Ajker Patrika

নীলফামারীর পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়, জরিমানা নামমাত্র

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি 
নীলফামারীর পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়, জরিমানা নামমাত্র
অতিরিক্ত হাসিল আদায় করায় ইজারাদারের জরিমানা করছেন ইউএনও। ছবি: আজকের পত্রিকা

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নীলফামারীর পশুর হাটগুলোতে ইজারাদারদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত হাসিল (টোল) আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সরকার নির্ধারিত হার উপেক্ষা করে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গণমাধ্যমে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন দুটি বড় পশুর হাটে অভিযান চালায়। অভিযানে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের সত্যতা পাওয়া গেলেও জরিমানার পরিমাণ খুবই কম, যা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার জলঢাকা উপজেলার মীরগঞ্জ হাটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের সত্যতা পান। এ ঘটনায় ইজারাদারকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এর আগে সোমবার নীলফামারী সদর উপজেলার রামগঞ্জ পশুর হাটে অভিযান চালান ইউএনও মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ। সেখানেও একই অভিযোগের প্রমাণ মিললে ইজারাদারকে মাত্র ২ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, কোরবানির মৌসুমে প্রতিটি হাটে গড়ে এক হাজারের বেশি পশু কেনাবেচা হয়। নির্ধারিত ৬০০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত হাসিল আদায় করা হচ্ছে। এতে প্রতিটি পশু থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৪০০ টাকা আদায় করে ইজারাদাররা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। অথচ এত বড় অপরাধে তাদের সাজা হচ্ছে মাত্র দুই থেকে তিন হাজার টাকা। এ অবস্থায় এ ধরনের অন্যায় কাজ থেকে তাদের বিরত হওয়ার সুযোগ কম।

ভুক্তভোগীরা জানান, প্রশাসনের অভিযান চলাকালে ইজারাদাররা কিছুটা সংযত থাকলেও পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যান। এই নামমাত্র জরিমানা অনিয়ম বন্ধে কার্যকর হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তারা।

অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে মীরগঞ্জ হাটের ইউএনও অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের সত্যতা পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও জরিমানার পরিমাণ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

এদিকে রামগঞ্জ হাটের ইউএনওর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পশুর হাটে অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত নজরদারি, কঠোর শাস্তি এবং প্রয়োজনে ইজারা বাতিলের মতো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এ ধরনের অনিয়ম চলতেই থাকবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত