Ajker Patrika

৭৪ বছর পর নতুন রূপে মহাপুরম উচ্চ বিদ্যালয়

নানিয়ারচর (রাঙামাটি) প্রতিনিধি 
আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১১: ২৫
৭৪ বছর পর নতুন রূপে মহাপুরম উচ্চ বিদ্যালয়
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে নির্মাণ করা হচ্ছে বিদ্যালয়ের আধুনিক চারতলা একাডেমিক ভবন। ছবি: আজকের পত্রিকা

পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ, বর্ষার কাদা আর জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ—এমন নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বছরের পর বছর শিক্ষার স্বপ্ন লালন করেছে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট ইউনিয়নের রামহরিপাড়ার শত শত শিক্ষার্থী। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সেই স্বপ্নে যুক্ত হয়েছে নতুন আশার আলো। ৭৪ বছরের পুরোনো মহাপুরম উচ্চ বিদ্যালয় এখন আধুনিক চারতলা একাডেমিক ভবনের মাধ্যমে নতুন রূপ পাচ্ছে।

জানা যায়, ১৯৫২ সালে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক চিত্ত কিশোর লার্মার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী মহাপুরম উচ্চ বিদ্যালয়। রাঙামাটি জেলায় প্রতিষ্ঠিত দ্বিতীয় উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি বহু প্রজন্মকে শিক্ষার আলো দিয়েছে। তবে সময়ের ব্যবধানে বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লেও পাঠদান কখনো বন্ধ হয়নি।

শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে নির্মাণ করা হচ্ছে আধুনিক চারতলা একাডেমিক ভবন। বর্তমানে নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে। স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু একটি নতুন ভবন নয়; বরং পাহাড়ি জনপদের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও প্রত্যাশার বাস্তব প্রতিফলন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনুপম চাকমা বলে, ‘আগে বর্ষাকালে মাঠে পানি উঠে যেত। তখন ক্লাস করতে আমাদের অনেক কষ্ট হতো। শৌচাগারও অনেক দূরে ছিল। নতুন ভবনটি সম্পন্ন হলে আমরা খুব সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারব।’

তবে এই আধুনিক ভবনের নির্মাণযাত্রা সহজ ছিল না। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে ভবনটির নির্মাণকাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রথম ধাপে একতলা নির্মাণের পর আগের ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দিলে প্রায় দুই বছর প্রকল্পটি স্থবির হয়ে পড়ে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিরন খীসা বলেন, ‘এটি ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত অত্যন্ত পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী একটি বিদ্যালয়। প্রথম দফায় একতলা নির্মাণের পর আগের ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছিলাম। তবে আনন্দের বিষয় হলো, নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ আবার শুরু হয়েছে এবং এখন তা প্রায় শেষের পথে।’

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মোস্তফা খান জানান, আগের ঠিকাদার কাজ সম্পন্ন করতে না পারায় নতুন দরপত্রের মাধ্যমে ‘শুভঙ্কর এন্টারপ্রাইজ’কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো বড় ধরনের জটিলতা না হলে চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যেই ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন টেন্ডার পাওয়ার পর আমরা দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়েছি। চারতলা ভবনের মূল কাঠামো ও প্রধান কাজ শেষ হয়েছে। এখন শুধু কিছু ফিনিশিংয়ের কাজ বাকি। আগামী অক্টোবরের মধ্যেই ভবনটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।’

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, আধুনিক এই ভবন চালু হলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষার্থীরা উন্নত ও নিরাপদ পরিবেশে লেখাপড়ার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়টি নতুন প্রজন্মের জন্য মানসম্মত শিক্ষার আরও শক্ত ভিত্তি হিসেবে গড়ে উঠবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত