Ajker Patrika

কাজ না পেয়ে ঠিকাদারের চোটপাট, কর্তৃপক্ষ বলল মাদকাসক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
কাজ না পেয়ে ঠিকাদারের চোটপাট, কর্তৃপক্ষ বলল মাদকাসক্ত

ঘুষ দিয়েও কাজ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) প্রধান কার্যালয়ে চোটপাট করেছেন এক ঠিকাদার। তিনি বিএমডিএর তিন কর্মকর্তাকে গালিগালাজ করেন। তবে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান বলেন, ঘটনার সময় ওই ঠিকাদার মদ্যপ ছিলেন। এ নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন তাঁরা।

গতকাল বুধবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ঠিকাদারের নাম কোরবান আলী। তিনি নগরীর আমবাগান এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাড়ির পাশেই বিএমডিএর প্রধান কার্যালয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে ঠিকাদার কোরবান আলী প্রথমে ‘ডাবল লিফটিং পদ্ধতিতে পদ্মা নদীর পানি বরেন্দ্র এলাকায় সরবরাহ ও সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্পের’ পরিচালক (পিডি) শিবির আহমেদের কার্যালয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি প্রকল্পের উপসহকারী প্রকৌশলী শরীফ উদ্দিন পাঠানকে পেয়ে তাঁর সঙ্গে চোটপাট করেন।

কোরবান আলী অভিযোগ তোলেন, ঠিকাদারি কাজ দেওয়ার জন্য পিডি শিবির আহমেদের কথা বলে উপসহকারী প্রকৌশলী শরীফ উদ্দিন পাঠান তাঁর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। কিন্তু অপেক্ষা করিয়েও কোনো কাজ দেননি।

এই দপ্তরে কিছুক্ষণ কর্মকর্তাদের গালাগাল করে কোরবান আলী বেরিয়ে যান। পরে নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামানের দপ্তরে যান। রাগান্বিত হয়ে তিনি দপ্তরের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। এ সময় দায়িত্বরত আনসার সদস্য বাধা দিলে তিনি গালাগাল শুরু করেন।

আনসার সদস্যকে ধাক্কা দিয়ে কোরবান আলী অভিযোগ তোলেন, কাজ দিতে নির্বাহী পরিচালকের নাম করেও তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গেই কথা বলবেন। ঠিকাদার কোরবান নির্বাহী পরিচালককে নিয়েও কটূক্তি করেন। এ সময় বিএমডিএর ভারপ্রাপ্ত সচিব এনামুল কাদির ছুটে এসে তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তখন তাঁকেও চোটপাট করেন এই ঠিকাদার। কিছুক্ষণ পর তিনি চলে যান।

বিএমডিএ সূত্র জানায়, কাজের জন্য মাঝে মাঝেই বিএমডিএ কার্যালয়ে গিয়ে এমন হট্টগোল করেন ঠিকাদার কোরবান আলী। প্রতিবারই অভিযোগ তোলেন, উপসহকারী প্রকৌশলী শরীফ উদ্দিন পাঠান তাঁর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন কাজ দেবেন বলে। কিন্তু দিনের পর দিন ঘুরিয়ে কাজ দেননি। মাসখানেক আগেও তিনি অফিসে গিয়ে এ নিয়ে হট্টগোল করেন।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ঠিকাদার কোরবান আলীকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। আর প্রকল্প পরিচালক শিবির আহমেদ কল রিসিভ করেননি।

টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে উপসহকারী প্রকৌশলী শরীফ উদ্দিন পাঠান দাবি করেন, কোরবান আলী যখন অফিসে হট্টগোল করেন, তখন তিনি কিংবা প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন না। তাঁরা সাইট পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তবে ঘটনাটি তিনি পরে শুনেছেন।

নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান জানান, যখন ঠিকাদার গালিগালাজ করছিলেন, তখন তিনি ওয়াশরুমে ছিলেন। ঠিকাদার তাঁর দপ্তরে ঢুকতে পারেননি। পরে তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। জানতে চেয়েছিলেন কে তাঁর কাছ থেকে কাজ দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছেন। তখন তিনি জানিয়েছেন, সাবেক সরকারের কৃষিমন্ত্রীর ভাতিজাকে টাকা দিয়েছেন। তাহলে তো এখন এই বিষয়ে তাঁর করণীয় নেই।

তাঁকে নিয়েও কটূক্তি করার ব্যাপারে নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘সে তো আসলে মদ্যপ অবস্থায় ছিল। ওই অবস্থায় যে কেউ যেকোনো কিছু বলতে পারে। তবে এ নিয়ে আমরা আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি। এটা ভারপ্রাপ্ত সচিবকে বলেছি। তিনি আইনি পদক্ষেপ নেবেন।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পশ্চিমবঙ্গে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা বিজেপি সরকারের

দুদক আইন: কমিশনশূন্যতায়ও দুদক ‘সচল’ রাখতে আইন সংশোধন হচ্ছে

ইরান সংকট সমাধানে সির সহায়তা চান ট্রাম্প, বিনিময়ে কী ছাড়তে হবে

ফরিদপুরে বাসে চাঁদাবাজি, অভিযুক্তদের থানা থেকে ছাড়িয়ে নিলেন বিএনপি নেতা

সাবেক মন্ত্রী মোশাররফের জানাজা ঘিরে নিরাপত্তা বলয়

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত