Ajker Patrika

চাঁদার দাবিতে বন্ধ করা হলো চলাচলের পথ

­হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ১৮: ৫০
চাঁদার দাবিতে বন্ধ করা হলো চলাচলের পথ
রাস্তায় ইট ও বালু ফেলে রেখে বন্ধ করা হয়েছে চলাচলের পথ। ছবি: আজকের পত্রিকা

নোয়াখালীর হাতিয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর হরেণীয়া এলাকার চৌমুহনী বাজারে প্রায় অর্ধশত বছর ধরে চলাচলের জন্য ব্যবহৃত পথ বন্ধ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে মনির উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চৌমুহনী বাজারের পূর্ব পাশের গলিপথটি প্রায় ৫০ বছর ধরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বাজারের ১০ শতাংশ জমির মধ্যে ২ শতাংশ জায়গা গলিপথ হিসেবে রেখে অবশিষ্ট ৮ শতাংশের মধ্যে আটটি দোকান ভিটি করা হয়। এর মধ্যে একটি ভিটি মালিক নিজের জন্য রেখে অন্য সাতটি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। পরে দোকান নির্মাণের সময়ও উভয় পাশে জায়গা ছেড়ে দিয়ে মাঝখানে চলাচলের জন্য গলিপথটি উন্মুক্ত রাখা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ওই বাজারের এক দোকানমালিক মনির উদ্দিন চলাচলের পথের ওপর বালু, ইট ও খোয়া ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, অন্যদের মতো মনির উদ্দিনও একটি দোকান কিনে ব্যবসা করছিলেন এবং দীর্ঘদিন এ পথ নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল না। তবে বাজারের পেছনের একটি দোকান সংস্কারের জন্য নির্মাণসামগ্রী নেওয়ার সময় তিনি বাধা দেন। একপর্যায়ে পথ উন্মুক্ত রাখার বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে আলোচনা শেষে দুই লাখ টাকা গ্রহণে সম্মত হলেও এখনো পথ খুলে দেননি। বরং জোরপূর্বক পথটি দখলে রেখে ভয়ভীতি, হামলা ও মামলার হুমকি দিয়ে আসছেন।

অভিযোগকারী আবুল বাশার বলেন, ‘আমি পেছনের এক দোকান একটি বেকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হই। দোকান সংস্কারের কাজ শুরু করতে গেলে মনির উদ্দিন বাধা দেন এবং ইট-খোয়া ফেলে রাস্তা বন্ধ করে দেন। তিনি আমার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে বাধ্য হয়ে দুই লাখ টাকা দিতে রাজি হই। কিন্তু এরপরও তিনি পথ উন্মুক্ত করেননি। উল্টো আরও উগ্র আচরণ ও হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন।’

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম, সেলিম উদ্দিন, মহি উদ্দিনসহ অনেকে বলেন, প্রায় অর্ধশত বছর ধরে এলাকার মানুষ ও ব্যবসায়ীরা এই পথ ব্যবহার করে আসছেন। হঠাৎ পথ বন্ধ করে দেওয়ায় পেছনের দোকানমালিক ও সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পথটি পুনরায় উন্মুক্ত করার দাবি জানান তাঁরা।

অভিযোগের বিষয়ে মনির উদ্দিন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি কারও কাছে কোনো টাকা দাবি করিনি। বিরোধপূর্ণ জায়গাটি আমার বৈধভাবে ক্রয় করা সম্পত্তি। বিষয়টি নিয়ে আমি ভূমি অফিসে অভিযোগ করেছি। তহসিলদারের মাধ্যমে জমি পরিমাপ করে প্রকৃত সীমানা নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে। প্রশাসনের তদন্তে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।’

ইউএনও ইকবাল বলেন, মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তহসিলদারকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত