Ajker Patrika

লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতন করে টাকা আদায়, শরীয়তপুরে দুই মানব পাচারকারী গ্রেপ্তার

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ১৮ জুন ২০২৬, ১৭: ৪৮
লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতন করে টাকা আদায়, শরীয়তপুরে দুই মানব পাচারকারী গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার সেলিম শিকদার (৪০) ও হারুন খাঁ (৫৫)। ছবি: আজকের পত্রিকা

ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শরীয়তপুরের এক যুবককে লিবিয়ায় নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে করা মামলায় সেলিম শিকদার (৪০) ও হারুন খাঁ (৫৫) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার রাতে শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজন হলেন সদর উপজেলার দড়িহাওলা গ্রামের মুনসুর শিকদারের ছেলে সেলিম শিকদার ও একই গ্রামের মৃত হালান খাঁর ছেলে হারুন খাঁ।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, সেলিম শিকদার, হারুন খাঁসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা ইতালিতে লোক নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করতেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, চিতলিয়া ইউনিয়নের দড়িহাওলা গ্রামের লিটন সরদারের ছেলে সাইফুল সরদারকে (২৫) সরাসরি ইতালি নেওয়ার জন্য আসামিদের সঙ্গে ২১ লাখ টাকায় চুক্তি করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, টাকা নেওয়ার পর পাচারকারীরা ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর সাইফুলকে ইতালি নেওয়ার কথা বলে প্রথমে সৌদি আরব, পরে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। পরে তাঁকে একটি মানব পাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেখানে সাইফুলকে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয় এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, নির্যাতনের একপর্যায়ে সাইফুলের হাতের আঙুল কেটে ফেলা হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর পিঠে কোপ দেওয়া হয়। সেই নির্যাতনের ভিডিও পরিবারে পাঠানো হলে তাঁরা দিশেহারা হয়ে পড়েন।

পরিবারের অভিযোগ, সাইফুলকে মুক্ত করতে সেলিম ও হারুনের মাধ্যমে জমি বিক্রি ও ধারদেনা করে আরও ৩০ লাখ টাকা পাঠানো হয়। কিন্তু মোট ৫১ লাখ টাকা দেওয়ার পরও সাইফুলকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। এক মাস ধরে তাঁর কোনো সন্ধান পাচ্ছে না পরিবার।

গতকাল সাইফুলের পরিবার মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, শরীয়তপুরে মামলা করে। মামলায় সেলিম শিকদার, তাঁর স্ত্রী আইরিন বেগম ও মামা হারুন খাঁকে আসামি করা হয়।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পালং মডেল থানায় নথিভুক্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর ওই দিন রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেলিম শিকদার ও হারুন খাঁকে গ্রেপ্তার করে।

আজ দুপুরে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ।

সাইফুলের বাবা লিটন সরদার বলেন, ‘জায়গাজমি, সোনা-গয়না বিক্রি করে এবং ধারদেনা করে ৫১ লাখ টাকা দিলেও আমার ছেলের মুক্তি মেলেনি। এক মাস ধরে আমার ছেলের কোনো খবর নাই। আমি আমার ছেলেকে চাই, মানব পাচারকারীদের বিচার চাই।’

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘গতকালই আদালত থেকে মামলার কপি থানায় আসে। আদালতের নির্দেশে মামলাটি থানায় নথিভুক্ত করে গতকালই আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাই। সেলিম শিকদার ও হারুন খাঁ নামের দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। আজ দুপুরে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত