Ajker Patrika

১০০ ডলারের ওপরে অপরিশোধিত তেল, বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন শঙ্কা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
১০০ ডলারের ওপরে অপরিশোধিত তেল, বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা কাটেনি। এই অবস্থায় গতকাল শুক্রবারও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে স্থির ছিল। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগে বিশ্ব শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত ছিল।

সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানোয় দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার আশঙ্কা জোরদার হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, এ সংকট মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতির গতি আরও মন্থর করতে পারে।

দিনের লেনদেনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক মানদণ্ড অপরিশোধিত তেলের দাম সাময়িকভাবে ১০০ ডলারের নিচে নামলে শেয়ারবাজারে অল্প সময়ের জন্য ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। তবে পরে দাম আবার বেড়ে গেলে বাজার ফের নিম্নমুখী হয়ে পড়ে। দিনশেষে ব্রেন্টের মূল্য দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ১৪ ডলার। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত দাম বেড়েছে ৪২ শতাংশেরও বেশি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানকে লক্ষ্যবস্তু করার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে তেহরান গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান এই পথ দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবাহিত হয়। ফলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়।

ফরেক্স. কমের সঙ্গে যুক্ত বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেন, অস্থির এক সপ্তাহের শেষে এসে বাজারের গতিপথ এখনো তেলের দামের ওপরই নির্ভর করছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত অবসানের কোনো লক্ষণ নেই। ফলে বাজারে চাপ অব্যাহত রয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমাতে পারে—এমন পূর্বাভাস ছিল জোরালো। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা বা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ প্রান্তিকের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, প্রবৃদ্ধি আগের ১ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে সংশোধিত হয়ে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছে। এ ছাড়া বিলম্বিত প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের পছন্দের মূল্যস্ফীতি সূচক জানুয়ারিতে কমে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৮ শতাংশে। যদিও এটি ফেডের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি এবং জ্বালানির দাম বাড়ার আগের সময়ের প্রতিফলন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত