
সুনামগঞ্জের হাওরে এখনো অর্ধেকের বেশি ধান কাটা বাকি। এর মধ্যে বজ্রসহ ভারী বৃষ্টি হওয়ায় পাকা ধান কাটতে পারছেন না কৃষকেরা। বাড়তি মজুরিতে যতটুকু কাটতে পারছেন, বৃষ্টির কারণে তা-ও ব্যাহত হচ্ছে। এর মাঝে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় হাওরজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত রোববার রাত থেকে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। আগামী তিন দিন টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এই পরিস্থিতিতে হাওর ও নদীর পানি বাড়তে থাকায় অবশিষ্ট ধান কাটা নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন কৃষকেরা।
পাউবো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকা ও তৎসংলগ্ন উজানে ২৮ থেকে ৩০ এপ্রিল ভারী ও অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। এতে হাওর এলাকার সুরমা-কুশিয়ারাসহ অন্যান্য নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পাশাপাশি আকস্মিক বন্যাও হতে পারে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ধান কাটতে পারছেন না কৃষকেরা। শ্রমিকসংকটের পাশাপাশি জমিতে পানি থাকায় কম্বাইন হারভেস্টারও নামানো সম্ভব হচ্ছে না। বাড়তি মজুরি দিয়ে অনেকে ধান কাটতে পারলেও রোদ না থাকায় স্তূপ করা ধানে
অঙ্কুর গজানোর অবস্থা হয়েছে। এ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছে লক্ষাধিক কৃষক পরিবার।
সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক মো. রেনু মিয়া বলেন, ‘পাগনা হাওরের চাইর (চার) আনা ধান কাটা হইছে। পানি থাকায় ধান তো মেশিনদি কাটা যার না। মেশিনও কম, মানুষও (শ্রমিক) কম। লাগাতার বৃষ্টি হওয়ায় ধান তো শুকানিও যার না, কাইট্যাই কিতা করব। মাইনষের খলার মাঝে কাটা ধান পইড়া আছে। ধানও গন্ধ ধরিলাইছে। সবাই খুব কষ্টের মধ্যে আছে।’
তাহিরপুরের শাহাগঞ্জ গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান বলেন, ‘ধান তো কাটা হইতাছে না। শনির হাওরের ধান এখনো অর্ধেক বাকি আছে। ৪০ ভাগের মতো কাটা হইছে। আমার ২০-২২ কিয়ার (৩০ শতকে এক কিয়ার) জমির মাঝে ৮ কিয়ারের মতো কাটছি। কিন্তু রইদ (রোদ) না থাকায় শুকাইতে পারতাছি না।’
বৃষ্টিতে আতঙ্কিত জিয়াউর বলেন, ‘হাঁটুহিমা-উরাতহিমা (হাঁটু ও ঊরুসমান) পানি থাকায় ব্যাপারীও খেতে নামে না। যে বৃষ্টি দিতাছে, মনে হয় না মানুষ ধান কাইট্যা ঠিকভাবে ঘরে তুলতে পারব।’
জেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলার ১৩৭টি হাওরে এ বছর ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৪ লাখ টন। উৎপাদিত বোরো ধানের মূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। জেলায় বছরে সাড়ে ৫ লাখ টন চালের চাহিদার বিপরীতে উৎপাদিত হয় সাড়ে ১১ লাখ টন। উদ্বৃত্ত ৬ লাখ টন চাল দেশের খাদ্যভান্ডারে যুক্ত হয়।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সোমবার পর্যন্ত ৯২ হাজার ১১৮ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৯৩ হেক্টর জমির ধান কাটা বাকি। এ পর্যন্ত হাওর ও নন-হাওরে ৪১ ভাগ জমির ধান কাটতে পেরেছেন কৃষক।
শাল্লা হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত সেন বলেন, ধান নিয়ে চতুর্মুখী বিপদে পড়েছেন কৃষকেরা। ধান কেটে আনতে পারছেন না, আনতে পারলেও শুকাতে পারছেন না। কিয়ার প্রতি কাটাতেই চার-পাঁচ হাজার টাকা চলে যাচ্ছে। ধান বহন করে বাড়ির ধারে-কাছে নিয়ে আসতে আরও খরচ হচ্ছে। শ্রমিক না পেয়ে জলে ভাসা ফলনের আশা একরকম ছেড়েই দিয়েছেন অনেকে।
সুনামগঞ্জ কৃষক সংগ্রাম সমিতির সহসভাপতি ও ধর্মপাশা উপজেলার বাসিন্দা খায়রুল বশর ঠাকুর খান বলেন, দৈনিক ১ থেকে দেড় হাজার টাকায় শ্রমিক নিয়ে ধান কাটাচ্ছেন কৃষক। নিজেরাও হাড় খাটুনি পরিশ্রম করছেন। যেটুকু কাটতে পেরেছেন, সেটাও অঙ্কুর গজিয়ে নষ্ট হওয়ার অবস্থা। টানা বৃষ্টিতে চরম বিপর্যস্ত অবস্থা কৃষকের।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘জেলার ১৩৭টি হাওরের শতভাগ ধান কাটতে মে মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত লাগবে। আমরা দ্রুত ধান কাটতে কৃষকদের নির্দেশনা দিলেও যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে কৃষক-শ্রমিক কেউই জমিতে নামতে পারছেন না। টানা বৃষ্টি হওয়ায় হাওরে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।’
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, মঙ্গলবার থেকে টানা তিন দিন ভারতের চেরাপুঞ্জিসহ জেলার হাওরাঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। এতে নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে থাকবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত হাওর রক্ষা বাঁধের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে টানা বৃষ্টিতে হাওর রক্ষা বাঁধের মাটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি ঢল নামলে সেই চাপ সামলানো কঠিন হবে।

রেলওয়েতে চাকরির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকলেও ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি’র সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. মনিরুজ্জামান মনির। অথচ বিদ্যমান বিধিমালায় রেলওয়েতে কর্মরত নন এমন ব্যক্তির সাধারণ সদস্য হওয়ার সুযোগ নেই বলে জানা গেছে। তবে মনিরের দাবি, তিনি নিয়ম মেনেই পদে আছেন।
১ ঘণ্টা আগে
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদ থেকে বালু উত্তোলন করায় নির্মাণাধীন তীর রক্ষা বাঁধসহ বসতবাড়ি ও ফসলি জমি ঝুঁকিতে পড়েছে। প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় উপজেলার ইসলামপুরের সামাদের ঘাট এলাকায় তিনটি খননযন্ত্র দিয়ে নদ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
২ ঘণ্টা আগে
কক্সবাজার সদর ও রামুতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় চালকসহ দুজন নিহত এবং কমপক্ষে সাতজন আহত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে পৃথক সময়ে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ এবং শহীদ এ টি এম জাফর আলম আরাকান সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
৪ ঘণ্টা আগে
বগুড়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার সকালে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া শিশুটির নাম জেরিন। বয়স ছিল তিন মাস। আজ রাতে হাসপাতালের উপপরিচালক মঞ্জুর ই মুর্শেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
৪ ঘণ্টা আগে