Ajker Patrika

সোনার বাজার: ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বাধিক দরপতন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৬, ১৫: ৩৪
সোনার বাজার: ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বাধিক দরপতন
ফাইল ছবি

ইরান যুদ্ধের প্রভাব যেন পড়েছে বৈশ্বিক সোনার বাজারেও। বৈশ্বিক সোনার বাজারে দর আজ সোমবার ৫ শতাংশের বেশি কমে ২০২৬ সালের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে নেমে এসেছে। প্রায় ৪৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ সাপ্তাহিক পতনের পর এই ধস দেখা দিল। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তীব্র হওয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে এবং বিশ্বজুড়ে সুদের হার বাড়তে পারে এমন প্রত্যাশাও জোরালো হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গ্রিনিচ মান সময় আজ সকাল ৬টা ৩৩ মিনিট পর্যন্ত স্পট মার্কেটে (যেসব সোনা তাৎক্ষণিকভাবে বিক্রি করা হবে এবং নিটক ভবিষ্যতেই এর ডেলিভারি দেওয়া হবে) সোনার দাম ৫ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২২৬ দশমিক ১৬ ডলারে দাঁড়ায়, যা ১১ ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন। টানা নবম দিনের মতো পতন অব্যাহত ছিল আজ।

গত সপ্তাহে এই মূল্যবান ধাতুর দাম ১০ শতাংশের বেশি কমেছে, যা ১৯৮৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতন। ২৯ জানুয়ারি প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৫৯৪ দশমিক ৮২ ডলারের রেকর্ড উচ্চতা থেকে সোনা ইতিমধ্যে ২০ শতাংশেরও বেশি নেমে এসেছে। এপ্রিল ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সোনার ফিউচার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২৩১ দশমিক ৮০ ডলারে নেমে এসেছে।

বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ইরান সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে গড়ানোর পাশাপাশি তেলের দাম ১০০ ডলারের আশপাশে থাকায় সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা সরে গিয়ে এখন বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে আয়ের সুযোগ না থাকা সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ কমে গেছে।

গতকাল রোববার ইরান জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করলে প্রতিশোধ হিসেবে তারা উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি ও পানি অবকাঠামোতে আঘাত হানবে।

এর প্রভাবে এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতেও শেয়ারের দাম পড়ে যায় এবং তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১১০ ডলারের অনেক ওপরে স্থির থাকে। ওয়াটারার আরও বলেন, উচ্চ তারল্যই এখন সোনার জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঝুঁকি এড়ানোর এই সময়ে শেয়ারবাজারে পতনের কারণে বিনিয়োগকারীরা অন্য সম্পদের মার্জিন কল মেটাতে সোনার অংশ বিক্রি করে দিচ্ছেন।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম উঁচু অবস্থায় রয়েছে। এতে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা জোরদার হচ্ছে। সাধারণত মূল্যস্ফীতি বাড়লে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়ে, কিন্তু উচ্চ সুদের হার সুদবিহীন এই সম্পদের চাহিদা কমিয়ে দেয়।

ফিচ সলিউশন্সের একটি ইউনিট বিএমআই বলেছে, নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিনিয়োগ থেকে সরে গিয়ে বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রবণতাভিত্তিক অবস্থান নেওয়ার ঝোঁক বাড়লে সোনার দর আরও নিচে নামার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদ কমানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়াই এখন বাজারের প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

সিএমইর ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে এমন বাজার প্রত্যাশা বেড়েছে। ২০২৬ সালের শেষে সুদ কমানোর চেয়ে বাড়ার সম্ভাবনাই এখন বেশি দেখা যাচ্ছে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও তীব্রভাবে কমেছে। স্পট রুপা ৮ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬১ দশমিক ৭৬ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনাম ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৪৯ দশমিক ৩১ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৩০ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বিশ্ববাজারে কেন সোনা-রুপার দাম কমছে, আরও কত কমবে

‘রাফার আব্বু তুমি আমারে মাফ করিয়া দিয়ো’

‘ইরানের বিনাশ নিশ্চিত’, এরপর দেশের ভেতরেই প্রধান শত্রু খুঁজে পেয়েছেন ট্রাম্প

বিদ্যুৎ-জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা করলে যেভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে ইরান, তালিকা দিল আইআরজিসি

ইরান যুদ্ধ: কোন দেশগুলোর অর্থনীতি সর্বাধিক ক্ষতির মুখে, নাজুক অবস্থানে কারা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত