Ajker Patrika

ঈদে অনলাইন কেনাকাটায় নতুন রেকর্ড

দুই ঈদে ২ কোটি অর্ডার

অর্চি হক, ঢাকা 
আপডেট : ২৫ মে ২০২৬, ১৩: ৫৪
ঈদে অনলাইন কেনাকাটায় নতুন রেকর্ড
ছবি: সংগৃহীত

দেশে ঈদকেন্দ্রিক কেনাকাটায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার এবার নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ই-কমার্স ও এফ-কমার্স মিলিয়ে অর্ডারের সংখ্যা দুই কোটি ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল কোরবানির হাট বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও অ্যাগ্রোভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পশু বিক্রি ও কোরবানি-সেবা চালু আছে।

সেন্টার ফর ডিজিটাল কমার্স রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির (সিডিসিআরএ) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ই-কমার্স বাজারের আকার ৬০ হাজার থেকে ৬৫ হাজার কোটি টাকা; যা দেশীয় খুচরা অর্থনীতির ১২ থেকে ১৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। এর বড় অংশই উৎসবকেন্দ্রিক কেনাকাটা থেকে আসে। চলতি ঈদ মৌসুমে দেশের ই-কমার্স বাজারে ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এ বছর দুই ঈদ মিলিয়ে মূলধারার ই-কমার্স সাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক এফ-কমার্স প্ল্যাটফর্মে অর্ডারের সংখ্যা দুই কোটি ছাড়িয়েছে; যা এর আগের যেকোনো ঈদ মৌসুমের তুলনায় বেশি।

ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের সংগঠন ই-ক্যাবের (ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) জেনারেল ম্যানেজার ও হেড অব সেক্রেটারিয়েট এস এম ইকরামুল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে আমাদের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, এবার অর্ডারের পরিমাণ অনেক বেশি। এযাবৎকালের সর্বোচ্চ বলা যেতে পারে। অনেকের স্টক ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।’

২০০৯ সালের দিকে বাংলাদেশে ই-কমার্সের যাত্রা শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ২০১২-১৩ সাল থেকে এই খাতে গতি আসে। আর করোনার লকডাউনের কারণে ২০২০ সালের পর থেকে ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই এই খাতে ঝুঁকতে শুরু করেন। এরপর থেকে ডিজিটাল পেমেন্ট এবং লজিস্টিক সেবা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ায় ডিজিটাল কমার্স খাতে প্রায় প্রতিবছর বিক্রি বাড়ছে।

ই-কমার্স উদ্যোক্তা ও বিশ্লেষক সোহেল মৃধা বলেন, ঈদে অনলাইন কেনাকাটা আর শহরকেন্দ্রিক নেই। শুধু বড় শহর নয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকেও বিপুলসংখ্যক অর্ডার আসছে। ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গরম আবহাওয়া, যানজট ও বৈরী পরিবেশের কারণে অনেকে এখন বাইরে না গিয়ে ঘরে বসে অর্ডার করছেন।

সোহেল মৃধা জানান, এবারের ঈদে অনলাইন কেনাকাটা করেছেন ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ গ্রাহক। ঈদের আগের শেষ দুই সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ পণ্য ডেলিভারি হচ্ছে, যা সাধারণ সময়ের তুলনায় প্রায় ৩ গুণ বেশি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ঈদুল আজহা পশুর কোরবানির ঈদ হলেও অনলাইনে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে পোশাক ও ফ্যাশন-সংশ্লিষ্ট পণ্য। মোট অর্ডারের প্রায় অর্ধেকই পোশাক, জুতা ও কসমেটিক পণ্য। এর পাশাপাশি ইলেকট্রনিক পণ্য এবং বিভিন্ন হোম ডেকর ও হোম অ্যাপ্লায়েন্সের বিক্রিও বেড়েছে।

এদিকে ২০২০ সালে সরকারি উদ্যোগে অনলাইনে কোরবানির পশু কেনাবেচা শুরু হয়। ওই বছর ২৭ হাজার পশু বিক্রি হয়েছিল। পরের বছর সেটি বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৮৭ হাজারে। এরপর ২০২২ সালে বিক্রি হয় ৭০ হাজার ৫৭০টি, ২০২৩ সালে ৫৬ হাজার ৮২১টি আর সর্বশেষ ২০২৪ সালে ডিজিটাল হাটে ৫০ হাজার ৯৩৩টি পশু বিক্রি হয়। এরপর গত ঈদুল আজহায় এই হাটের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এ বছরও এই হাট বন্ধ রয়েছে।

ই-ক্যাব বলছে, সরকারি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল হাট বন্ধ থাকলেও অনলাইনে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বিক্রি জমজমাট। পুরোনো অ্যাগ্রো ফার্মগুলোর পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তারাও এবার আশাতীত সাড়া পাচ্ছেন। তবে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, বাজার বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়ছে। ভুয়া অর্ডার ও ফেইক পেজের কারণে ছোট উদ্যোক্তারা বড় ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত