Ajker Patrika

শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ, সমালোচনার ঝড়

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ, সমালোচনার ঝড়
গতকাল সন্ধ্যায় বিনোদপুর ইউনিয়নের গয়াতলা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সিকে (৪৫) গ্রেপ্তারের পর তাঁর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় বিনোদপুর ইউনিয়নের গয়াতলা বাজার এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ৪০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সির মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে দেখা যায় কয়েকজনকে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি মামলায় পালং মডেল থানা-পুলিশ আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সিকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সোমবার (১৫ জুন) রাতে লিটন মুন্সিকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শরীয়তপুর জেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির বলেন, ‘সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেপ্তার একজন আওয়ামী লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মিছিল করা অপ্রত্যাশিত।’

অন্যদিকে, মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত স্থানীয় যুবদল নেতা মাহফুজ সরদার বলেন, আসাদুজ্জামান লিটন মুন্সি অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। বর্তমানে তিনি বিএনপির সমর্থক। তাঁর দাবি, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ায় শান্তিপূর্ণভাবে মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে বিনোদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাদবর দাবি করেন, এটি ইউনিয়ন বিএনপির কোনো অনুমোদিত কর্মসূচি ছিল না। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু ব্যক্তি দলকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে এ মিছিল করেছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত