Ajker Patrika

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি 
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
ওয়াহিদুজ্জামান শামীম। ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩৮) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার কুলিয়া এলাকায় প্রথম দফায় মারধরের শিকার হন তিনি। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবারও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর স্বজনেরা। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত শামীম দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের শামসুল রহমান সানার ছেলে। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ধর্মীয় অবমাননার তিনটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিওতে আল্লাহ, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.), সাহাবি ও পবিত্র কোরআন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতে শোনা যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

শামীমের স্বজনদের অভিযোগ, গত সোমবার রাতে একদল লোক তাঁর বাড়িতে গিয়ে হুমকি ও হামলা চালায়। এ সময় শামীম নিজ বাড়িতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে দাবি তাঁদের। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়।

স্বজনদের ভাষ্য, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পারুলিয়া ও কুলিয়া এলাকার স্থানীয় লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে শামীমকে আবারও মারধর করা হয়। খবর পেয়ে দেবহাটা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামীম আবারও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর স্বজনেরা। রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুলিশ পাহারায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহত শামীমের ভাই আবদুল জলিল দাবি করেন, কয়েক বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়েছিলেন তাঁর ভাই। এরপর তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হলে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁর আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা যায়।

আবদুল জলিলের অভিযোগ, গত সোমবার রাতে তাঁদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের নেতারাও এতে অংশ নেন। পরে শামীম আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। সেখানে ও পরে হাসপাতালে তাঁকে দুই দফায় মারধর করা হয়।

দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শরিফুল ইসলাম বলেন, গতকাল সন্ধ্যার দিকে তাঁকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। পরে তাঁকে ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরায় পাঠানো হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ করেননি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত