
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এ সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ঝুঁকি এড়াতে বিনিয়োগকারীরা এখন তাঁদের পুঁজি নিরাপদ সম্পদে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত।
সাধারণত সংকটকালীন ঝুঁকি মোকাবিলায় বিনিয়োগকারীদের প্রথম পছন্দ থাকে সোনা কিংবা মার্কিন ডলার। তবে এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। প্রথাগত এই সম্পদগুলোকে পেছনে ফেলে অন্য একটি সম্পদের দিকে ঝুঁকেছেন বিনিয়োগকারীরা। যার ফলে এর দামও বেড়ে গেছে অস্বাভাবিক হারে। সেটি হলো বিটকয়েন।
ইনভেস্টোপিডিয়ার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর বিটকয়েনের (BTC USD) দাম ৭২ হাজার ডলারের ঘর ছাড়িয়ে গেছে। তেল ও শেয়ারবাজারে তীব্র ওঠানামার মধ্যেই বিটকয়েনের এ উত্থান বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
যদিও ১০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি খুব বেশি মনে নাও হতে পারে, তবে যুদ্ধের অনিশ্চয়তার মধ্যে বিটকয়েনের এই উত্থান একে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। কারণ, এতদিন বিটকয়েনে বিনিয়োগকে ঝুঁকিপূর্ণ বলেই ধরা হতো এবং এর আগে কোনো সংকটে এটি ‘নিরাপদ সম্পদ’ হিসেবে পারফর্ম করেনি।
এ বিষয়ে ‘আইএনআরগ্রিড স্টেবল’-এর প্রতিষ্ঠাতা অনুজ চৌধুরী বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের কারণে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিটকয়েনের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। এটি সোনা ও মার্কিন ডলার—দুটোকেই ছাড়িয়ে গেছে, যা সংকটকালে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। প্রচলিত নিরাপদ সম্পদের মতো বিটকয়েন শুধু ধরে রাখার বিষয় নয়; এটি ব্যাংক বা সরকারি অবকাঠামো ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থানান্তর করা যায়। যখন পুঁজি নিয়ন্ত্রণ কঠোর হয় এবং অনিশ্চয়তা বাড়ে, তখন এই গতিশীলতাই এর বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ায়।’
ইরান যুদ্ধের উত্তাপ না কমায় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সির দিকে ঝুঁকছেন। তবে বিটকয়েন সোনার মতো নিরাপদ বিনিয়োগ বা ঝুঁকি মোকাবিলার হাতিয়ার হতে পারে কি না, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সাম্প্রতিক বিনিয়োগের ধারা বলছে, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিটকয়েনে বিনিয়োগ বাড়ছে।
ইনভেস্টোপিডিয়া ও ফারসাইড ইনভেস্টরসের তথ্যমতে, ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে আইশেয়ার্স বিটকয়েন ট্রাস্ট এবং ফিডেলিটি ওয়াইজ অরিজিন বিটকয়েন ফান্ডের মতো বিটকয়েন সংশ্লিষ্ট ফান্ডগুলোতে ১.১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ জমা হয়েছে।
অনুজ চৌধুরী আরও যোগ করেন, ‘বিটকয়েনের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা (সেলফ-কাস্টডি) আর্থিক নিরাপত্তার ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। সোনা বাজেয়াপ্ত করা যেতে পারে, মুদ্রা জব্দ করা যেতে পারে, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। কিন্তু নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে রাখা বিটকয়েন মালিকের কাছেই থেকে যায়, তার অবস্থান বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন। এই সার্বভৌমত্ব, সীমান্তহীন স্থানান্তরযোগ্যতা এবং স্থিতিস্থাপকতাই বিটকয়েনকে বর্তমানের খণ্ডিত বিশ্বে একটি নতুন যুগের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।’
উল্লেখ্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত কিংবা কোভিড-১৯ মহামারির মতো বড় সংকটের সময়ও বিটকয়েনের লেনদেন বাড়তে দেখা গেছে। ফলে অনেক বিনিয়োগকারী আর্থিক বাজারে বিটকয়েনকে একটি নমনীয় অবস্থানে দেখছেন। এর ভূমিকা মূলত বিনিয়োগকারীদের মনোভাব এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়।
তবে অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ মনে করেন, বিটকয়েনকে এখনো পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ধরা ঠিক নয়। যেহেতু কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বিটকয়েন কেনে না, তাই রিজার্ভ সম্পদ হিসেবে এর ভূমিকা সীমিত। অন্যদিকে, বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো গত কয়েক বছরে তাদের সোনার মজুত বাড়িয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে সংঘাতের সময় সোনার দাম অন্য সব সম্পদকে ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু ইরান যুদ্ধের সময় সোনার দামে তেমন বড় উত্থান দেখা যায়নি। যুদ্ধের এক সপ্তাহ পর সোনার দাম প্রতি আউন্স ৫,৩২৭.৪২ ডলারে পৌঁছালেও বর্তমানে তা ৫ হাজার থেকে ৫ হাজার ২০০ ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে।
এর প্রধান কারণ মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান। ডলারের মান বাড়লে অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য সোনা কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, যার ফলে এর চাহিদা কমে যায়। এ ছাড়া তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়লে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমে যায়। আর সুদের হার বেশি থাকার পূর্বাভাস থাকলে বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনা তুলনামূলক কম আকর্ষণীয় হয়ে পড়ে।

দেশের আমদানি বাজারে গতি ফিরছে—কিন্তু সেই গতি এখনো বিনিয়োগে পৌঁছায়নি। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নতুন আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ। অথচ এলসির বিপরীতে পণ্য এনে মূল্য পরিশোধের প্রবৃদ্ধি থেমেছে প্রায় শূন্যে।
৩ ঘণ্টা আগে
ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগে চালু হওয়া ‘বাংলা কিউআর’ দ্রুত নগদ অর্থের বিকল্প হয়ে উঠছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে একক কিউআর ব্যবস্থায় আসার পর ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা একই কিউআর দিয়ে অর্থ পরিশোধ করতে পারছেন।
৩ ঘণ্টা আগে
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ৫৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া আগের ঋণ পরিশোধ করেছে সাড়ে ৪৮ হাজার কোটি টাকা। ফলে সরকারের নিট ব্যাংকঋণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে
৩ ঘণ্টা আগে
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানকে বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আবদুর রহমানের অভোগ কর অবসরোত্তর ছুটি ও এ-সংক্রান্ত সুবিধা স্থগিত করে তিন বছরের জন্য তাঁকে ওই পদে চুক্তিতে নিয়োগ দিয়ে আজ রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
১০ ঘণ্টা আগে