Ajker Patrika

মন্ত্রী আসার খবরে যেভাবে দুই ঘণ্টায় বদলে গেল কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের চিত্র

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
আপডেট : ১৮ জুন ২০২৬, ১৬: ৫৬
মন্ত্রী আসার খবরে যেভাবে দুই ঘণ্টায় বদলে গেল কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের চিত্র
গতকাল সকালে হাসপাতালের রান্নাঘর ঘুরে দেখেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: আজকের পত্রিকা

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের আকস্মিক পরিদর্শনের খবরে মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে বদলে যায় কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের দীর্ঘদিনের চেনা চিত্র। দুর্গন্ধ, অপরিচ্ছন্নতা ও নোংরা পরিবেশে সমালোচিত হাসপাতালটি অল্প সময়ের মধ্যেই ঝকঝকে ও পরিচ্ছন্ন রূপ নেয়। তবে পরিদর্শনকালে রোগীদের ব্যবহৃত কিছু বাথরুমের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১০টার দিকে আকস্মিক সফরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাসপাতালের প্রধান ফটকে পৌঁছেই তিনি তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল মান্নানের কক্ষে যান এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি যাচাই করেন। পরে হাসপাতালের রান্নাঘর, বিভিন্ন ওয়ার্ড ও অন্যান্য বিভাগ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার খোঁজখবর নেন।

হাসপাতালে উপস্থিত একাধিক রোগীর স্বজন জানান, মন্ত্রীর আগমনের খবর নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা আগেই হাসপাতালজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর শুরু হয় ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। দীর্ঘদিনের অপরিচ্ছন্ন টয়লেট, রান্নাঘর, করিডর ও বিভিন্ন ওয়ার্ড দ্রুত পরিষ্কার করা হয়। ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করে হাসপাতালকে পরিচ্ছন্ন ও গোছানো রূপ দেওয়া হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, পরিদর্শনের খবর পাওয়ার পরপরই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নেমে পড়েন। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পাশাপাশি নার্স, ওয়ার্ডবয় ও অন্য কর্মচারীদেরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নিতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিনের দুর্গন্ধযুক্ত টয়লেটগুলো এই দুই ঘণ্টার মধ্যেই পরিষ্কার করা হয়। রান্নাঘর, বারান্দা ও ওয়ার্ডগুলো ধুয়ে-মুছে পরিচ্ছন্ন করা হয় এবং বিভিন্ন স্থানের ময়লা দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী বলেন, ‘পরিদর্শনের খবর পাওয়ার পর দ্রুত কাজ করার নির্দেশ আসে। অল্প সময়ের মধ্যেই হাসপাতালের পরিবেশে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হয়।’

পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তবে রোগীদের ব্যবহৃত কিছু বাথরুমের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী বলেন, ‘মন্ত্রী আসবেন শুনেই হাসপাতাল এত সুন্দর হয়ে গেল। যদি প্রতিদিন এমন পরিচ্ছন্ন রাখা হতো, তাহলে রোগীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যেত।’

রোগীর স্বজন জাহিদ হোসেন বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যে যদি হাসপাতালের পরিবেশ বদলে ফেলা সম্ভব হয়, তাহলে নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করলে সরকারি হাসপাতালের সেবার মান আরও উন্নত হতে পারে।’

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুষ্টিয়ার সদস্য মিজানুর রহমান লাকী বলেন, ‘মন্ত্রী আসার খবর না এলে হাসপাতালের এই পরিচ্ছন্ন চিত্র দেখা যেত কি না, সেটিই প্রশ্ন। শুধু বিশেষ পরিদর্শনের সময় নয়, সারা বছরই হাসপাতালে সেবা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’

বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, পৌরসভার ময়লাবাহী গাড়ি হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান করছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থান থেকে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে গাড়িতে তুলছেন। ওয়ার্ড, করিডর ও বারান্দাগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন দেখা গেছে। রোগীদের ব্যবহৃত টয়লেটও পরিষ্কার করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান বলেন, ‘হাসপাতালকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে আমরা নিয়মিত কাজ করছি। সব কাজ একসঙ্গে করা সম্ভব নয়। কিছু উন্নয়নমূলক কাজ টেন্ডারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। সীমাবদ্ধতা থাকলেও রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত