Ajker Patrika

মাঠের জলাবদ্ধতায় বন্ধ শিক্ষার্থীদের অ্যাসেম্বলি-খেলাধুলা

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি 
মাঠের জলাবদ্ধতায় বন্ধ শিক্ষার্থীদের অ্যাসেম্বলি-খেলাধুলা
গুরুদাসপুর পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয় মাঠ জলাবদ্ধতায় ডুবে আছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

নাটোরের গুরুদাসপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রায় ৮ বিঘা আয়তনের খেলার মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষার্থীদের অ্যাসেম্বলি (প্রাত্যহিক সমাবেশ) ও খেলাধুলা। মাঠের এমন অনুপযোগী পরিবেশে ব্যাহত হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘নতুনকুঁড়ি’ কর্মসূচির আওতায় ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও বিকাশের কার্যক্রম। পাশাপাশি প্রাইম মিনিস্টার ফুটবল টুর্নামেন্টসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজনও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯১৭ সালে ৮ বিঘা জায়গার ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৮ সালের ২৮ মে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করে সরকার। একই মাঠে রয়েছে মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়। দুই বিদ্যালয় মিলে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ জন।

আজ সোমবার বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠের উত্তর-পূর্ব পাশে পানি জমে রয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে পানি না থাকলেও কাঁদা-জলে শ্যাঁতশ্যাঁতে অবস্থা বিরাজ করছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো নালার ব্যবস্থা নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই চারদিকের পানি এসে মাঠে জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে জুন ও জুলাই মাস জুড়ে পানি জমে শ্যাঁমশ্যাঁতে হয়ে ওঠে মাঠটি। মাঠটির দুরবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের অ্যাসেম্বলি হচ্ছে না। খেলাধুলাও বন্ধ রয়েছে। তবুও কাঁদাজলে শিশু-কিশোরেরা ঝুঁকি নিয়ে মাঠে মাঝেমাঝে বল গড়ায়। তবে কোনো প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যায় না। এতে নতুনকুঁড়ি ও প্রাইম মিনিস্টার ফুটবল টুর্নামেন্ট প্রতিযোগিতা ব্যাহত হচ্ছে।

গুরুদাসপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুলতান আরেফিন বলেন, ‘মাঠটি কাঁদাজলে ডুবে থাকার কারণে শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভয় ও শঙ্কায় থাকতে হয়। অনেক সময় তারা পড়ে গিয়ে পোশাক ও বই খাতা নষ্ট করে ফেলে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকে।’

শিক্ষার্থীরা জানায়, মাঠটি কাঁদাজলে ডুবে থাকায় অ্যাসেম্বলি ও খেলাধুলা করতে পারছে না। সহপাঠীদের সঙ্গে ক্লাস বন্দি থাকতে হয় তাঁদের। গল্প আর আলাপচারিতায় সময় কাটে। দ্রুত মাঠটি ভরাট করার দাবি তাদের।

গুরুদাসপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম জানান, পাঠ্য বইয়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, দৌড়ঝাঁপ মেধা ও মননশীলতা বিকশিত করে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত খেলার মাঠটি ভরাট করে সে সুযোগ নিশ্চিত করা দরকার।

উপজেলা ক্রীড়া সংগঠক মিজানুর রহমান বলেন, ‘উপজেলা সদরের এ মাঠটিতে বছর ধরেই নানা রকম খেলাধুলা চলে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তরুণেরাও ফুটবল খেলায় মেতে ওঠে। কিন্তু মাঠটিতে জলাবদ্ধতা হওয়ায় তা বন্ধ রয়েছে।’

গুরুদাসপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলে গতকাল (রোববার) বিদ্যালয় পরিদর্শন করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।’

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ‘ইতিমধ্যে মাঠ সংস্কারের জন্য টেন্ডার আহ্বান এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত খেলার মাঠ রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের আওতায় তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন পাঠানো হয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত