
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিদিন হাজারো ফ্লাইট পরিচালনা করছে শতাধিক এয়ারলাইনস। যাত্রীদের কাছে প্রতিটি এয়ারলাইনস আলাদা ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত হলেও এগুলোর বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে হাতে গোনা কয়েকটি অ্যাভিয়েশন গ্রুপ। এক ছাতার নিচে একাধিক সব ধরনের সেবা ও স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইনস পরিচালনার এই কৌশল শুধু নিজ দেশের বাজার নয়, পুরো আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন শিল্পে এক নতুন প্রভাববলয় তৈরি করেছে।
বর্তমানে ইউরোপ, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও উত্তর আমেরিকার বেশির ভাগ বড় এয়ারলাইনস কোনো না কোনো অ্যাভিয়েশন গ্রুপের অংশ। এই করপোরেট কাঠামো কীভাবে কাজ করছে ও কারা এর নেতৃত্বে রয়েছে, তার একটি বিস্তারিত চিত্র নিচে দেওয়া হলো—
লুফথানসা গ্রুপ (জার্মানি): ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ এয়ারলাইনস হোল্ডিং কোম্পানি হিসেবে পরিচিত এই গ্রুপ লুফথানসা, সুইস, অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনস, ব্রাসেলস এয়ারলাইনস, ইউরোউইংস ও ইটা এয়ারওয়েজ পরিচালনা করছে।
ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস গ্রুপ (আইএজি): যুক্তরাজ্য ও স্পেনভিত্তিক এই গ্রুপ ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, আইবেরিয়া, এর লিঙ্গাস, ভুয়েলিং এবং লেভেল ব্র্যান্ডের মাধ্যমে বিশাল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে।
এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম গ্রুপ: এই গ্রুপের অধীনে এয়ার ফ্রান্স, কেএলএম, ট্রান্সাভিয়া ফ্রান্স ও ট্রান্সাভিয়া নেদারল্যান্ডসের মতো নামকরা এয়ারলাইনসগুলো সেবা দিচ্ছে।
এয়ারএশিয়া অ্যাভিয়েশন গ্রুপ: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বাজেট এয়ারলাইনস হিসেবে এয়ারএশিয়া মালয়েশিয়া, থাই এয়ারএশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এয়ারএশিয়া, এয়ারএশিয়া ফিলিপাইনস ও এয়ারএশিয়া কম্বোডিয়া পরিচালনা করে গ্রুপটি।
লায়ন এয়ার গ্রুপ (ইন্দোনেশিয়া): লায়ন এয়ার, বাটিক এয়ার, সুপার এয়ার জেট, উইংস এয়ার, থাই লায়ন এয়ার ও বাটিক এয়ার মালয়েশিয়া নিয়ে গঠিত হয়েছে এই বিশাল অ্যাভিয়েশন হাব।
রায়ানএয়ার হোল্ডিংস (আয়ারল্যান্ড): ইউরোপের বৃহত্তম এই বাজেট এয়ারলাইনস গ্রুপটি রায়ানএয়ার, মাল্টা এয়ার, বাজ ও লাউডা ইউরোপ পরিচালনা করছে।
ইন্ডিগো পার্টনার্স: যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানটি উইজ এয়ার, ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইনস, ভোলারিস ও জেটস্মার্টের মতো বিভিন্ন দেশের বাজেট এয়ারলাইনসে বড় বিনিয়োগ ধরে রেখেছে।
টাটা গ্রুপ (ভারত): ভারতের এই শিল্পগোষ্ঠী তাদের জাতীয় পতাকাবাহী এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে।
সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস গ্রুপ (সিঙ্গাপুর): এই গ্রুপের অধীনে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম সেরা সেবাদানকারী এয়ারলাইনস সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস ও সাশ্রয়ী সেবার জন্য স্কুট।
ক্যান্টাস গ্রুপ (অস্ট্রেলিয়া): ক্যান্টাস ও বাজেট এয়ারলাইনস জেটস্টার পরিচালনার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে তারা।
এএনএ হোল্ডিংস (জাপান): অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ ও স্বল্পমূল্যের পিচ অ্যাভিয়েশন নিয়ে গঠিত জাপানের এই গ্রুপ বেশ কার্যকর।
কোরিয়ান এয়ার গ্রুপ (দক্ষিণ কোরিয়া): কোরিয়ান এয়ার ও জিন এয়ার—এই দুই ব্র্যান্ডের মাধ্যমে তারা সেবা দিচ্ছে।
টার্কিশ এয়ারলাইনস গ্রুপ: টার্কিশ এয়ারলাইনস ও তাদের সহযোগী এয়ারলাইনস এজেট (পূর্বে আনাদোলুজেট) এই গ্রুপের আওতাভুক্ত।
মালয়েশিয়া অ্যাভিয়েশন গ্রুপ: মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস ও ফায়ারফ্লাই নিয়ে গঠিত এই গ্রুপ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বেশ সক্রিয়।
বিমান পরিবহন বিশ্লেষকদের মতে, একই গ্রুপের অধীনে একাধিক ব্র্যান্ড পরিচালনার পেছনে বেশ কিছু কৌশলগত কারণ রয়েছে। প্রথমত, ভিন্ন আয়ের যাত্রীদের লক্ষ্য করে সেবা দেওয়া সহজ হয়। একটি ব্র্যান্ড ‘প্রিমিয়াম’ বা ‘ফুল সার্ভিস’ সেবা দিলেও অন্যটি ‘লো-কস্ট’ মডেলে সাশ্রয়ী ভ্রমণ নিশ্চিত করে। দ্বিতীয়ত, বিমান ক্রয়, রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মী প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও প্রশাসনিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর সুযোগ তৈরি হয়।
এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের বাজারে স্থানীয় ব্র্যান্ডের পরিচিতি ধরে রাখা, দ্রুত নতুন রুটে ফ্লাইট সম্প্রসারণ ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এই গ্রুপ কাঠামো অত্যন্ত কার্যকর। খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিমান পরিবহন শিল্পে এই একীভূত মালিকানার প্রবণতা আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে।

চলতি অর্থবছরের জন্য রেকর্ড ৩ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ঘোষণা করেছে সরকার। জাতীয় বাজেটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উন্নয়ন বাজেটের আকার, কিন্তু বাড়ছে না বাস্তবায়নের সক্ষমতা। বরং এডিপি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ এখন শুধু ভারত বা ভিয়েতনামের তুলনায় নয়, নেপাল ও ভুটানের মতো ছোট অর্থনীতি
৭ ঘণ্টা আগে
প্রতিবছর দেশের শ্রমবাজারে যোগ হচ্ছে প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ। এই বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী উন্নয়নের সবচেয়ে বড় শক্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শিল্পের প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী মিলছে না, আবার শিক্ষিত তরুণদের একটি অংশও কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারছে না।
৭ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের লড়াইয়ে জ্বালানি তেলের দামে উত্থান-পতন লেগেই আছে। পুনরায় এ সংঘাত তীব্রতর হওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় তেলের দাম ফের ঊর্ধ্বমুখী।
১৫ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইরানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে সর্বশেষ দফার কঠোর সামরিক হামলার পর গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ...
১ দিন আগে