Ajker Patrika

দুধে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচেতন, পরে বিছানায় সাপ ছেড়ে দিয়ে স্বামীকে হত্যা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১১: ০২
দুধে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচেতন, পরে বিছানায় সাপ ছেড়ে দিয়ে স্বামীকে হত্যা
প্রেমিকের সঙ্গে স্বামীকে হত্যা করেন দামিনী। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের মিরাটে এক ব্যক্তিকে সাপের কামড়ে হত্যার অভিযোগে তাঁর স্ত্রী ও এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডটিকে একটি সাধারণ দুর্ঘটনা হিসেবে সাজিয়ে ২০ লাখ রুপির বিমা দাবি আদায় এবং নিজেদের সম্পর্ক বজায় রাখার উদ্দেশ্যে এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

নিহত ব্যক্তির নাম অতুল পানওয়ার। তিনি ও তাঁর স্ত্রী দামিনী উত্তর প্রদেশের হস্তিনাপুরে ‘কৃষ্ণা কিডস প্লে স্কুল’ নামে একটি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা করতেন। গত শুক্রবার সকালে নিজের বিছানা থেকে অতুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২০১৯ সালে অতুল ও দামিনীর বিয়ে হয়েছিল বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই।

মিরাটের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (এসএসপি) জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে দামিনীর সঙ্গে তাঁদের স্কুলের গাড়িচালক তুষার ওরফে নিক্কির সম্পর্ক ছিল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দামিনী ও তুষার প্রথমে অতুলকে সড়ক দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তাঁরা নতুন পরিকল্পনা করেন। এই ষড়যন্ত্রে দামিনী ও তুষারের সঙ্গে আরও দুজন জড়িত ছিলেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।

সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (রুরাল) অভিজিৎ কুমার জানান, পরিকল্পনামাফিক দামিনী প্রথমে তাঁর স্বামীকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ায়, পরে সে অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর অচেতন অতুলের বিছানায় একটি বিষধর সাপ ছেড়ে দেওয়া হয়। সাপের কামড় খাওয়ার পর শুক্রবার সকালে অতুলকে স্থানীয় একটি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে দুটি প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। প্রথমত, অতুলের নামে থাকা ২০ লাখ রুপির বিমা দাবি করা এবং দ্বিতীয়ত, অতুলকে সরিয়ে দামিনী ও তুষারের সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়া। ঘটনাটিকে সাপের কামড়ে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল যাতে কারও মনে কোনো সন্দেহ তৈরি না হয়।

প্রথম দিকে ঘটনাটি সাধারণ সাপের কামড়ে মৃত্যু বলে মনে হলেও পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে তদন্তকারীরা অতুলের মৃত্যুর চারপাশের পরিস্থিতি গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে শুরু করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজনদের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড এবং অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে দামিনী ও তুষারের মধ্যকার কথোপকথন এবং ষড়যন্ত্রের বিষয়টি সামনে আসে। এরপরই পুলিশ দামিনী ও তুষারকে গ্রেপ্তার করে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত তুষার নিজেও বিবাহিত এবং এই হত্যাকাণ্ডের আগে তিনি তাঁর স্ত্রীকে ডিভোর্স দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি অভিযুক্তদেরও খুঁজে বের করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত