Ajker Patrika

সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ ভিডিও দিয়ে চেয়ারম্যানকে ব্ল্যাকমেল, কনটেন্ট ক্রিয়েটর গ্রেপ্তার

দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ ভিডিও দিয়ে চেয়ারম্যানকে ব্ল্যাকমেল, কনটেন্ট ক্রিয়েটর গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তারকৃত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুন। ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরায় ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা দাবির অভিযোগে আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে দেবহাটা উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামুন চন্ডিপুর প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পরিচালক করিম উল্লাহ মাস্টারের ছেলে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করেন।

এ ঘটনায় গত ১ নভেম্বর সাতক্ষীরা সদর থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর আওতায় মামলা করেন দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বর্তমানে সাতক্ষীরার বাসিন্দা সাহেব আলী। মামলায় সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুলকে প্রধান আসামি, আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দ্বিতীয় এবং সাহেব আলীর সাবেক স্ত্রীকে তৃতীয় আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কারণে প্রায় ছয়-সাত মাস আগে সাহেব আলী তাঁর স্ত্রীকে তালাক দেন। পরে ওই নারীর সঙ্গে অভিযুক্তদের পরিচয় ও যোগাযোগ হয়। একপর্যায়ে সাহেব আলীর অজান্তে ধারণ করা দাম্পত্য জীবনের ব্যক্তিগত ভিডিও ও ছবি অভিযুক্তরা সংগ্রহ করেন এবং তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান।

এজাহারে আরও বলা হয়, গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও পাঠিয়ে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে আবার যোগাযোগ করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, গত ২৯ অক্টোবর ‘সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল’ নামের একটি ফেসবুক আইডি এবং ১ নভেম্বর মামুনের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে সাহেব আলীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এতে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। এজাহারে এ-সংক্রান্ত ভিডিও, স্ক্রিনশট ও অডিও রেকর্ডিং সংরক্ষণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সাহেব আলী বলেন, ‘আমার সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে ধারণ করা ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করা হচ্ছিল। প্রথমে পাঁচ লাখ, পরে তিন লাখ এবং এরপর এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে ৫০ হাজার টাকায় রাজি হয় তারা। টাকা দেওয়ার পরও ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল। পাশাপাশি আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছিল। পরে নিরুপায় হয়ে থানায় মামলা করেছি।’

সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির বলেন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত