
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের লড়াইয়ে জ্বালানি তেলের দামে উত্থান-পতন লেগেই আছে। পুনরায় এ সংঘাত তীব্রতর হওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় তেলের দাম ফের ঊর্ধ্বমুখী।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পেট্রলের গড় খুচরা দাম আবারও গ্যালনপ্রতি ৪ ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৮৮ টাকা) পৌঁছেছে। অর্থাৎ প্রতি লিটার প্রায় ১২৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ)–এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দেশটিতে পেট্রলের গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলারের সামান্য বেশি হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর এক মাস পর, গত ৩১ মার্চ প্রথমবারের মতো পেট্রলের দাম ৪ ডলারের সীমা পার করেছিল।
যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ছিল ২ দশমিক ৯৮ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৬৪ টাকা)। কিন্তু সংঘাতের পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হু হু করে বাড়তে থাকে এর দাম।
মে মাসের শুরুর দিকে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ গ্যালনপ্রতি ৪ দশমিক ৫৬ ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫৫৬ টাকা) দাঁড়ায়। পরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যৌথ আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ খুলে দেওয়া এবং পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর চলাচলের সম্ভাবনা তৈরি হলে দাম কিছুটা কমতে শুরু করে।
আলোচনার প্রেক্ষিতে গত ১৪ জুন দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করলে কয়েকদিন পরই পেট্রলের দাম ৪ ডলারের নিচে নেমে আসে।
তবে পরে হরমুজ প্রণালি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা জাহাজগুলোর ওপর ইরান নতুন করে হামলা শুরু করলে এবং এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করলে পাম্পে পেট্রলের দাম আবার বাড়তে শুরু করে। গত এক সপ্তাহে গড় দাম প্রায় ১৩ সেন্ট (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৬ টাকা) বেড়েছে।
পেট্রোলিয়াম পণ্যের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে। জুনের শুরুর পর আজ সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এই প্রথম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। গত এক সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ। অন্যদিকে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম এ মাসে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২ ডলার বেড়েছে।
এদিকে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির এই উচ্চ মূল্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টির জন্য নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক রাজ্যে এখনো প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ৪ ডলারের নিচে। ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে দাম সবচেয়ে কম, গড়ে গ্যালনপ্রতি ৩ দশমিক ৩৫ ডলার। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া সবচেয়ে ব্যয়বহুল, যেখানে গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৫ দশমিক ৪৯ ডলার। আর ওয়াশিংটন ও হাওয়াইতেও গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৫ ডলারের বেশি।
স্বাধীন তেলবাজার বিশ্লেষক ও গালফ অয়েল–এর উপদেষ্টা টম ক্লোজার মতে, পেট্রলের দাম শিগগিরই কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। সাম্প্রতিক সময়ে ফিউচার মার্কেটে পেট্রলের দরবৃদ্ধি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আগামী সপ্তাহে এর দাম আরও ১০ থেকে ২৫ সেন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে। তিনি বলেন, ‘এটা কার্যত নিশ্চিত।’
টম ক্লোজা আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি ফের বন্ধ হয়ে যাওয়াই দামের ঊর্ধ্বগতির একমাত্র কারণ নয়। পাশাপাশি রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলাও এখানে বড় ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, ‘রাশিয়াকে এখন পেট্রল আমদানি করতে হচ্ছে। অথচ বহু বছর ধরে দেশটি পেট্রল রপ্তানিকারক ছিল। এতে পরিশোধিত জ্বালানি–পণ্যের ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর আমরা দেশে যতই পেট্রল উৎপাদন করি না কেন, এটি শেষ পর্যন্ত একটি বৈশ্বিক বাজার।’
ক্লোজা আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রে এখন বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সড়কপথে ভ্রমণের মৌসুম (পিক ড্রাইভিং সিজন) চলছে এবং পেট্রলের চাহিদাও রয়েছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। ফলে ‘লেবার ডে’ (সেপ্টেম্বরের প্রথম সোমবার) পর্যন্ত এই বাড়তি চাহিদা দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ বজায় রাখবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়াল যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তখন বিশ্লেষকেরা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন—অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার, এমনকি ২০০ ডলার পর্যন্তও পৌঁছাতে পারে।
২১ মিনিট আগে
চলতি অর্থবছরের জন্য রেকর্ড ৩ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ঘোষণা করেছে সরকার। জাতীয় বাজেটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উন্নয়ন বাজেটের আকার, কিন্তু বাড়ছে না বাস্তবায়নের সক্ষমতা। বরং এডিপি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ এখন শুধু ভারত বা ভিয়েতনামের তুলনায় নয়, নেপাল ও ভুটানের মতো ছোট অর্থনীতি
৯ ঘণ্টা আগে
প্রতিবছর দেশের শ্রমবাজারে যোগ হচ্ছে প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ। এই বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী উন্নয়নের সবচেয়ে বড় শক্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শিল্পের প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী মিলছে না, আবার শিক্ষিত তরুণদের একটি অংশও কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারছে না।
৯ ঘণ্টা আগে
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিদিন হাজারো ফ্লাইট পরিচালনা করছে শতাধিক এয়ারলাইনস। যাত্রীদের কাছে প্রতিটি এয়ারলাইনস আলাদা ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত হলেও এগুলোর বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে হাতে গোনা কয়েকটি অ্যাভিয়েশন গ্রুপ। এক ছাতার নিচে একাধিক ফুল সার্ভিস ও লো-কস্ট...
১৭ ঘণ্টা আগে