দ্বিতীয় বিয়ের খবর পেয়ে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে তরুণীর অবস্থান

পটুয়াখালীর দশমিনায় স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে তামিম নামের এক যুবকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন মোছা. লিমা (২৫) নামের এক তরুণী। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে উপজেলার দশমিনা ইউনিয়নের কাউনিয়া এলাকায় ওই যুবকের বাড়িতে অবস্থান করছেন তিনি। আজ শুক্রবারও তাঁকে সেখানে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কাউনিয়া গ্রামের সহিদুল ও সৈয়দ জাফর গ্রামের মো. আবুল কাশেমের পরিবার ঢাকার রায়েরবাগ এলাকায় একই ভবনে ভাড়া থাকত। সেই সুবাদে দুই পরিবারের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে সহিদুলের ছেলে তামিমের সঙ্গে আবুল কাশেমের মেয়ে লিমার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়।
লিমার দাবি, কয়েক বছর সম্পর্কের পর তামিম তাঁকে নারায়ণগঞ্জে এক বন্ধুর বাসায় নিয়ে ইসলামি শরিয়াহ্ মোতাবেক বিয়ে করেন। এরপর তাঁরা প্রায় দুই বছর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে সংসার করেছেন। গত এক বছর ধরে তামিমের পরিবার গ্রামের বাড়িতে চলে এলেও তামিমের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও একসঙ্গে বসবাস অব্যাহত ছিল।
লিমার ভাষ্য, গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নে তামিম আরেকটি বিয়ে করেন। খবর পেয়ে পরদিন বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে এসে তামিমের বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবি জানান তিনি। তবে তামিমের মা-বাবা ও স্বজনেরা তাঁকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় তামিম বাড়ি থেকে সরে যান।
লিমা বলেন, ‘তামিমের সঙ্গে আমার বিয়ে ও দুই বছরের সংসারের বিষয়টি দুই পরিবারের সদস্যরাই জানতেন। তামিমের মা-বাবা আমাদের বাসায় যাতায়াত করেছেন।’
লিমার অভিযোগ, তামিমের মামা গতকাল রাতে তাঁকে জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। আজ আবারও তামিমের বাড়ির সামনে অবস্থান করছেন।
বিষয়টি জানতে তামিমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘কেউ মেয়েটিকে ছেলের ঘর থেকে বের করে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে, আবার কেউ তাঁকে ওই ঘরে রাখার দায়িত্ব নিয়েছে। এই দায়িত্বের মধ্যে আমি নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে দেখব।’









