্য মায়াকান্না কাঁদছে।’

মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধীরা। নাসিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি-শারদ পাওয়ার) দলের বিধায়ক রোহিত পাওয়ার দাবি করেন, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়।

তিনি বলেন, ‘কৃষকেরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। আমাদের কাছে অনুরোধ জানানোর সময় তাঁদের চোখ অশ্রুসজল ছিল। ফসলের সঠিক মূল্য না পেয়ে অনেক কৃষক ইতিমধ্যে ঋণের দায়ে আত্মহত্যা করেছেন। অনেকে তাঁদের সন্তানদের স্কুলের বেতন ও চিকিৎসার খরচ পর্যন্ত দিতে পারছেন না।’

সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস মহারাষ্ট্রে পেট্রল ও ডিজেলের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ায় বিশ্বব্যাপী যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে। গত দুই সপ্তাহে দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ৭ রুপিরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে স্থানীয় বাজারে তেলের চাহিদা হঠাৎ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে জ্বালানি মজুত করা শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে পেট্রলের চাহিদা ২৩ শতাংশ এবং ডিজেলের চাহিদা রেকর্ড ৫২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংকট মোকাবিলায় কোনো কোনো স্থানে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

ফড়নবিস সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে যারা জ্বালানি তেল মজুত করছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও সরবরাহ বিভাগকে দ্রুত এই মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত