সুন্দরবনে বনদস্যুদের চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে জাল পুড়িয়ে বিক্ষোভ

সুন্দরবনে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য বন্ধ, অপহৃত জেলে-বাওয়ালিদের উদ্ধার এবং বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করেছেন উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা ও বনজীবীরা। কর্মসূচির শেষ দিনে উপজেলার হরিনগর বাজারে আজ রোববার মাছ ধরার জাল পুড়িয়ে বিক্ষোভ করেন তাঁরা।
এ সময় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বনদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর দাবি জানিয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে স্মারকলিপি দেন আন্দোলনকারীরা। পরে কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন তাঁরা।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ও আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক সালাউদ্দিন লিটন বলেন, সুন্দরবনে মাছ, কাঁকড়া ও মধু আহরণ করতে গেলে বিভিন্ন বনদস্যু বাহিনীকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হচ্ছে। কোনো কোনো বাহিনী নৌকাপ্রতি ৭০ হাজার থেকে লক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। চাঁদা দেওয়ার পর জেলেদের হাতে একটি টোকেন দেওয়া হয়। সেটি দেখিয়েই তাঁদের বনে প্রবেশ করতে হয়।
লিটন আরও বলেন, একাধিক বাহিনীকে চাঁদা দিতে গিয়ে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের আয়ের বড় অংশই চলে যাচ্ছে। এতে অনেক জেলেকে ঋণ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে। সামনে শুঁটকি মাছের মৌসুম হলেও বনদস্যুদের ভয়ে অনেকে বনে যেতে পারছেন না। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তাঁরা।
জেলে আনিছুর রহমান বলেন, আগে একটি বাহিনীকে চাঁদা দিলেই হতো। এখন একাধিক বাহিনীকে টাকা দিতে হচ্ছে। কোনো বাহিনী ৭০ হাজার, কোনোটি ৮০ হাজার, আবার কোনোটি এক লাখ টাকার বেশি চাঁদা দাবি করছে।
এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জামান কনক বলেন, উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সুন্দরবনের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। সভায় নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড, বিজিবি ও থানা-পুলিশের প্রতিনিধিরা থাকবেন। আন্দোলনকারীদের দেওয়া স্মারকলিপি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।









