
রাজশাহীর জন্য নানা যৌক্তিক দাবি নিয়ে মাঠে থাকেন আতিকুর রহমান। সেই সূত্রে পরিচয়। নানা খবরাখবর জানান। গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর তিনি হোয়াটসঅ্যাপে একটা চমকে যাওয়ার মতো খবর দিলেন; রাজশাহী শহরের একখণ্ড জমি থেকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ১৬টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তখনই সরেজমিনে খবরের সত্যতা যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিলাম।
রাতটা কাটলে ৩ সেপ্টেম্বর সকালে গেলাম মোল্লাপাড়া আদিবাসীপাড়ায়। পাড়ার প্রবীণ মানুষটি একজন নারী। বয়স ৮০, নাম ফুলমনি বিশ্বাস। বিষণ্ন মনে বসে আছেন বাড়ির সামনে। কথা হলো। বললেন, ‘কোথায় যাব? আমরা এখুন আন্ধার ঘরে হাইতড়্যাই পাছি ন্যা। আন্ধার ঘরে মানুষ কিছু পায় কি? ওই রকম আমরাও কিছু খুঁইজে পাছি ন্যা।’
মুক্তিযুদ্ধের পর এই পাড়ায় প্রথম যে ছয়টি পরিবার ‘ঘর বেঁধেছিল’, তাদের মধ্যে শুধু ফুলমনি বিশ্বাসই বেঁচে আছেন। পাড়ায় জন্ম নেওয়া ফুলমনি বিশ্বাসের মেয়ে সরলা বিশ্বাসেরই বয়স এখন ৪৫। তিন প্রজন্মে পাড়ায় বাড়ি বেড়ে হয়েছে ১৬টি। ৫৩ বছর ধরে বাস করা মাল পাহাড়িয়া সম্প্রদায়ের এই মানুষগুলো আগে কোনো সমস্যায় পড়েনি। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর সাজ্জাদ আলী নামের এক ব্যক্তি জমির মালিকানা দাবি করেন। তিনি পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ করতে হাতে কিছু টাকাও গুঁজে দিয়েছেন। তিনিই উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন।
পাহাড়িয়ারা সেদিন জানালেন, ৫ সেপ্টেম্বর পাড়ায় খাসি কেটে তাঁদের খাওয়াবেন সাজ্জাদ আলী। ৭ সেপ্টেম্বর তাঁদের চলে যেতে হবে। এভাবেই খাসি খাইয়ে ‘সসম্মানে বিদায়ের’ আয়োজন করেছেন সাজ্জাদ। ঘুরে এসে একটা খবর লিখলাম। শিরোনাম দিলাম, ‘শুক্রবার খাওয়ানো হবে খাসি জবাই করে, রোববার ছাড়তে হবে ঘর।’ সন্ধ্যায় এই শিরোনামেই খবরটা ‘আজকের পত্রিকা’র অনলাইনে উঠল। তারপর তোলপাড়। তখন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায়। আর কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি ছিলেন আজিজুল বারী। ৪ সেপ্টেম্বর সকালে ওসি আমাকে ফোন করে জানালেন, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় তাঁকে পাহাড়িয়াদের মহল্লায় যেতে বলেছে। তিনি ঠিকানা জানতে চান। ওসিকে ঠিকানা জানিয়ে আমিও গেলাম।
দেখলাম, জুলাই-৩৬ পরিষদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ জামাল কাদেরী, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি গণেশ মার্ডি, সাধারণ সম্পাদক বিমল চন্দ্র রাজেয়াড়, মানবাধিকারকর্মী আরিফ ইথার, জামাত খান, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের আতিকুর রহমানসহ অনেকে এসেছেন। তাঁরা পাহাড়িয়াদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন। জেলা প্রশাসনও তদন্ত শুরু করল। ওসি বলে গেলেন, ‘খাসির খানা’ হবে না। কাউকে মহল্লা ছেড়ে যেতেও হবে না।
৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে ওই পাড়ায় গিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তখন মহানগর ছাত্রদলের নেতা রাকিন রায়হান রবিন জানালেন, পাহাড়িয়াদের উচ্ছেদচেষ্টার বিষয়টি লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টিতে এসেছে। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, দলের নেতা-কর্মীরা যেন পাহাড়িয়াদের পাশে থাকেন।
যেদিন মহল্লায় খাসি খাওয়ানোর আয়োজন ছিল, সেদিন সকালে সেখানে বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন হলো। আদিবাসী গবেষণা পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দিলেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নির্দেশে দলটির একজন নেত্রীও গিয়ে সংহতি জানালেন।
পাহাড়িয়াদের নিয়ে এতই আলোচনা শুরু হলো যে দেশের প্রায় সব গণমাধ্যম এ ব্যাপারে সংবাদ প্রকাশ করল। এই উচ্ছেদচেষ্টার প্রতিবাদে ৬ সেপ্টেম্বরও শহরের জিরো পয়েন্টে মানববন্ধন হলো। ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে ছুটে এলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী সোহরাব হাসান, নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য দ্বীপায়ন খীসাসহ ব্লাস্টের প্রধান কার্যালয়ের প্রতিনিধিদল। ব্লাস্টের রাজশাহী ইউনিটের সমন্বয়কারী সামিনা বেগম সবার সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দিলেন। তাই তাঁরা প্রথমে আমার কাছেই সবকিছু জেনে নিলেন।

৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আদিবাসীপাড়ায় গিয়ে মতবিনিময় করলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু। বললেন, ‘পাহাড়িয়াদের কেউ উচ্ছেদ করতে পারবে না। এখানে আপনারা যুগের পর যুগ আছেন। এখানে আপনাদের জন্ম হয়েছে, পূর্বপুরুষেরা মারা গেছেন। এই মাটি আপনাদের ছিল, আপনাদের আছে, সারা জীবন আপনাদেরই থাকবে। গোটা বাংলাদেশ আপনাদের পাশে আছে। কেউ অসহায় ভাববেন না। আমরা পাশে আছি।’
পাহাড়িয়াদের ভূমি রক্ষায় সেদিন এগিয়ে যাওয়া মিজানুর রহমান মিনু দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এলাকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। এখন পাহাড়িয়ারা তাঁদের বাড়িতেই আছেন। মন্ত্রী মিনু এখনো তাঁদের খোঁজ রাখেন।
আজকের পত্রিকায় খবরটি প্রকাশের দিন মহল্লার বাসিন্দা পার্বতী রানী গর্ভবতী ছিলেন। অসহায় অবস্থায় সেদিন তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেছিলেন, ‘আমি পোয়াতি। এখুন কার বাড়িত গিয়ে উঠব?’ যেদিন ‘খাসির ভোজ’ আয়োজনের কথা ছিল, সেদিনই বাড়িতে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন পার্বতী। নবাগত শিশুর দাদি শখ করে সেদিন তার নাম রাখেন ‘সুখমনি’। আদিবাসী পাড়ার চতুর্থ প্রজন্মের সন্তান সুখমনি এখন এই বাড়িতেই হামাগুড়ি দিচ্ছে!
লেখক: রাজশাহী প্রতিনিধি

২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর। কয়েকজন সহকর্মী একসঙ্গে পটুয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীর উদ্দেশে রওনা হই। লক্ষ্য ছিল একটি অভিযোগের অনুসন্ধান। অভিযোগ ছিল রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের সেই সময়ের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুজ্জামান খান ওরফে মামুন খানের বিরুদ্ধে।
১ ঘণ্টা আগে
শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে অনুষ্ঠিত একেকটি পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের সঙ্গে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কার্যনির্বাহী প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি সম্পৃক্ত করা বা না করার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। স্বাভাবিকভাবে মনে প্রশ্ন আসে, পাবলিক পরীক্ষার মতো বিষয়েও যদি খোদ প্রধানমন্ত্রীকে...
১ ঘণ্টা আগে
ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বাংলাদেশের নতুন যাত্রায় ক্রীড়াঙ্গনকে নিয়ে সরকারের ভাবনা কী, কীভাবে এগোচ্ছে বা এগোতে চাইছে সরকার—পুরো বিষয়টি ‘আজকের পত্রিকা’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আজকের পত্রিকার হেড অব স্পোর্টস রানা আব্বাস।
১ দিন আগে
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন মালিকানাধীন আকিজ-বশির গ্রুপ শীতলক্ষ্যা নদী জবরদখল করে বালু দিয়ে ভরাট করছে। রাত-দিন তিনটি ড্রেজার দিয়ে বিরতিহীনভাবে নদী ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
১ দিন আগে