ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

বিএনপি শাসন আমলে পদ্মা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই ও ব্যয় প্রাক্কলন করা হয় বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি কার্যালয়ে জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের আয়োজনে এক মতবিনিময় সভায় মির্জা ফখরুল এ দাবি করেন।
সম্প্রতি মির্জা ফখরুল বলেছেন মাওয়া ও পদ্মার অপর প্রান্তে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন খালেদা জিয়া। এটি বিএনপির ‘মিথ্যাচার এবং গুজব’ বলে সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তাঁরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই ২০০১ সালের ৪ জুলাই পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এটি ইতিহাসের অংশ।
ওই বক্তব্য প্রসঙ্গে আজ সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘পদ্মা সেতুর প্রাথমিক ফিজিবিলিটি (সম্ভাব্যতা যাচাই) খালেদা জিয়ার আমলেই শুরু হয়। পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রাথমিক চিন্তাভাবনা শুরু হয় ১৯৯৪-৯৫ সালে। সেই সময় বিশ্বব্যাংক ও জাপানের সঙ্গে আলোচনা হয়। আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই পদ্মা সেতুর প্রাথমিক ফিজিবিলিটি (সম্ভাব্যতা যাচাই) রিপোর্ট তৈরি হয় ২০০৪-০৫ সালে। সেখানেই সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়। এ বিষয়গুলো আপনারা একটু পড়াশোনা করলেই জানতে পারবেন।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো সেতু এত ব্যয় বহুল সেতু নির্মাণ করা হয়েছে কি না তা বিএনপির জানা নেই। তবে পদ্মা সেতুর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮ থেকে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা। পরে তা বাড়িয়ে ৩০ হাজার কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। তাহলে এত টাকা কোথায় গেল?’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ভারতের আসাম রাজ্যে লোহিত নদীর ওপর নির্মিত ভূপেন হাজারিকা সেতু নির্মাণ হয়েছে মাত্র ৮ হাজার কোটি টাকায়। এটি ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘতম সড়ক সেতু তৈরিতে যে খরচ হয়েছে এই টাকায় বাংলাদেশের তিনটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা যেত। পদ্ম সেতুর টাকা দিয়ে আরও তিনটি পদ্মা সেতু বানানো যেত।’
‘সরকার জনগণের জন্য উন্নয়ন করছে না। নিজেদের পকেট ভরতে ও টাকা পাচার করতে উন্নয়ন করছে। সেখানে সাধারণ জনগণের কোনো উন্নয়ন নেই।’ অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশের শতকরা ৪২ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে, তারা দু’বেলা দু’মুঠো ঠিকমতো খেতে পারে না। অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে মানুষ যে দুবেলা ঠিকভাবে ভালো-মন্দ খাবে অথবা বাচ্চাদের জন্য প্রোটিন জোগাড় করবে, সেটাও করতে পারে না। পৃথিবীর কোথাও এত ব্যয়বহুল সেতু নির্মাণ করা হয়েছে বলে বিএনপির জানা নেই।’
পদ্মা সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আপনারা যাবেন কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ প্রশ্ন ওবায়দুল কাদের সাহেবকে জিজ্ঞাসা করেন। তাঁর নেত্রী আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলেছেন, খালেদা জিয়া যদি পদ্মা সেতুতে যায় সেখান থেকে তাকে যদি টুস করে ফেলে দেওয়া যায় তাহলে ঠিক হয়! এখন আপনি তাঁকে হত্যার হুমকি দেবেন আর তিনি সেখানে হত্যার হুমকির মুখে নিয়ে সেখানে যাবেন— এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। যে সেতু থেকে বেগম জিয়াকে ফেলে দিয়ে হত্যার হুমকি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেই অনুষ্ঠানে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’
কুমিল্লার সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘নির্বাচনী নিয়ম নীতি অনুসরণ করে একজন সংসদ সদস্যকে নির্বাচনী এলাকা থেকে বের করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। তাঁকে নির্বাচনী আইন মানাতে ব্যর্থ হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় নির্বাচন কমিশন কতটা ব্যর্থ, কতটা অসহায়। আর এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ হবে আপনারাই বলেন।’
স্বপ্নের পদ্মা সেতু সম্পর্কে সবশেষ খবর পেতে - এখানে ক্লিক করুন
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মুখপাত্র নূপুর শর্মাসহ দুই নেতার অবমাননাকর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মির্জা ফখরুল এ বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক নিন্দা জানানোর দাবি জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন— ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ফখরুলের ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মামুন উর রশিদ, মহিলা দলের নেত্রী ফোরাতুন নেহার প্যারিস, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা নুর করিম , শ্রমিক নেতা দানেশ আলী, আব্দুল জব্বারসহ বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
পদ্মা সেতু সম্পর্কিত আরও পড়ুন:

বিএনপি শাসন আমলে পদ্মা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই ও ব্যয় প্রাক্কলন করা হয় বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি কার্যালয়ে জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের আয়োজনে এক মতবিনিময় সভায় মির্জা ফখরুল এ দাবি করেন।
সম্প্রতি মির্জা ফখরুল বলেছেন মাওয়া ও পদ্মার অপর প্রান্তে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন খালেদা জিয়া। এটি বিএনপির ‘মিথ্যাচার এবং গুজব’ বলে সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তাঁরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই ২০০১ সালের ৪ জুলাই পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এটি ইতিহাসের অংশ।
ওই বক্তব্য প্রসঙ্গে আজ সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘পদ্মা সেতুর প্রাথমিক ফিজিবিলিটি (সম্ভাব্যতা যাচাই) খালেদা জিয়ার আমলেই শুরু হয়। পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রাথমিক চিন্তাভাবনা শুরু হয় ১৯৯৪-৯৫ সালে। সেই সময় বিশ্বব্যাংক ও জাপানের সঙ্গে আলোচনা হয়। আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই পদ্মা সেতুর প্রাথমিক ফিজিবিলিটি (সম্ভাব্যতা যাচাই) রিপোর্ট তৈরি হয় ২০০৪-০৫ সালে। সেখানেই সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়। এ বিষয়গুলো আপনারা একটু পড়াশোনা করলেই জানতে পারবেন।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো সেতু এত ব্যয় বহুল সেতু নির্মাণ করা হয়েছে কি না তা বিএনপির জানা নেই। তবে পদ্মা সেতুর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮ থেকে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা। পরে তা বাড়িয়ে ৩০ হাজার কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। তাহলে এত টাকা কোথায় গেল?’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ভারতের আসাম রাজ্যে লোহিত নদীর ওপর নির্মিত ভূপেন হাজারিকা সেতু নির্মাণ হয়েছে মাত্র ৮ হাজার কোটি টাকায়। এটি ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘতম সড়ক সেতু তৈরিতে যে খরচ হয়েছে এই টাকায় বাংলাদেশের তিনটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা যেত। পদ্ম সেতুর টাকা দিয়ে আরও তিনটি পদ্মা সেতু বানানো যেত।’
‘সরকার জনগণের জন্য উন্নয়ন করছে না। নিজেদের পকেট ভরতে ও টাকা পাচার করতে উন্নয়ন করছে। সেখানে সাধারণ জনগণের কোনো উন্নয়ন নেই।’ অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশের শতকরা ৪২ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে, তারা দু’বেলা দু’মুঠো ঠিকমতো খেতে পারে না। অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে মানুষ যে দুবেলা ঠিকভাবে ভালো-মন্দ খাবে অথবা বাচ্চাদের জন্য প্রোটিন জোগাড় করবে, সেটাও করতে পারে না। পৃথিবীর কোথাও এত ব্যয়বহুল সেতু নির্মাণ করা হয়েছে বলে বিএনপির জানা নেই।’
পদ্মা সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আপনারা যাবেন কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ প্রশ্ন ওবায়দুল কাদের সাহেবকে জিজ্ঞাসা করেন। তাঁর নেত্রী আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলেছেন, খালেদা জিয়া যদি পদ্মা সেতুতে যায় সেখান থেকে তাকে যদি টুস করে ফেলে দেওয়া যায় তাহলে ঠিক হয়! এখন আপনি তাঁকে হত্যার হুমকি দেবেন আর তিনি সেখানে হত্যার হুমকির মুখে নিয়ে সেখানে যাবেন— এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। যে সেতু থেকে বেগম জিয়াকে ফেলে দিয়ে হত্যার হুমকি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেই অনুষ্ঠানে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’
কুমিল্লার সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘নির্বাচনী নিয়ম নীতি অনুসরণ করে একজন সংসদ সদস্যকে নির্বাচনী এলাকা থেকে বের করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। তাঁকে নির্বাচনী আইন মানাতে ব্যর্থ হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় নির্বাচন কমিশন কতটা ব্যর্থ, কতটা অসহায়। আর এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ হবে আপনারাই বলেন।’
স্বপ্নের পদ্মা সেতু সম্পর্কে সবশেষ খবর পেতে - এখানে ক্লিক করুন
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মুখপাত্র নূপুর শর্মাসহ দুই নেতার অবমাননাকর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মির্জা ফখরুল এ বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক নিন্দা জানানোর দাবি জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন— ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ফখরুলের ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মামুন উর রশিদ, মহিলা দলের নেত্রী ফোরাতুন নেহার প্যারিস, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা নুর করিম , শ্রমিক নেতা দানেশ আলী, আব্দুল জব্বারসহ বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
পদ্মা সেতু সম্পর্কিত আরও পড়ুন:

রাজধানীর কদমতলী এলাকায় শাহাবুদ্দিন (৪০) নামে এক ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে কদমতলী কুদার বাজার আদর্শ সড়ক এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় স্বজনরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক রাত সাড়ে ১১টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
২ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিএনপিতে ভেড়ানোর অভিযোগ উঠেছে খোদ দলটির কোনো কোনো নেতার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে দলীয় নেতারা একে অপরকে দায়ী করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ বিষয়ে কথা চালাচালি হচ্ছে। এদিকে আওয়ামী লীগ কর্মীদের দলে ভেড়ানোকে আশঙ্কাজনক বলছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
২ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। ১ জানুয়ারি যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও সাবিনা ইয়াসমিনসহ...
২ ঘণ্টা আগে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শেরপুরের তিনটি নির্বাচনী এলাকাতেই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চাপে পড়েছে বিএনপি। আর দীর্ঘদিন একক প্রার্থী নিয়ে মাঠে থাকলেও জোটের প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে চাপে পড়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটও।
৩ ঘণ্টা আগে