
অথচ ম্যাচটি খেলতে চায়নি কেউই, কিন্তু নিয়মরক্ষা তো করতে হবে। তা করতে গিয়ে দেখা মিলল গোলবন্যার। হ্যাটট্রিক, ইতিহাস, ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা সব মিলিয়ে যেন ফাইনালের আবহ। তবু ম্যাচটি হয়ে থাকল তৃতীয় স্থান নির্ধারণীর। যেখানে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের মঞ্চে এটিই ইংলিশদের সেরা সাফল্য।
মায়ামিতে ম্যাচের শুরু থেকেই ফরাসি রক্ষণভাগের ওপর ছড়ি ঘোরাতে থাকে ইংল্যান্ড। রেফারির বাঁশি বাজার মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় ফরাসি মিডফিল্ডার দেজিরে দুয়ের মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে ডেক্লান রাইস চমৎকার এক শটে পরাস্ত করেন গোলরক্ষক মাইক ম্যানিয়াকে। শুরুর ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ১৯ মিনিটে রাইসের নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজরি কোনসা। এরপর শুরু হয় সাকা-ঝড়। ৩৭ মিনিটে ফরাসি ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে সাকার শট জালে জড়ালে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় থ্রি লায়নরা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+১ মিনিট) এবারন এজের পাস থেকে ঠাণ্ডা মাথায় নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটি করে ফ্রান্সকে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে দেন এই আর্সেনাল উইঙ্গার। ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় টুখেলের শিষ্যরা।
তবে বিরতির পর দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স যেভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লিখল, তা যেকোনো রোমাঞ্চকর সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একসঙ্গে চার পরিবর্তন এনে অল-আউট আক্রমণের কৌশল নেন ফরাসি কোচ। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পে একক নৈপুণ্যে গোল করে ফরাসি দলে প্রাণ ফেরান। এর মাত্র ছয় মিনিট পর, ৫৪ মিনিটে বদলি নামা ব্র্যাডলি বারকোলা ব্যবধান ৪-২ এ নামিয়ে আনলে কাঁপন ধরে ইংলিশ ডিফেন্সে। ৬৬ মিনিটে মাইকেল ওলিসের অ্যাসিস্ট থেকে এমবাপ্পে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-৩। বিশ্বকাপে এটি তাঁর রেকর্ড ২২ ও চলতি আসরে দশম গোল।একপর্যায়ে ম্যাচটি সম্পূর্ণ ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এবং সমতায় ফেরার তীব্র সম্ভাবনা তৈরি হয়।
ম্যাচের শেষ ১০ মিনিট রূপ নেয় চূড়ান্ত স্নায়ুযুদ্ধে। ৮৭ মিনিটে চরম উত্তেজনার মুহূর্তে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। স্পট কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পাশাপাশি দলকে ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে নেন বুকায়ো সাকা। কিন্তু নাটকের শেষ অঙ্ক তখনও বাকি ছিল। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে (৯০+৬ মিনিট) উসমান দেম্বেলে দুর্দান্ত এক বাঁকানো শটে গোল করে ফ্রান্সের আশা বাঁচিয়ে রাখেন। সমতায় ফিরতে ফরাসিরা যখন তাদের সব শক্তি নিয়ে অল-আউট আক্রমণে, ঠিক তখনই কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে (৯০+৮ মিনিট) ফরাসি ডিফেন্ডার ম্যাক্সেন্স ল্যাক্রুয়েকে বোকা বানিয়ে বল জালে জড়ান জুড বেলিংহাম। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ৬-৪ গোলের এক ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড।

ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকে এবারের বিশ্বকাপ স্মরণীয় হয়ে থাকল কিলিয়ান এমবাপ্পের জন্য। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে গেছেন ফ্রান্সের এই ফরোয়ার্ড। তবে লিওনেল মেসির কাছে সেই কীর্তি হতাছাড়া হবে বলেই মনে করেন তিনি।
২৫ মিনিট আগে
আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। উত্তর আমেরিকায় চলমান বিশ্বকাপের ফাইনালের স্পেনের বিপক্ষে খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। নিউজার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় ফাইনালের আগের রাতে পুরো দলকে নিয়ে তোলা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। সেই ছবির সঙ্গে দিয়েছেন আবেগঘন একটি বার্তাও।
১ ঘণ্টা আগে
মায়ামিতে কাল রাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি ফ্রান্সের জন্য চরম নাটকীয়তার। প্রথমার্ধে ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়া ফরাসিদের ম্যাচে ফেরানোর লড়াইয়ে একা হাতে নেতৃত্ব দিলেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। আর তাতেই ওলটপালট হয়ে গেল বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের ইতিহাস। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জো
৫ ঘণ্টা আগে
ফুটবল মাঝে মাঝে এমন গল্প লেখে, যা কল্পনাকেও হার মানায়। ২০০৭ সালে বার্সেলোনার একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের ফটোশুটে কয়েক মাস বয়সী এক শিশুকে কোলে নিয়েছিলেন তরুণ লিওনেল মেসি। সেই শিশুটিই আজকের লামিনে ইয়ামাল।
৭ ঘণ্টা আগে